somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজেকে মেলতে থাক ধীরে ধীরে, শব্দে শব্দে

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফটোগ্রাফার রথী তালুকদার। সখে ছবি তুলতে তুলতে পেশা হিসেবে নিয়ে নিসে।ছোটবেলায় কবে প্রথম সখটা জাগসে সেটা মনে নাই। স্কুলে থাকতে নিরিবিলি দুপুরবেলা যখন চুপচাপ বসে থাকত তখন কিসু দেখলে মনে হত এইটার একটা ছবি তুলে রাখতে পারলে ভাল হতো। আকাশ, পাখি,ফড়িং,ফেরিওয়ালা,কড়ই গাছ। তখনও নিজের ক্যামেরা হয় নাই। মাঝে মাঝে ছবি তোলা হয় পরিবার থেকে আর সেই ক্যামেরা নিয়ে নাড়াচাড়া, এই। এভাবে নাড়াচাড়া করতে করতে,ভাবতে ভাবতে অন্যরকম ফ্রেম, ভিন্ন সাবজেক্ট খেলত মাথার ভেতর। এসএসসি'র পর একটা ক্যামেরা ম্যানেজ হয়ে যায় বা করে ফেলে। তারপর শুরু হয় দুরন্ত আর ধুরন্ধর জীবন। খেয়ালী আর ছুটন্ত জগৎটাকে বেঁধে ফেলা ফ্রেমে।
ভালই কাটতেসিল কিন্তু স্বপ্ন অন্য। বড় ফটোগ্রাফার হবে, দেশে-বিদেশে যাবে। ভাল আর ভাল থাকে নাই ঘটে গেসে জীবনের সবচেয়ে করুণ ট্রাজেডী'র ঘটনাটা। হঠাৎ করেই বেড়ে গেসে বয়স।

সময়টা পচাত্তর সালের শেষের দিকে। রথীর বাবা যখন অনেকদিনের পরও ঢাকা থেকে ফিরলেন না তখন রথী প্রথম বুঝতে পারল সে একজন ভালো বন্ধু হারিয়েছে। এমন না যে, তার বাবার সাথে তার সম্পর্কটা খুব ভালো ছিল। বরং বাবার হতে মার খেয়েছে সবচে বেশী। মা সেসময় তাকে বাচাতে আসত, সে হিসেবে মাকেই তার সবচে ভালো লাগার কথা। কিন্তু কেন কে জানে, মা নয় বরং বাবাই তার আদর্শ হয়ে যায়। রাগী কিন্তু প্রচন্ড মিশুক এবং সদালাপী বাবাই তাকে প্রথম ক্যামেরা চালাতে শিখিয়েছিলেন বলে হয়তো বাবাকে এত ভালো লাগে। একে বন্ধুতা বলা যাবে কিনা তা নিয়ে হয়তো সন্দেহ জাগতে পারে, কেউ কেউ হয়তো একে অবচেতন কৃতগ্গতাও বলবে, কিন্তু রথী জানে,এটা বন্ধুতাই, কৃতগ্গতা নয়।

রথীর মা কম চেষ্টা করেন নি বাবাকে খুজে বের করতে। মাসে দুবার করে ঢাকা গিয়েছেন, বাবার খোজ খবর করেছেন। সে সময়টা খুব কষ্টের। মাকে গিয়ে উঠতে হতো বাবারই এক বন্ধুর বাসায়। তিনি আবার বিপত্নিক, অবশ্য দুটো বাচ্চার জনক। মাকে খুব সাহায্য করেছেন ভদ্রলোক, কিন্তু সমস্যাটা সামাজিক। একাকী মাকে গিয়ে উঠতে হত বিপত্নিক ভদ্রলোকের বাসায়, এ নিয়ে কানাঘুষা চলত। এ সকল ঘটনা রথী জানতে পেরেছে অনেক পরে, গোপনে।

এই গোপনে জানতে গিয়েই রথী প্রথম জানতে পারল তার বাবা মারা যাননি, হয়তো এখনো জীবিত। কিন্তু মা খুব সযত্নে এই সত্যিটা গোপন করে রেখেছিল তাদের সবার কাছ থেকে। এই জন্য মাকে খুব একটা দোষ দেয়া যায়না। নিজেকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সামাজিক বিধি নিষেধ থেকে বাচিয়ে চলার জন্য এ ছাড়া অন্য কোন পথ তার সামনে খোলা ছিল না। সাদা শাড়ি পরে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেয়ার ত্যাগটি তিনি করেছেন অবলীলাক্রমে।

*যেখানে শেষ হয় ঐখান থেকে আরেকজন লিখবে। এভাবে চলতে থাকবে।
শর্ত -১।আমি পোস্টে যেখানে গল্পটা শেষ করব সেখান থেকে আরেকজন শুরু করবে। এইভাবে চলতে থাকবে।
২। অনেকজনের মধ্যে থেকে লাগসই এবং উত্তমটা গল্পের পর্বর্তী অংশ হিসেবে সংযোজিত হবে। নিয়মিত গল্প আপডেট হবে।
৩।একই পোস্টের পর একাধিকজন লিখতে পারে কিন্তু নির্বাচিত হিসেবে সংযোজন হবে একজনেরটা বা দুই/একজনেরটা মিলিয়ে।
৪।একজন একাধিকবার উপস্থিত হতে পারে। ভিন্ ভিন্ন সময়ে।
৫।গল্পের ব্যাপারে কোন বিধিনিষেধ নাই। যার যা ইচ্ছা লিখবে। শুধু বিশ্বাসযোগ্য হয় যেন এইভাবে লিখেন। নিজের অভিজ্ঞতা ঢোকান। নতুন চরিত্র সৃষ্টির সময় নিজের মত নাম দেন।



সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৬
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

আহ সময়,
তুমি শেখাও,আমি শিখি না।
তুমি পড়াও,আমি পড়ি না,
তুমি দেখাও, আমি দেখি না।
বলেছিলে- একদিন বুঝবো,
সবকিছু হারিয়ে খুঁজবো!


তুমি ভুল!

চেয়ে দেখো-
আমি আজো বুঝি না,
আজো হা-হুতাশ নিয়ে কিছু খুঁজি না!

বি:দ্র: অনেকদিন পর!কেউ আছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×