না ঠকলে নাকি শেখা যায় না। জীবনে অনেক বার ঠকেছি। ঠকে ঠকে কিছু শিখেছি কিনা জানিনা। অনেক মানুষ আমাকে পুট করে ঠকিয়ে দিয়েছিল, সুযোগ বুঝে। আমার এক ফুপুর বাসা ধানমন্ডির ১২ নং রোডে। রবীন্দ্র সরোবর থেকে একটা ওভার ব্রিজ রকম পাড় হলেই ফুপুর বাসা। আমি তখন ঢাকায় নতুন। গাজীপুর থেকে ফুপুর বাসায় আসব। এক রিকশা নিয়েছিলাম, রিকশা নামিয়ে দিল ১২ নং রোডের মাথায়। বলল, সামনে একটু হেঁটে গেলেই হবে। আমি আগে একবার এসেছি ফুপুর বাসায়, সে স্মৃতি কাজে লাগিয়ে, ফুপুর বাসা খুঁজতে লাগলাম। তবে সব রাস্তাই এক লাগে, সব বাড়িই এক। রাস্তা গুলোও কেমন যেন। ১২ নং দিয়ে ঢুকলে কখন যেন ৮ নং, আবার দেখি ১০ নং। বাসা আর খুঁজে পাই না। হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম, রবীন্দ্র সরবোরে। জায়গাটা আমার পছন্দ হল। কিছুক্ষণ বসে থেকে, এক রিকশা ঠিক করলাম, ফুপুর বাসার রোড নাম্বার আর বাড়ি নাম্বার বলে। রিকশা চালক যাবে, ভাড়া দিতে হবে ১০০। আমি আঁতকে উঠি। গাজীপুর থেকে ধানমণ্ডি ভাড়া ৪৫ টাকা। আর এখান থেকে ১০০। তবুও চিনি না। ভাবলাম হয়ত, অনেক দূর চলে এসেছি। অনেক বলে কয়ে ১০০ টাকার ভাড়া, ৮০ টাকায় ঠিক হল। রিকশা চলছে। নানা অলিগলি ঘুরে অবশেষে আমার ফুপুর বাসার সামনে আসে। আমাকে মদন বানিয়ে দিয়ে ৮০ টাকা নিয়ে যায়। পরের দিন ঘুরতে বের হয়ে, ফুপুর বাসা থেকে একটু দূরে, একটা ওভার ব্রিজ পাড় হয়েই দেখি, রবীন্দ্র সরোবর চলে এসেছি। এসে আমি অবাক, ভাবলাম গতদিন রিকশায় আমাকে কই কই ঘুরিয়ে ৮০ টাকা ভাড়া নিয়ে নিল।
অন্য একদিনের কথা। বাসের ভিতর বসে আছি। গরমে অবস্থা খারাপ। ঘেমে ঘেমে আর পিপাসায় ক্লান্ত। হঠাৎ এক আইসক্রিম বিক্রেতা উঠল বাসে। সব রকম আইস ক্রিম তার কাছে। চকবার, কুলফি, মালাই সব। গরমে আইস ক্রিম দেখে খেতে ইচ্ছা করাতে, একটা চকবার কিনলাম। ফেরী করে বিক্রি করছে, তাই দাম একটু বেশী। ৪০ টাকা নিল, চকবার আইসক্রিম।। আমার কাছে আইসক্রিম বিক্রি করে, আইসক্রিমওয়ালা নেমে গেল। বাস ছেড়ে দিয়েছে তাই। প্যাকেট খুলে আইস ক্রিম খাওয়া শুরু করলাম। চকবার , মোটামুটি অনেক ভাল স্বাদের হয়। তবে এই চকবারের স্বাদ জঘন্য। কামড় দিলাম, দেখি ভিতরে বরফ আর উপরে চকলেট কালার রঙ। ৪০ টাকা দিয়ে, রঙ আর বরফ কিনলাম। ভাবতেই নিজেকে বড় বোকাসোকা লাগছিল। যাই হোক, করার তখন কিছু নেই। বরফ আর রঙ খেয়েই গরম কাটাচ্ছিলাম।
এবার একজনের কথা বলি। এই একজন বিশেষ কেউ। তো সেই একজনকে একটা উপহার দিব। কি দিব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তখন আজিমপুর থাকি। আজিমপুরের পাশেই নিউ মার্কেট। ভাবলাম সেখান থেকেই কিছু কিনি। গিফটের দোকানে দেখি, জিনিস পত্রের দাম অনেক। এতো টাকা আমার কাছে নেই। ঘুরতে ঘুরতে মেয়েদের জামা কাপড়ের দোকানের দিকে যাই। বাহিরে অনেক সুন্দর সুন্দর ওড়না সাজিয়ে রাখা। একটা গোলাপি রঙের ওড়না পছন্দ হয়। অনেক বেশী পছন্দ হয়। দাম জিজ্ঞেস করি, দোকানদার বলেন, একদাম ৫০০। দামাদামি হবে না কোন। পছন্দের জিনিস, দামাদামি করা যায় না। কিনে নিলাম। তাছাড়া দাম কেমন ওড়নার তাও জানিনা। কিনে নিয়ে ওড়না উপহার দিলাম, যার জন্য কিনেছিলাম তাকে। সে খুব খুশি হয়েছিল উপহার পেয়ে। তার কয়েকদিন পর, আমাকে জিজ্ঞেস করে, ওড়না কত দিয়ে কিনেছিলে?
- ৫০০ টাকা।
- গাধা তুমি? এই ওড়নার দাম ৫০০ টাকা? এগুলো তো ২৫০ টাকা করে। তুমি কিনবা আমাকে আগে বলবে না? তোমাকে গাধা পেয়ে দাম বেশী নিছে।
আমি কিছু বলি না। আবার একবার গাধা হয়ে চুপ করে থাকি। আর একবার ঠকে নিশ্চুপ থাকি। এমন অনেকবার বোকা হয়েছি, ঠকেছি। অনেকেরই হয়ত এমন হয়। নয়ত কারও না। তবে বোকা হবার পরের সময়টা আফসোস হয়। মনে হয় এতো বোকা কেন আমি? কিছু ভুল শুধরানো যায়। কিছু ভুল শুধরায় না, কিছু জিনিসে দ্বিতীয় বার সুযোগও আসে না। সেসবের আফসোস সারাজীবন থাকে। সেসবের কথা নাইবা বললাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




