somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মহাত্ম গান্ধী, দুষ্ট নোয়াখাইল্লার দল এবং ছাগল নিয়ে সাত কাহন।।

৩১ শে মে, ২০১৭ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছাগল!
নাম শুনে অনেকের গা ঘিন ঘিন বা ছম ছম কিংবা নাক সিঁটকাতে পারে।অথচ ছাগল একটি গৃহপালিত পোষা প্রাণী। গ্রামে যারা বড় হয়েছে তারা ছাগলের বাচ্ছাকে কোলে নিয়ে আদর করেনি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। ছাগল একটি উপকারী নিরীহ জন্তু। ছাগলের বিবর্তন সম্পর্কে ভালো করে জানা যায় না। তবে বর্তমান ছাগলের গঠনা শৈলী অনুযায়ী ছাগলের সম্পূর্ণ শরীর পশম দ্বারা আবৃত থাকে। ছাগলের পশমের রং বিভিন্ন রকম থাকলেও কালো পশম ওয়ালা ছাগলের আধিক্য বেশী। এই কালো ছাগলের আধিক্যের কারণে অন্য বর্ণের ছাগলেরা কালো বিড়ালের সাথে ষড়যন্ত্র করে বাংলা অভিধানে নতুন আরেকটি শব্দ যোগ করেছে “কালো বিড়াল” । বাঙালিদের গরুতে যখন অরুচি আসে তখন ছাগল কে বিকল্প ভাবে। ছাগলের দুধের রং সাদা। যা খেলে মানুষের মনও সাদা হয়ে যায়। গরীবের ছাওয়ালরা যখন তী্ব্র জ্বরে আক্রান্ত হয় তখন আরোগ্য লাভের আশায় ছাগলের দুধ পান করতে দেয়া হয়।

প্রবাদ বাক্যে ঘোড়ার ডিম থাকলেও ছাগলের ডিম নাই। তবে ছাগলে ডিমের মত আকৃতির কালো ল্যাদা পাড়ে। ব্লগে মাঝে মাঝে একে অপর কে কাঁদা ছোড়া ছুড়ির বিকল্প হিসেবে ল্যাদা ছোড়াছুড়ি হয়। অনেকে ছাগুর বাচ্ছা বলার পরিবর্তে শুধু “ছাগু” বলে ডাকে।

বিজ্ঞান বইতে পাগলের সাথে ছাগলের সম্পর্ক প্রমাণিত না হলেও বাংলা সাহিত্যে কোথাও কোথাও পাগল আর ছাগলকে এক বাক্যে প্রকাশ করতে দেখা যায়।

মানুষ সাধারণত খারাপভাবে গালি দেয়ার জন্য “ছাগল”, “ছাগলের বাচ্চা”, “তুই একটা ছাগল”, “তুই একটা ”রামছাগল” বলে থাকে। বিশেষ করে বন্ধু মহলে ছাগল বলে গালি দেওয়াটা কমন ব্যপার। গালিশিল্পে বিশেষ অবদান রয়েছে ছাগলের।

তবে, “রামছাগল” গালি আবিস্কারের কারণে হিন্দুরা ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে।

বাঘ-সিংহ কে মানুষ ভয় পায়। হিংস্রতা বোঝাতে এই প্রাণীকে বোঝানো হয়। তবুও মানুষ অতিরিক্ত তোষামোদ করার জন্য বাঘের বাচ্চা, সিংহশাবক বলে পিঠ চাপড়ানো হয়। অথচ সুলভ, গৃহ পালিত উপকারী প্রাণী ‘ছাগল উপাধি’ নিতে কেউ রাজি নয়। কাউকে ‘ছাগলের বাচ্চা’ বললে রাগের পারদ একশো অতিক্রম করে। তাহলে কি বুঝব ছাগলের একটাই অপরাধ, সে বাঘের মতো হিংস্র আক্রমণ করতে পারে না। মহিষের মতো গুতাতে পারে না। সিংহের মত ঘাড় মটকাতে পারে না!

আমাদের দেশে চাটুক্যবাজ কিংবা চালবাজ অথবা সু-চীলরা একে অপর কে ‘ছাগু’ বলে গালি দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।

মহাত্মগান্ধী, ছাগল ও নোয়াখাইল্লাদের ঐতিহাসিক ঘটনাঃ

মহাত্মা গান্ধীর ছাগল নোয়াখালীর মানুষরা একবার চুরি করে খেয়েছে।
সেটা ১৯৪৬ সালের ঘটনা, নোয়াখালীতে দাঙ্গার গুজব রটানো হয়। এই গুজবের জেড়ে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর কোজাগরি লক্ষ্মী পূজার দিন এই দাঙ্গা সংগঠিত হয়। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে এই দাঙ্গা অব্যাহত ছিল। এতে অনেক মানুষ নিহত হয়। দাঙ্গার খবর মহাত্ম গান্ধীজীর নিকট পৌছায়। খবর পেয়ে তিনি ৭ নভেম্বর নোয়াখালীর চৌমুহানীতে আসেন। আসার সময় তিনি একটি ছাগল ভারত থেকে নোয়াখালীতে নিয়ে এসেছিলেন। গান্ধীজীর ছাগলের উপর চোখ পড়ল নোয়া খাইল্ল্যা দুষ্টা পোলাপাইনের। তারা সেটি চুরি করে জবাই দিয়ে ভুরিভোজ সারেন।
গান্ধীজী নোয়াখালিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়ে মিশন অর্ধ সমাপ্ত রেখেই বাংলার মুসলিম লীগ নেতাদের অনুরোধে ১৯৪৭ সালের ২ মার্চ বিহারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে চলে যান। কিন্তু নোয়াখাইল্লাদের নিকট হারাতে হয় অতি প্রিয় ছাগল কে।
গান্ধীজী সেদিন বুঝেছিল আসলে নোয়াখাইল্লারা কি জিনিষ!

তবে যা হউক, ছাগল কিন্তু বোকা প্রাণী নয়।
গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, পোষা কুকুরের মতোই ছাগল মানুষের সঙ্গী হওয়ার যোগ্যতা রাখে। অন্য পোষা প্রাণীর মতো ছাগল মানুষের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের যোগ্যতা রাখে। এমনকি কুকুরের মতোই ছাগল মানুষের সঙ্গে হৃদ্যতা গড়তে সক্ষম এবং এই প্রাণীটি কুকুরের মতোই বুদ্ধিমান।

ছাগলের সবচেয়ে বড় অর্জন এটি পাকিস্তানের জাতীয় পশু।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৮
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×