somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে চিঠি পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি........................

২১ শে জুন, ২০১২ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্দী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দুয়া করি আমার ভাই সেই মুহাম্মদ বিন কাশিমের জন্য। আমি সারা বিশ্বের জনসংখার এক পঞ্চমাংশ জনসংখার মুসলিমদের বোন।

এই মুহূর্তে আমি নিজে নিজে হাটতে পারি না।আমার একটি কিডনি বের করে ফেলা হয়েছে,আমার বুকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে এবং আমার বুকে গুলির আঘাত রয়েছে।

চিঠিটি আর পড়া যায় না। অশ্রুর বাধ থামিয়ে দেয় আমাকে.......................

পুরোটি দেয়া হলো---

হে আমার ঘুমন্ত/মৃত জাতি”। আমার নাম ড. আফিয়া সিদ্দিকি ,আমি Massachusetts Institute of Technology (USA) থেকে লেখাপড়া শেষ করেছি্ এবং আমার তিনটি বাচ্চা আছে।আমার উদ্দেশ্য ছিল আপনাদের সহায়তায় অর্জিত আমার উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আমার জাতিকে সাহায্য করা।
আমাকে অপহরন করা হয় আমার নিজের দেশ [পাকিস্তান] থেকে আমার দেশের তথাকথিত মুসলিম নামধারি মুরতাদ সেনাবাহিনীর দ্বারা এবং আমায় বিক্রি করে দেয়া হয় আমেরিকার কাছে।
এরপর তারা আমার উপর চালায় পাশবিক অত্যাচার। আমাকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করা হয়, আঘাত করা হয় এবং ধর্ষন করা হয়, একের পর এক।আমার কয়েদী নম্বর দেয়া হয়েছে ৬৫০। আমি এখন মুসলিম দেশ আফগানেস্তান এর কারাগার থেকে আমার বন্দী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দুয়া করি আমার ভাই সেই মুহাম্মদ বিন কাশিমের জন্য। আমি সারা বিশ্বের জনসংখার এক পঞ্চমাংশ জনসংখার মুসলিমদের বোন। ইসলামের শুরু থেকেই আমার জাতি ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত তাদের ভাইদেরকে হেফাযত করার জন্য এবং শত্রুর কবল থেকে তাদেরকে রক্ষা করার জন্য। হাযরত উমার[রা] বলেছিলেন যে,”যদি কোন কুকুর ফুরাত নদীর ধারে মরে থাকে,তাহলে শেষ বিচারের দিন উমর সেই কুকুরের মৃত্যুর জন্য আল্লাহ’র নিকট দায়ী থাকবে।।”
এই মুহূর্তে আমি নিজে নিজে হাটতে পারি না।আমার একটি কিডনি বের করে ফেলা হয়েছে,আমার বুকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে এবং আমার বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। আমার জন্য সব ধরনের মেডিক্যাল এবং বৈধ ও সাধারন সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাখান করা হয়েছে এবং এটা নিশ্চীত নয় যে আমি বেচে থাকব না মরে যাবো।।আমি তোমাদের জন্য বোন হওয়ার যে মর্যাদা তার রদ চাই।আমি একজন গর্বিত মুসলিম,হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর অনুসারি, হযরত আবু বক্কর[রা], উমার[রা] , উসমান [রা], আলি[রা], এবং তার সকল সাহাবী ও তার সকল সঠিক ও সত্যপন্তি অনুসারীদের কণ্যা। আমি তোমাদের বোন হতে চাই না।আমার নবী (সাঃ)এবং হযরত আবু বক্কর[রা], উমার[রা] , উসমান [রা], আলি[রা], এবং তার সকল সাহাবী ও তার সকল সঠিক ও সত্যপন্তি অনুসারীরাই আমার উদ্ধারকারী এবং আমি আল্লাহর করুণা ও সাহায্য চাই তোমাদের কাছে নয়।
আমি কোনো পাকিস্তানি হতে চাই না যাদের রয়েছে ৬ লক্ষ সৈন্যবাহিনী, বিশেষ ফোর্স এস,এস,জি কিন্তু তারা আমাকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হয়েছে। তারা আমাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু যখন আমি সাহায্যের জন্য তাদের দিকে তাকিয়ে থাকলাম তখন তারা আমাকে প্রত্যাখান করল।
আমার সেই মুসলিম উম্মাহ বলে ডাকা লোকদের রয়েছে লক্ষ লক্ষ সৈন্যবাহিনী সব ধরনের টাঙ্ক, বন্দুক,জঙ্গি বিমান,সাবমেরিন কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত আমাকে উদ্ধার করতে এবং বাচাতে পারেনি। কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাব দেয়ার ব্যাপারে তোমাদের চিন্তার কিছু নেই কারন তোমাদেরকে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নও করা হবে না এবং তোমাদেরকে কোনো উত্তরও দেয়া লাগবে না এজন্য যে তোমরা কেউ মুসলিম হিসাবে আমার ভাই নও, এবং ইসলামধর্মের জন্য ও ইসলামের অন্তর্ভুক্তির জন্য আমার ভাই নও।তোমরা কেউ আরব, কেউ ইরানী, কেউ ফিলিস্তীনি কেউ আফ্রিকান, কেউ পাকিস্তানি, কেউ বাংলাদেশী, কেউ আফ্রিকান, কেউ মালোয়শিয়ান কেউ ইন্দোনেশিয়ান, কেউ দক্ষিন এশীয় হতে পারো, তবে তোমরা কেউ মুসলিম নও।আমার কথায় যদি তোমরা আঘাত পেয়ে থাক তাহলে আমি খুবই দুঃখিত কিন্তু তোমরা কেউ এটা চিন্তাও করতে পারবে না যে, আমি কী ধরনের, এবং কেমন আঘাতপ্রা্প্ত। [ড.আফিয়া সিদ্দিকি......]

