somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শর্তসাপেক্ষে যখন যে কোন দিকে ফিরে নামাজ পড়া যায় এবং যখন নামাজে নড়াচড়া এবং হাঁটা যায়

০১ লা এপ্রিল, ২০২৩ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আল্লাহর আদেশ এবং রসূলের (সা) আদেশ পালন করা বাধ্যতামূলক। কখনও এটা বলা যাবে না যে আমি কেন এই আদেশ পালন করবো এই আদেশের অন্য বিকল্প আছে বা এই আদেশের কোন ফায়দা নাই। ইবলিশ শয়তান শুধু মাত্র আল্লাহর আদেশ অমান্য করার জন্য চির জাহান্নামী হবে। আল্লাহ যখন আদমকে সেজদা করতে বলেছিলেন তখন ইবলিশ অহংকার করে বলেছিল আদম মাটির তৈরি আর আমি আগুনের তৈরি। আমি সেজদা করবো না। ইবলিশ আরও অনেক যুক্তি দেখাতে পারতো। কিন্তু যত যুক্তিই দেখাক না কেন আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করার কারণে সে চির জাহান্নামী হবে। অথচ ইবলিশ অবাধ্য হওয়ার পরেও আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মানে এবং শিরক করে না। তাই আল্লাহর আদেশ নিয়ে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ নেই।

ইসলামের প্রতিটা বিধান আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূল (সা) যেভাবে বলেছেন সেভাবেই পালন করতে হবে। সফরকালীন (সফরের কিছু শর্ত সাপেক্ষে) সময়ে জোহর, আসর এবং এশার ফরজ নামাজ চার রাকাত পড়লে হবে না দুই রাকাত পড়তে হবে। তবে জামাতের ক্ষেত্রে যদি ইমাম সফরকারি না হন সেই ক্ষেত্রে চার রাকাত পড়তে হবে। কেউ হয়তো ভাবতে পারে আমি আল্লাহকে খুশি করার জন্য চার রাকাতই পড়ব। কিন্তু এটা করলে তার নামাজ হবে না এবং আল্লাহর হুকুম অমান্য করা হবে। এছাড়া যোহরে ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে দুই রাকাত, মাগরিবে ফরজের পরের দুই রাকাত এবং এশার ফরজের পরে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ সফরকালিন সময়ে পড়ার দরকার নাই। এটাই সুন্নাহ। তবে ফজরের ক্ষেত্রে ফরজের আগের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ সফরেও পড়তে হবে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে কোন দিকে ফিরে নামাজ পড়া যায়।
সূরা বাকারার ১১৫ নং আয়াতে আছে;
আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও, সে দিকেই আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

যে ক্ষেত্রে যে কোন দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা যায়;

১। যদি কিবলা কোন দিকে জানার কোন উপায় না থাকে এবং অনুমানের ভিত্তিতে কিবলা নির্ণয় করতে হয় বা ভুলে অন্য কোন দিককে কিবলা ভাবা হয়। এই ক্ষেত্রে যে কোন দিকই গ্রহণযোগ্য।
এই নিয়মের সমর্থনে বুখারির ৩০৪ এবং মুসলিমের ৫২৬ নং হাদিস রয়েছে। হাদিসটা অনেকটা এই রকম, যখন কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয় তখন অনেক সাহাবী ব্যাপারটা পরে জানতে পারে। ফলে কুবার মসজিদে ফজর নামাজ তারা আগের কিবলার দিকে পড়ছিলেন। নামাজের মাঝখানে এক সাহাবী আসেন এবং জামাতকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে কাবামুখী হওয়ার আদেশ নিয়ে কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে। তাই কাবার দিকে মুখ ফিরাও। তখন মুসুল্লিরা নামাজের মধ্যেই তাদের দিক পরিবর্তন করে নেয়। রসূল (সা) পরে ব্যাপারটা জানলেও তাদের কিবলা ভুল ছিল বলে নামাজ হয়নি এমন কথা বলেননি।

২। যানবাহনে চড়ে যাওয়ার সময়ে যে কোন নফল নামাজ এবং বিতর, তাহাজ্জুদ এবং দুহা বা এই জাতীয় নফল নামাজের ক্ষেত্রে যে কোন দিকে ফিরে নামাজ পড়া যায়।
সূরা বাকারার ১১৫ নং আয়াতে আছে ( আগেও উল্লেখ করেছি) ;
আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও, সে দিকেই আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে যানবাহনে থাকা অবস্থায় যে কোন দিকে ফিরে নামাজ পড়া যায় যদি এমন হয় যে যানবাহন পৌঁছানোর আগেই ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে এবং যানবাহন থেকে নামার কোন সুযোগ নাই এবং কিবলামুখী হওয়ারও সুযোগ নেই। অনেক স্কলার বলেছেন এই নামাজ পরে আবার পড়ে নিতে হবে। তবে অনেকে বলেছেন যে আবার না পড়লেও চলবে। সফরের সময় দুই ওয়াক্ত এক সাথে পড়ে নেয়ার সুবিধা আছে। যেমন জোহরের সময় এক সাথে জোহর এবং আসর পড়ে যাত্রা করা যেতে পারে যদি মনে হয় যে আসরের নামাজের সুযোগ পাওয়া যাবে না।

৩। রোগী যদি অসুস্থতার কারণে কিবলার দিকে ফিরতে না পারে সেই ক্ষেত্রে যে কোন দিকে ফিরে নামাজ পড়া যায়।

