somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্ল্যানচেট, ব্ল্যাক ম্যাজিক আর জীনদের দুষ্টামি

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হুমায়ূন আহমেদ এবং তার ভাই বোনেরা তরুণ বয়সে প্ল্যানচেটের মাধ্যমে মৃত আত্মার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ মুলক লেখাগুলিতে প্ল্যানচেটের কথা আছে। আমি হুমায়ূন আহমেদের গল্পের বই খুব কম পড়লেও তার স্মৃতিচারণ মুলক বেশ কিছু লেখা পড়েছি। যেমন এই আমি, আপনারে আমি খুজিয়া বেড়াই, অনন্ত অম্বরে, আমার আপন আধার, আমার ছেলেবেলা, বল পয়েন্ট, রঙ পেন্সিল, নিউ ইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ।

'আমার আপন আধার' বইয়ে হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনের একটা জীনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখেছেন। একবার কলেজের ছাত্রদের ভাইভা নেয়ার জন্য একটা মফস্বল শহরে এক শিক্ষকের বাসায় রাতে ছিলেন। ঐ শিক্ষকের স্ত্রী বাড়িতে ছিল না এবং সে নিজেও তাস খেলতে বাইরে চলে যায় রাতের বেলায়। বাড়িতে হুমায়ূন আহমেদ একা ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন;

‘রাত দু’টার সময় শুরু হল ভুতের উপদ্রব। কলঘরে পানি পড়বার শব্দ হচ্ছে। রান্না ঘরে হাড়ি-কুড়ি নড়ছে। ঝপাং করে বাড়ির টিনের ছাদে কি যেন লাফিয়ে পড়লো। সারা বাড়ি কেঁপে উঠল। নিজেকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম ছাদে ঝাপ দিয়ে যা পড়েছে – তা আর কিছুই না, বানর। কিছুক্ষন পর স্পষ্ট শুনলাম বারান্দায় চটি পায়ে কে যেন হাঁটছে। একবার এ মাথায় যাচ্ছে, আরেকবার ও মাথায়। ঘরের বাটি জ্বালিয়ে বিছানায় বসে রইলাম। প্রচণ্ড বাথরুম পেয়েছে, বাথরুমে যাবার সাহস নেই। সেখানে কল থেকে পানি পড়ছে, পানি পড়া বন্ধ হচ্ছে। আবারও পানি পড়ছে। ঘড়িতে রাত বাজে ৩ টা। এত ভয় জীবনে পাইনি।

শিক্ষক ভদ্রলোক রাত ৩ টার দিকে নির্দোষ আনন্দ শেষ করে ফিরলেন। আমি তাকে ঘটনা বললাম, তিনি নিতান্তই স্বাভাবিকভাবে বললেন, ও কিছু না, জীন।

আমি বললাম, জীন মানে?
এ বাড়িতে একটা জীন থাকে। দুষ্ট প্রকৃতির।


হুমায়ুদ আহমেদের ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ মুলক লেখাতেও জীনের কথা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একবার ডঃ জাফর ইকবাল প্ল্যানচেট করার সময়ে তার এক বন্ধুকে মিডিয়াম বানান। কিন্তু কিছু একটা উল্টা পাল্টা হয়ে যাওয়ার কারণে সেই বন্ধু জ্ঞান হারায়। পরে অন্য বন্ধুদের পরামর্শে কাছের একটা মসজিদের হুজুরকে ডেকে দোয়া দরুদ পড়ানোর পরে সেই বন্ধুর জ্ঞান ফেরে। অনেক আগে বইটা পড়েছিলাম তাই বর্ণনায় একটু এদিক ওদিক হতে পারে।

আসলে সারা পৃথিবীতেই বিভিন্ন জাতির মধ্যে প্ল্যানচেট, ব্ল্যাক ম্যাজিক বা জীনের খেলা আছে। জীন নামের একটা জীব আমাদের আসে পাশেই আছে। এরা যে কোন প্রাণী বা মানুষের আকৃতি ধারণ করতে পারে। এরা বিদ্যুতের গতিতে যে কোন জায়গায় যেতে পারে।