তার পরিচয় দেখুন, কত বড় মাপের মুসলিম কন্যা ছিলেন তিনি। যার পরিমাপ আমরা করতে পারিনি।

ড. আফিয়া সিদ্দিকী
 তিনি পাকিস্থানী মহিলা, যিনি পি, এইচ-ডি ডিগ্রীর অধিকারিনী।
 যাঁর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের, ১৪৪টি অনারারী ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট রয়েছে।
 তিনি পৃথিবীর একমাত্র পি, এইচ-ডি ডিগ্রীধারী নিউরোলজিষ্ট।
 তিনি হাভার্ড ইউনিভার্সিটির সর্বোচ্চ সম্মানিত ডিগ্রীর অধিকারিনী।
 তিনি একজন হাফেজে কোরআন।
 তিনি একজন নামকরা আলেমে দ্বীন।

পাকিস্তানী পত্রিকা দ্যা নেশন এর খবর গুলো দেখুন..--..
Aafia Siddiqui contracts cancer in US jail (January 22, 2012)
Aafia Siddiqui's family says death threats received ( August 05, 2008)

আফিয়া সিদ্ধিকি গ্রাজুয়েশন করেছিলেন Massachusetts institute of Technology, Uk থেকে এবং PHD করেছিলেন Brandis unversity, US থেকে। ২০০৩ সালে FBI তাকে কিডন্যাপ করেছিল এবং তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো আফগানিস্থানের বাগ্রাম জেলে। জেলে তাকে রাখা হয়েছিলো পুরুষদের সাথে যেখানে ছিল না আলাদা কোন বাথরুমএর ব্যাবস্থা। আমেরিকান সৈন্যরা তাকে যত রকম উপায়ে সম্ভব নির্যাতন করেছিলে। দিনে তাকে কয়েক বার ধর্ষন করা হত। তাকে উলঙ্গ থাকতে বাধ্য করা হত। এবং তাকে বলা হত কুরআনে পাকের উপর দিয়া হেটে যাবার জন্য তার কাপড় ফিরে পাবার জন্য (নাউজুবিল্লাহ)। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারীতে তাকে একপেশে বিচারের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছিল ৮৬ বছর সস্রম কারাদন্ড যা ছিল মানবিকতার উপর চরম অন্যায়। এটা ছিল পুরোপুরি অন্যায় এবং একতরফা সিদ্ধান্ত।

৫ বছর পর তার তিন সন্তান্দের মধ্যে বড় ছেলে ১১ বছর বয়সী আহমাদ সিদ্ধিকীকে মুক্তি দেয় হয় ২০০৮ সালে যাকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল তার মায়ের সাথে ২০০৩ সালে। তার ছোট দুই সন্তানের কথা কেউ জানে না। অনেকে বলে থাকে যে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে। আফিয়া তখনও FBI এর কাস্টাডিতে। যখন তার বিচার চলছিল তখন তার স্ট্যাটমেন্ট জাজের উদ্দেশ্যে-
আপনি তাদের কে ক্ষমতা দিয়েছেন আমাকে রেপ করার, আমাকে উলঙ্গ করে সার্চ করার। আমি তো সেদিন ই মরে গিয়েছি যেদিন আমাকে প্রথম ধর্ষন করা হয়েছিলো এবং উলঙ্গ করে সার্চ করা হয়েছিলো। আমাকে ছেড়ে দিন আমাকে আমার দেশে যেতে দিন।

এই পাকিস্তানী বিজ্ঞানী যখন us prison cell এ ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তখন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং একই সময়ে তার বন্ধী জীবদ্দশায় যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে প্রেগনেন্ট করার অভি্যোগ রয়ছে।
তাকে গ্রফতার করার আগে FBI তার বিরুদ্ধে কিছু সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করছিলো। অন্য কোনো দিন তা বলবো ইনশাহ্ আল্লাহ। শুধু এইটুকু বলবো তার উপর যে নির্যাতন, অত্যাচার করা হয়েছিলো, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিলো সে হিসাবে খুব-ই নগন্য। খোদ পাকি সরকারেই FBI কে সহায়তা করাছিল তাকে কিডন্যাপ করতে। ডঃ আফিয়ার উপর নির্যাতন এবং মুসলিম বিশ্বের মুখ বন্ধ করে রাখা, মুসলিমদের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

((++সম্ভবত আফিয়া সিদ্দিকী আর আমাদের মাঝে নেই। এই উপমহাদেশের এক নক্ষত্র ছিলেন তিনি। সকালে মেইলে দেখে তারপর খুজে খুজে এই লেখা গুলো সংগ্রহ করা। কাজী নজরুল ইসলাম, শেখ মুজিবুর রহমান,ড আব্দুস সালাম, ড আফিয়া- এই ব্যক্তিগুলোকে আমরা আর ফিরে পাবো না। তবে তাদের মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি,ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন এই ভূল না করে। ++))
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×