somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

হুমায়ূন ফরীদি থাকবেন নিরবে।

৩০ শে আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হুমায়ূন ফরীদি একজন বড় মনের বড় মাপের মানুষ।একটি প্রতিভা।বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধারন করেছিলেন।লালন করেছিলেন।মধ্যবিত্ত,দরিদ্র কিংবা ধনকূবের চরিত্রে;নায়ক কিংবা প্রতিনায়ক প্রতিটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতেন।অসামান্য দক্ষতায়।তিনি অভিনয় খেয়ে হজম করে ফেলেছিলেন। তিনি নিজেই অভিনয় হয়ে গিয়েছিলেন।
অভিনয়ের মানদন্ড হয়ে গেলেন ফরীদি।এবং সেটা যে কোন অভিনয়।এই রকম বহুমূখী প্রতিভা বিরল।বলতে গেলে অপ্রাপ্য।তিনি ছিলেন সেরা কমেডিয়ান,ট্র্যাজেডি কিং,রুমান্টিক হিরো,মন্দ চরিত্রে অপ্রতিদন্দ্বী।পার্শ্বচরিত্র আর মূলচরিত্র বলে কিছু নেই তার কাছে।তিনি যা করেন তাই মূখ্য হয়ে যায়।ফরীদির উপস্থিতিতে সবকিছুই ফরীদিময়।তার অট্টহাসি।শরীরের লোম দাড়িয়ে যায়।তার কন্ঠস্বর ইউনিক।তার চেহারা ব্যতিক্রমী।ফরীদির পিঠটা অভিনয় করতো।হাত,পা,চোখ সব।তার উপস্থিতিতে অন্যরা ম্লান।ফরীদি ওয়ান পিছ।তিনি একজনই।
সকল অভিনেতার উন্নততর বিকল্প ফরীদি হতে পারেন।ফরীদির বিকল্প কে?এত বড় অভিনেতা। এত বড় মানুষ।কিন্তু বিনয়ী।একজন মুক্তিযোদ্ধা।আসলে স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের অভিনয় শিল্পটা এগিয়ে নেয়ার কান্ডারী কিছু বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী দেশপ্রেমিক।তাদের ছিল দেশের জন্য কিছু করার আকূতি আর প্রত্যয়।শেকড়ের টান। তাদের মধ্য থেকেই একজন হুমায়ূন ফরীদির সৃষ্টি ।
হুমায়ূন আহমেদ স্বনামধন্য লেখক।মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে করে কূতসিত দৃষ্টান্ত রাখলেন।আর ফরীদিকে তার স্ত্রী তালাক দিল।ফরীদি আর বিয়ে করেননি। তার সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে অসম্মানজনক কিছু বলেন নি।সঙ্গীহীন একাকিত্বের দংশনে জর্জরিত।অসুস্থ।বৃদ্ধ।এমতাবস্থা​য় বৃদ্ধার ভীমরতি। ফরীদিকে তালাক দিয়ে পুতুলবালককে বিয়ে করে মধুচন্দ্রিমায় ব্যস্ত।পুতুলবালক এক বন্ধ্যা নারিকে বিয়ে করেছেন।মিডিয়ার আলোচিত জুটি।একজন পাঙ্কু আর একজন কামুকি বৃদ্ধা। বৃদ্ধার মৃত্যু সংবাদ্ও অনেক রসালো হবে।ফরীদির অনেক বন্ধু। অনেক কাছের মানুষ।আফজাল,মামুনুর রশিদ,পিযুষ,আসাদ,নূর,শিমুল,মিমি​…………..। ফরীদির মৃত্যু হলো।সবাই কাদলেন।রাক্ষুসীটাও।তারপর সবাই কি ফরীদিকে ভুলে গেলেন?কার ও অনুপস্থিতিতে দোষ তার ঘারে পরা জগতের রীতি।ফরীদি নন্দঘোষ আর রাক্ষুসী নির্দোষ হলো নাকি? ফরীদিকে নিয়ে আর লেখালেখি হয়না।তার বন্ধুমহল এখন সুবর্ণাময়।সাথে সেই পাঙ্কু।তার বক্তব্য “আমি আর সুবর্ণা খালা রাতে একসঙ্গে থাকি”।সত্যি মিডিয়ার মানুষ মানুষ নন।তাদের ব্যক্তিগত ব্যপারে কথা বলা যাবে না।বা কি দারুন চারিত্রিক দৈন্যতা।নাকি দুই একজন তাদের পচিয়ে দিচ্ছে।তারা কি সমাজের উর্দ্ধে?সামাজিক,সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধ তাদের নেই? আফজাল মারা গেলে ফরীদি কি করতেন? আফজাল কি কখনো ভেবেছেন?
ফরীদি যত বড় মাপের অভিনেতা সেই অনুযায়ী সুযোগ পেলেন কোথায়?দেবদাস চরিত্রে তিনি কেমন অভিনয় করতেন?শ্রাবণ মেঘের দিনে গায়েন এর চরিত্রে?এরকম অনেক উদাহারণ দেয়া যেতে পারে।পার্শ্ববর্তীদেশ ভারতে তারকা তৈরী করা হয়।একজন অমিতাভ, একজন আমির খান হয়ে উঠেন।আমাদের দেশে তাদের দশগুণ প্রতিভা নিয়েও ফরীদি কি পেলেন?
হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে মাতামাতি চলছে।তিনি কি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ্য সাহিত্যিক?কখনই নন। হুমায়ূন ফরীদি জীবিত এবং মৃত সকল অভিনেতার মধ্যে্ শ্রেষ্ঠ্।এতে সন্দেহ নাই।কয়শত বছরে একজন হুমায়ূন ফরীদি জন্মায়?আসলে কি জন্মায়?একজন রবীন্দ্রনাথ কিংবা একজন নজরুল। জন্মায়? একজন হুমায়ূন ফরীদি ?তার অভিনয় আমাদের আনন্দ দিত।নির্মল আনন্দ।ছোট্ট একটি চরিত্রকে মূল আকর্ষন বানিয়ে ফেলার ক্ষমতা আর কার আছে?কিংবদন্তীর অভিনেতা।তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। সকালবেলা ঘুম ভাঙলেই ভাবি ফরীদি নাই।কষ্ট অনুভব করি।সুবর্ণাকে অভিশপ্ত মনে হয়।
হুমায়ূন ফরীদি থাকবেন নিরবে।আমাদের হৃদয়ে।বাংলাদেশ যতদিন থাকবে।বাংলাভাষা যতদিন থাকবে।মၒ নাটক যতদিন থাকবে । অভিনয় শিল্পটা যতদিন থাকবে।
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×