শয়তান জীনদের সাহায্য নিয়ে এই সব প্ল্যানচেট, ব্ল্যাক ম্যাজিক এবং অন্যান্য জাদুকরী কাজগুলি করা হয়ে থাকে।

বাটি চালান দিয়ে তাবিজ বা হারিয়ে যাওয়া জিনিস খোঁজার কথা অনেকে হয়তো শুনে থাকবেন। এই বাটি চালানেও শয়তান জীনদের সাহায্য নেয়া হয়ে থাকে। এই জীনেরা অনেক সময় সত্যি তথ্য দিতে পারে অনেক সময় মিথ্যে কথা বলে।


মেয়ে জীনদের বলে পরী। অনেক সময় মেয়ে জীনেরা (পরীরা) কোন ছেলেকে পছন্দ হলে তুলে তাদের দেশে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে ঘর সংসার করে। আমার পরিচিত গ্রামের একটা ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কয়েক মাস পরে একটা ঘরের চালের উপরে ধপাস করে ফেলে দিয়েছিল। আমার এক চাচির সাথে জীন ছিল। আমার দুলাভাইয়ের সাথে বহু বছর ধরে একটা ভালো জীন ছিল। মনে হয় এখনও আছে। সেই জীনের সাহায্যে সে অনেক অবিশ্বাস রকমের তাসের খেলা দেখাতে পারেন। অল্প সময়ে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা পার হয়েছে সে জীনের সাহায্যে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে যেটা অসম্ভব। তার কলিগ বা সহকর্মীরাও ব্যাপারটা পরীক্ষা করে সত্যতা পেয়েছে।


তবে জীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা ঠিক না। কারণে সাধারণত খারাপ জীনেরা যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে এরা ক্ষতি করতে পারে। তবে জীন ছাড়ানোর জন্য দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হুজুর দিয়ে দোয়া দরুদ করা যেতে পারে। ব্লগারদের অনুরোধ করবো তারা যেন জীন বন্দি করা বা বশ করার চেষ্টা না করে নিজে নিজে। এটা গুরুমুখী একটা বিদ্যা। ভালো কোন হুজুরের কাছে থেকে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া এই কাজে নামা বিপদজনক।

ছবি - নয়া শতাব্দী
সূত্র - ইউটিউব
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:৩৫
৪৭টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইমাম মাহদী (আ.) আসার আগ পর্যন্ত মুসলিম জাতি কি করবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১১:১০



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষার ত্রাতা গুরু মওলানা আকরম খাঁ সম্পর্কে ব্লগারদের ধারণা স্বচ্ছ নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:০৭






ছবিঃ ১৯৭১ সালের ১৪ই ও ১৬ই মার্চ, দৈনিক আজাদ সম্পাদকীয়।

কয়েক দিন আগে ব্লগার গেছো দাদা তার একটি পোস্টে ভাষা শিল্পী মওলানা আকরম খাঁ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার বন্ধু রতন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৩:৫২


আমাদের বাড়ি থেকে এক বাড়ি পরেই রতনদের বাড়ি। সে আমার ছোটোবেলার বন্ধু। একসাথে প্রাইমেরি স্কুলে পড়ালেখা করেছি। সে ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। বিকেলে খেলাধুলা করতাম যেমন, দু'জন ভিসিআর দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুক রিভিউ অথবা আমার চিন্তাব্যাখ্যার ব্যায়াম সিরিজঃ ১

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৮



বইয়ের নামঃ অহেতুক আলেবালে জলসেচনে ক্ষতি নাই
কবিঃ আদনান আলী
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
প্রকাশকঃ চন্দ্রবিন্দু


‘বুক রিভিউ’ নামক শব্দ যুগলের পেছনে ছায়ার মত যে শরীরী চিত্রকল্প জেগে উঠতে পারে সেটাকে বাংলা ভাষার শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:১৯



১৯৭৫ সালে ১১ জানুয়ারি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান বলেনঃ বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ সামরিক একাডেমীর অধ্যক্ষ ও আমার ক্যাডেট ভাইয়েরা, আপনারা সকলেই আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×