somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের রন্ধন পদ্ধতি

২৯ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকে একটা মজাদার বাঙালি ডিশের রন্ধন পদ্ধতি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। এই ডিশটার নাম হোল অমলেট (Omellete)। নাম না শুনে থাকলে গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।

রান্নার উপকরণঃ
১। ২ টি ডিম
ডিম অনেক রকমের আছে। যেমন হাসের ডিম, মুরগীর ডিম, ডো ডো পাখির ডিম, কোয়েল পাখির ডিম, উটপাখির ডিম, কবুতরের ডিম, পেঙ্গুইনের ডিম, কুমিরের ডিম, কচ্ছপের ডিম, সাপের ডিম, এমু পাখির ডিম ইত্যাদি। আপনার হাতের কাছে যেটা পাবেন সেটাতেই চলবে। তবে খেয়াল করবেন যে কোয়েল বা কবুতর হলে ডিম লাগবে ৬ টা আর যদি উটপাখির ডিম হয় তবে একটাই যথেষ্ট। (অন্যগুলির ক্ষেত্রে ডিমের আকৃতি অনুযায়ী নিতে হবে।)
২। পেয়াজ – ১ টি
পেয়াজের উপরের আবরন ভালো ভাবে ছুড়ি বা বটি দিয়ে তুলে ফেলবেন। তারপর পেয়াজ কুঁচি কুঁচি করে কাটবেন। খেয়াল রাখবেন হাত যেন না কাটে। হাতের কাছে স্যাভলন, ব্যান্ডেজ, গজ, তুলা ইত্যাদি কাছে রাখা ভালো যেন হাত কাটলেও সাথে সাথে ব্যান্ডেজ করা যায়। পেয়াজ কুঁচি করার সময় চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন। এই জন্য ঘাবড়াবেন না। কারণ পেয়াজের ঝাঁজে চোখে পানি চলে আসাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। শোনা যায় যে নাকের বদলে যদি এই সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া যায় তাহলে আপনি অশ্রু নিবারন করতে পারবেন। তবে অভিজ্ঞ বাবুর্চি ছাড়া এই পদ্ধতি অনেকেই সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে না।
৩। টমেটো – ১ টি
লাল রঙের টমেটো হলে ভালো হয়। কাঁচা টমেটো না দেয়াই ভালো।
৪। সয়াবিন তেল – ২ চা চামচ
সয়াবিনের বদলে সরিষা, নারিকেল বা জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে পেট্রোল, মবিল, ডিজেল এগুলি তেল হলেও ব্যবহার করা যাবে না। কারণ অমলেট তাতে সুস্বাদু হবে না।
৫। কাঁচা মরিচ – ১ টি
পেয়াজের মত এটাকেও কায়দা করে কুঁচি করতে হবে। সতর্কতার কথা আগেই বলেছি। তারপর হাত আবার চোখে দিবেন না। তাহলে কিন্তু মরিচ চোখে ঢুকে যেতে পারে। তাই হাত ধুয়ে নেয়া ভালো।
৬। ধনিয়া পাতা – প্রয়োজন মত
ধনিয়া পাতা আগে ভালো করে ধুয়ে নিবেন। তবে পানি শুকিয়ে না নিলে রান্নার সময় তেল ছিটতে পারে।
৭। লবণ – প্রয়োজন মত

রন্ধন প্রনালিঃ
প্রথমেই আপনি যে চ্যালেঞ্জটার সম্মুখীন হবেন সেটা হোল সঠিক উপায়ে ডিম ভাঙ্গা। আমরা জানি ডিম একটা ভঙ্গুর জিনিস। এটা হাত থেকে পড়লেও ভেঙ্গে যায়। কিন্তু এই কাজটা যতটা সহজ ভাবছেন আসলে কিন্তু তত সহজ কাজ এটা না। অনেক বড় বড় বাবুর্চি সঠিকভাবে ডিম ভাঙতে পারে না। ফলে অমলেটের স্বাদ ভালো হয় না। ডিম ভাঙ্গার মধ্যে একটা শৈল্পিক ব্যাপার আছে। ডিম ধরলেন আর খুশি মত ভাঙলেন এমন ভাববেন না। সাধারনত দক্ষ বাবুর্চিরা দুইটা পদ্ধতিতে ডিম ভাঙ্গার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রথম পদ্ধতি হোল রুটি বেলার বেলন বা বা বড় চামচ দিয়ে জায়গা মত সঠিক মাত্রায় আঘাতের মাধ্যমে। তবে আঘাতের মাত্রা এবং স্থান সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হলে আসলে কোন দক্ষ বাবুর্চির সহকারি হিসাবে কয়েকমাস কাজ করা ভালো। বাবুর্চি না পেলে নিজের স্ত্রী বা গার্ল ফ্রেন্ডের সহকারি হিসাবে কাজ করলেও আপনি মোটামুটি দক্ষ হতে পারবেন। একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে ডিমের এক প্রান্ত চিকন থাকে আর আরেক প্রান্ত মোটা থাকে। কিন্তু আপনি কিন্তু কোন অবস্থাতেই এই দুই প্রান্তে আঘাত করবেন না। ডিম ভাঙতে হবে দুই প্রান্তের মাঝামাঝি বরাবর। আর আঘাতের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে মাঝারি মাত্রায় আঘাত করবেন। চেষ্টা করবেন যেন এক আঘাতেই কাজ হয়। কারণ একাধিক আঘাত করলে ডিমের খোসা ডিমের তরল অংশের সাথে মিশে যেতে পারে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী আপনি ডিমটাকে হাতে নিয়ে কোন শক্ত জায়গায় ডিমের মাঝ বরাবর আঘাত করবেন। বেশী জোরে আঘাত করলে ডিম আর ডিমের খোসা মিশে যেতে পারে এবং ডিম আপনার হাত থেকে পড়ে যেতে পারে। এই ডিম ভাঙ্গার পুরো ব্যাপারটাই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। ডিম ভেঙ্গে একটা পাত্রে ফেলবেন। এবার একটা কাঁটা চামচ বা ঘুটনি যন্ত্র ( এটাকে কি বলে আমার জানা নাই) নিয়ে ডিমকে ভালো করে মেশাতে হবে। এই কাজটাকে ডিম ফেটানো বলা হয়। এটা বেশী কঠিন কিছু না। ভালো করে ফেটাতে হবে। তারপর ডিমের মধ্যে তেল ছাড়া উপরের সব কিছু দিবেন এবং পুনরায় ফেটবেন।