এই নিয়মের সমর্থনে আছে সূরা আল তাগাবুনের ১৬ নং আয়ত;

“অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং তোমাদের নিজদের কল্যাণে ব্যয় কর, আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম।“

এছাড়া সূরা বাকারার ২৮৬ নং আয়াতে আছে; ‘আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।‘

৪। যখন শত্রু, বন্য প্রাণী, বন্যার কারণে বা যে কোন ভয়ের কারণে মানুষ ভীত হয়ে পালাচ্ছে সেই ক্ষেত্রে দিক কোন সমস্যা না।

এই নিয়মের সমর্থনে রয়েছে সূরা বাকারার ২৩৯ নং আয়াত;

‘তবে তোমরা যদি আশংকা কর সেই অবস্থায় পদব্রজে বা যানবাহনের উপর সালাত সমাপন করে নিবে, পরে যখন নিরাপদ হও তখন তোমাদেরকে যেভাবে
শিখিয়ে দেয়া হয়েছে সেইভাবে আল্লাহর প্রশংসা কর যা তোমরা ইতোপূর্বে জানতে না।‘


নামাজের সময় নড়াচড়ার নিয়মঃ

১। যখন নড়াচড়ার অনুমতি আছে – কোন প্রয়োজনের কারণে যদি নড়াচড়া করতে হয়। যেমন –
(ক) মা নামাজ পড়ছে তখন বাচ্চাকে বিপদ বা ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য অল্প নড়াচড়া করতে পারেন।
(খ) এছাড়া শরীরের কাপড় ঠিক করা জরুরী হলে সেটা করা যাবে।
(গ) রসূল (সা) তার নাতনী উমামাকে কোলে নিয়ে জামাতে নামাজ পড়েছেন। সিজদায় যাওয়ার আগে উমামাকে নীচে রেখেছেন এবং সিজদা শেষ হলে তাকে পুনরায় কোলে নিয়েছেন। (বুখারি হাদিস – ৫৯৯৬ এবং মুসলিম হাদিস – ৫৪৩)
(ঘ) এছাড়া হাদিসে এসেছে যে রসূল (সা) নামাজে থাকা অবস্থায় হজরত আয়েশার (রা) জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন। ( আবু দাউদ হাদিস – ৯২২, তিরমিজি – ৬০১)
(উম) নামাজ পড়ার সময় সাপ বা বিচ্ছু কাছে আসলে হত্যার অনুমতি আছে।
(চ) নামাজির সিজদার জায়গা দিয়ে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হাত দিয়ে বাঁধা দেয়া যাবে।
(ছ) এক জায়গায় পড়েছিলাম যে মরুভুমিতে উটের দড়ি হাতে ধরে নামাজ পড়ার সময় উট হাঁটলে নামাজি ব্যক্তিও হাটতে পারে। তবে এখন সূত্র খুঁজে পাচ্ছি না।
(জ) হজরত আয়েশা নামাজ পড়ার সময় তার দাসীকে হাতের ইশারায় রান্নার আয়োজন সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন এই মর্মে বর্ণনা এসেছে। রসূলের (সা) সহধর্মিণী ছিলেন তিনি। উনি নিশ্চয়ই রসূলের (সা) কাছ থেকে এই নিয়ম শিখেছিলেন।

২। যখন নড়াচড়া বাধ্যতামূলক – যেমন
(ক) মাথার টুপিতে বা জুতাতে নামাজ পড়ার সময় যদি অপবিত্র কিছু অনুভুত হয়। একবার রসূল (সা) যখন নামাজ পড়ছিলেন তখন জিবরাইল ফেরেশতা এসে রসূলকে বলেন যে আপনার জুতায় নাপাক আছে। তখন রসূল (সা) নামাজরত অবস্থায় জুতা খেলে ফেলেন কিন্তু নামাজ চালিয়ে যান।
(খ) নামাজ পড়ার সময় কেউ যদি বলে যে আপনি ভুল দিকে ফিরে নামাজ পড়ছেন তখন ঘুরে কিবলা ঠিক করে নিতে হবে।

৩। যখন নড়াচড়া করা নিষেধ – অকারণে নামাজের মধ্যে বারবার নড়াচড়া করা নিষেধ।

৪। পছন্দনীয় নড়াচড়া – যেমন
(ক) নামাজ পড়ার সময় কাতার সোজা করার জন্য নড়াচড়া করা।
(খ) সামনের সারিতে ফাঁকা দেখা গেলে সেই সারিতে চলে যাওয়া।
(গ) নিজের কাতারের মধ্যে ফাঁকা জায়গা ঠিক করার জন্য নড়াচড়া করা পছন্দনীয়। হাদিসে এসেছে যে ইবনে আব্বাস (রা) রসূলের (সা) বাম পাশে দাড়িয়ে নামাজ পড়ছিলেন। রসূল (সা) তার মাথার পিছনে ধরে তাকে ডান পাশে নিয়ে আসেন।

উপরের ব্যতিক্রম সমুহ ছাড়া নামাজের নিয়ম হোল কিবলা মুখী হয়ে নামাজ পড়া এবং নামাজে পূর্ণ মনোযোগ রাখা। আল্লাহ আমাদের সালাত কায়েম করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
ছবি - আমাদের সময় ডট কম
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০২৩ বিকাল ৪:২৪
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×