নিশ্চিৎ করেই বুঝা যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান অবস্থান ।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ইনফর্ম নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সমান তালে লড়াই
করে ক্লোজ মার্জিনে হেরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের ঘুম হারাম করে
তবেই হেরেছে। দলের নিয়মিত অধিনায়ক নেই । মাশরাফি না থাকা মানে
দলের সেরা বোলারটি নেই । নেই একজন মারুকুটে ব্যাটসম্যান । আজ
হারার সবচেয়ে বড় কারণ যেটি সেটি হলো দলের মুল প্রেরণা মাশরাফি
মাঠে অনুপস্থিত। খেলার পর্যালোচনায় কি হতে পারতো ব্যাপারটিতে
খুব সহজেই বাংলাদেশকে জিতিয়ে দেয়া যেত । শেষ মুহূর্তের দুটি সিক্স
না হলেই ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বেড়ে যেত । ২৮৮ রান ভাল সংগ্রহ |
এমতাবস্থায় ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে বেধে রেখে বোলিং করতে পারলে
ম্যাচ জেতা সময়ের ব্যাপার মাত্র হয়ে যায় । সেজন্য নিখুঁত লাইন ও
লেংথে বল করে যাওয়ার বিকল্প নেই । সেটি করা খুব কঠিন কিছু নয় ।
ভাল বলে মারতে গেলে আউট হওয়াটা স্বভাবিক । সেটি না করে
সাকিব আল হাসান স্পিন এটাক দিয়ে বল অপেনিং করলেন । কয়েকটি
উইকেটও তিনি ফেলেছেন । কিন্তু ম্যাচ জেতাতে পারেননি । সবচেয়ে
দ্রুত গতির বোলার রুবেলকে দিয়ে তিনি কেন অপেনিং করেননি সেটি
তিনিই বলতে পারবেন । নতুন বলে ফাস্টবোলাররা সুবিধা আদায় করে
নিতে পারেন ।পুরোনো বলে স্পিনাররা তা করে থাকেন । সাকিব যা
করলেন সেটি আজকের দিনে না করলেও পারতেন । খেলা শেষে দেখা
গেলো রুবেলের হাতে দু অভার বাকী আছে । আহামরি ধরণের স্পিনার
বাংলাদেশ টিমে নেই । সাকিবও রান দিয়েছেন বেশি । আর নিউজি --
ল্যান্ডের পিচগুলো ফাস্ট বোলিং সহায়ক । তারপরও দূর্দান্ত লড়াই করেছে
বাংলার টাইগাররা । সমানে সমানে লড়াই হয়েছে ।বিশ্বক্রিকেট বোদ্ধারা
বাংলাদেশ টিমের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছে ।
আর নাসিরকে বোতলে ভরে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন আমাদের বিসিবির
হনুরা । ম্যাচ উইনিং ব্যাটসম্যান নাসির এখন এমন পজিশনে ব্যাটিং
করেন যেখানে কোন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করেন না । জয়সুরিয়া
এক সময় লো্আর অর্ডারে ব্যাটিং করতেন স্টিভেন ওয়াহও ঠিক তেমন ।
সেখান থেকে তারা একটা সময়ে দলের সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেছিলেন।
জয়সুরিয়া হয়ে গেলেন ওপেনার আর স্টিভেন ওয়া ফোর ডাউনের সেরা
ব্যাটসম্যান । আর প্রতিভা পারফরমেনস থাকা সত্ত্বেও নাসির বিলুপ্তির
পথে ।এর জন্য দায়ী কে ?
এসব নতুন কোন ঘটনা নয় । বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হনুদের রয়েছে
ন্যাক্কারজনক ইতিহাস । মিনহাজুল আবেদীন নান্নু হতে পারেতেন
বাংলাদেশ টিমের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান । তাকে কোন টেস্টম্যাচ খেলতে
দেননি হনুরা । নান্নু ৯৯ এর বিশ্বকাপের পর আর ওয়ানডে খেলবেন না
বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন । আসলে তাকে যে পরিমান হেনস্তা করেছে
বিসিবি তাতে কারো পক্ষেই অতটা অবজ্ঞা সয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব
ছিলনা । এভাবে আল শাহরিয়ার রুকন, মেহরাব হুসেন অপি প্রতিভা
থাকা সত্ত্বেও ভ্যানিশ হয়েছেন ।
তামিম সহ অপেনিং ব্যাটসম্যানদের সীমাহীন ব্যর্থতা মনে করিয়ে দিবে
আশরাফুলের কথা । একসময় যার ব্যাট হাসলে বাংলাদেশ জিততো;
প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া হোক আর সাউথ আফ্রিকা । তাকে বেটিং
ক্যালেংকারিতে ফাঁসিয়ে এখন জুয়ার কো্র্টে জুয়া খেলে বেড়াচ্ছেন দলের
ম্যানেজার সাবেক গতি দানব!! খালেদ মাহমুদ সুজনরা।
দলে নতুন নতুন প্রতিভা আরো ছড়াচ্ছেন ।তার ম্যাচে জয় এনে দিচ্ছেন ।
আমরা বাহবা দিচ্ছি । আবার তারা হারিয়ে যাচ্ছেন । অস্ট্রেলিয়া ভারত
বা সাউথ আফ্রিকায় সেটি হচ্ছেনা ।তাদের সম্ভাবনার ফুল প্রস্ফুটিত হচ্ছে ।
আর আমাদের প্রতিভারা অজানা কারণে কালের ছলনায় হারিয়ে যাচ্ছেন ।
এমনটি হতে থাকলে সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করা কোনদিনও সম্ভব হবে না ।
মাহমুদুল্লা অসাধারণ ব্যাটিং করে টানা ২য় ম্যাচে শতরান উপহার দিলেন
। এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের রেকর্ড দূর্দান্ত । বিশ্বকাপে
বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা
যাবে সিংহভাগ রেকর্ড ২০১৫র বিশ্বকাপে করা ।
এখন মাহমুল্লাহ সৌম্য মুশফিক সাকিব সাব্বিররা দারুন খেলছেন
তারা কি এভাবে খেলতে পারবেন । নাকী তারা হারিয়ে যাবেন যেমন করে
নিস্প্রভ হয়ে যাচ্ছেন ম্যাচ উইনার নাসির ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম উত্তোরোত্তর সফলতা লাভ করুক এই কামনা
থাকলো ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