এখন আপনাকে চুলা ও সসপেন তৈরি করে রাখতে হবে। সসপেনে তেল দিয়ে গরম করবেন। তেল দেয়ার আগে নিশ্চিত হবেন যেন সসপেনে পানি না থাকে। পানি থাকলে তা মুছে নিবেন বা চুলার তাপের সাহায্যে পানি শুন্য করে নিবেন। অন্যথায় তেল আর পানি মিশলে আপনার গায়ে তেল ছিটে আসতে পারে। তেল একটু গরম হলে আপনার ফেটানো ডিম সসপেনে ঢেলে দিবেন। এখন চুলার আঁচ একটু কমিয়ে দেবেন। তা না হলে ডিম এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়ে যেতে পারে। ডিমকে দ্রুত পুরো সসপেনের সকল অংশে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কারণ আপনি বেশী সময় হাতে পাবেন না। প্রয়োজনে সসপেন হাতের সাহায্যে উঁচু করে নিবেন। বেশীক্ষণ চুলায় রাখা যাবে না। কারণ ডিম অল্প সময়েই রান্না হয়ে যায়। এবার খুন্তি দিয়ে চেষ্টা করেন ডিমটাকে রোল করাতে। রোল করা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। এখন আপনার অমলেট তৈরি হয়ে গেছে। ডিমের সাথে আপনি পরোটা বা ভাত দিয়ে এবার মজা করে খান।

সংক্ষেপে এই হোল ডিমের অমলেটের রন্ধন প্রণালী। অমলেট বাঙালিদের একটি প্রিয় খাবার। বিশেষ করে যারা ভালো রান্না পারেন না বা মেসে বা হোস্টেলে থাকেন অথবা স্ত্রীর সাথে কোন কারণে ঝগড়া হয়েছে এবং স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেছে অথবা ঘরে থাকলেও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাদের জন্য অল্প সময়ে তৈরি করার মত এবং জান বাঁচানোর জন্য একটি আদর্শ খাবার। প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হলেও অল্প কিছু দিন পরেই দেখবেন যে আপনি দক্ষ হয়ে গেছেন এবং আপনার আরও অনেক রান্না শেখার আগ্রহ হবে।
( বি দ্র – যদি স্ত্রী বাসায় থাকে তাহলে তাকে রান্না ঘরের বাইরে রাখাই উত্তম। কারণ সে আপনাকে সাহায্যের নামে বিভিন্নভাবে ব্যাঙ্গ ও বিদ্রুপ করতে পারে অথবা হাসাহাসি করতে পারে। এতে আপনার আগ্রহ হারানোর সম্ভবনা আছে। তাই খুব সুন্দর করে বলবেন যে ডিমের অমলেটের জন্য তোমার সাহায্যের আমার প্রয়োজন নাই ডার্লিং। )

এই পোস্টটা মুলত ছেলেদের রান্না শেখানোর জন্য দেয়া। তবে কোন অকালকুষ্মাণ্ড নারী ব্লগার যদি ডিম ভাজাও না জানেন তারাও উপকৃত হতে পারবেন। আশা করি ব্লগাররা এই পোস্ট থেকে উপকৃত হবেন। কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন নির্দ্বিধায়।

সুত্র – আমার নানী (ওনার কাছ থেকে হাতেকলমে শেখা।)

ছবি- mygorgeousrecipes.com
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:০৯
২৩টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞান কোনো একক কর্তৃত্ব নয়: সমন্বিত প্রজ্ঞা

লিখেছেন রাড্ডা, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:২১



বিশ্ব আজ যেখানটায় দাঁড়িয়ে তা কোনো একক ব্যক্তি, একক প্রতিষ্ঠান বা একক চিন্তার ফসল নয়; বরং এটি বহুমাত্রিক জ্ঞান, সমন্বিত গবেষণা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দীর্ঘ যাত্রার ফল। ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×