somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরবদের শাস্তি আসছে অবধারিত ভাবে। ইসরাইল-আমেরিকার দশকের পর দশক জুড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আপনারা খেয়াল করেছেন, বড় বড় স্কলারগুলিও একপাক্ষিক ইজ-রায়েলকে সমর্থন করতে দেখা যায়। হতাশা লাগেনা? আমার লাগে। এটা ইচ্ছাকৃত ন্যারেটিভ। এটা পশ্চিন যা বলবে তা মানতে হবে সেই ন্যারেটিভ। কোনটা মানবিক আর কোনটা সন্ত্রাস এটা ঠিক করবে পশ্চিম। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এর বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহু এর নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করায় সকলেই এখন ধরা। আদালতের বিলুপ্তির এখন সময়ের অপেক্ষা।

আরবের প্রতিটি দেশের সরকার ইউএস ও ইজ-রায়েলের গোলামি করে। এর বিরুদ্ধাচারণ যারা করেছে তাদের পতন হয়েছে। সাদ্দামের পতন হয়েছে স্বৈরাচার বলা, আসাদের হয়েছে একই ভাবে। সিরিয়ায় গৃহ যুদ্ধ বাধিয়ে, উস্কে দিয়ে, ইজ-রায়েল সয়ং অস্ত্র সরবরাহ করে, এবং শিয়া সুন্নি ন্যারেটিভ প্রচার করে গণহত্যা চালিয়েছে।

ইরাক শেষ করেছিল ওয়েপন অব ম্যাস ডেসট্রাকশন আছে অযুহাতে। সিরিয়া শেষ করেছে একই ভাবে। ইরাকের অসিরাক নিউক্লিয়ার রিসার্স রিয়েক্টর নির্মাণ শুরু করার পর থেকে ইজ-রায়েল অভিযোগ করতে থাকে ইরাক পরমাণু বোমা বানাচ্ছে। ইজ-রায়েলে চাইছিল ইরাকে রেজিম চেঞ্জ ও সাদ্দাম রেজিমের পতন। ইরাকে প্রচুর বিরোধীদের ফুসলিয়ে, মোসাদ সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করায়। এদের ধ্বংসাত্মক কাজে বল প্রয়োগ করার পর দোষ হয় সাদ্দাম লক্ষ লক্ষ মানুষ মারছে। এগুলা প্লট প্রস্তুতি পর্ব। দীর্ঘ বছর ফুসলানোর পর ইউএস কে রাজি করিয়ে ইরাকে হামলা করায়। হামলার জাস্টিফিকেশান দেয় WMD আছে। এর আগে ইরাকের অসিরাক নিউক্লিয়ার রিসার্স রিয়েক্টরে ইজ-রায়েল হামলা করে গুড়িয়ে দেয়।

ইউএস গণহত্যা চালায় ইরাকে। লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করে। নারীদের রেপ করে। এরপর দেশের অর্থনীতি চালানোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় আমেরিকান ট্রেজারি। ইরাকের আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকলনা কার্যত। বসানো হয় পাপেট সরকার।
একই স্টেপ ফলো হয় সিরিয়ায়। হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর লন্ডনে পড়া চিকিৎসক বাসার আল আসাদকে রানীর প্যালেসে দাওয়াত করে ব্রিটেনের টনি ব্লেয়ার। দারুন সম্পর্ক। সম্পর্ক্টা টিকত যদি ইজ-রায়েলের সন্দেহ না বাড়ত। ইজ-রায়েল অভিযোগ করে সিরিয়া WMD তৈরি করছে। প্রধান টার্গেট আল কিবারে তৈরি একটা ফ্যাসিলিটি। অভিযোগ তোলা হয় সেখানে নিউক্লিয়ার বোমা তৈরি করছে সিরিয়া।
২০০৭ সালে ইজ-রায়েল ও আমেরিকা আল কিবার ফ্যাসিলিটিতে আক্রমন করে ধ্বংস করে। পরে বলে এই ফ্যাসিলিটিতে প্লুটোনিয়াম এনরিচ করছিল আসাদ সরকার। ইজ-রায়েলের নজর বড়ই খারাপ। শুরু করে রেজিম চেঞ্জ অপারেশন, যা ব্যর্থ হতে থাকে। হুট করে উদয় হয় আইসিস। কমলা কালারের পোশাক পরে মানুষ জবেহ করার ভিডিও প্রকাশ, নির্বোধের মত হাসি আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার হাস্যকর আহবান। জীবনে এই আইসিস একবারো ইজ-রায়েল বা ফিলিস্তিনের পক্ষে কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। ইজ-রায়েল নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে কিনা জানা নেই। অদ্ভুত একটা গোষ্ঠী যারা সারা বিশ্বের কাছে মুসলিমদের ইমেজ ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সারাবিশ্বে মুসলিম মানে পরিনত হয় নির্বোধ জঙ্গির ইমেজ। এটা ইজ-রায়েল নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াও ফলাও করে প্রতিষ্ঠা করে। বিশ্বের প্রতিটা দেশে সেই সময় মুসলিমরা কিভাবে হেনস্তা হয়েছে সেটা গোল্ফ ফিস মেমরি না থাকলে ভুলার কথা নয়।

পুরো সিরিয়ায় উগ্রবাদ ছড়িয়ে গৃহ যুদ্ধ ও রেজিম চেঞ্জ অপারেশনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা হয়। ইজ-রায়েল এটাকে শিয়া সুন্নি দ্বন্দে কনভার্ট করে ফেলে। কেমিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার ইজ-রায়েলের ফলস ফ্লাগ হলেও অবাক হবার কিছু নেই।
এরপর আসে ইরান। একই তরিকা। ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে। ইরানে রেজিম চেঞ্জ করতে হবে। শুরু হয় ইরানের বিরুদ্ধে মিডিয়া যুদ্ধ। লেটেস্ট এক্সাম্পল হল, ইরানের মোসাদ কোলাবরেটর রা প্রিন্স পাহলাভী (যে কিনা ইহুদি দেয়ালে কিস করে) প্রতিষ্ঠার জন্য একই পন্থায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঠে নামায়। ট্রাম্প নিয়ে ঘোষনা দেয় মাঠে নামার জন্য এবং বলে এমন সুযোগ তোমরা জীবনে দ্বিতীয়বার পাইবা না।

পাশাপাশি কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহ করে যেটা নিয়ে ট্রাম্প নিজেই বলছে কুর্দিরা কেন এক্টিভ হচ্ছে না অস্ত্র পাবার পরেও।
বিষয়গুলি লুকায়িত নয়। প্রকাশ্য। কিন্তু ইজ-রায়েলের ন্যারেটিভ প্রচারে প্রতিটি দেশে এজেন্ট আছে। এরা সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানায়। যাকে খুশী ভিলেন বানায়। নির্ভর করে তার দাসত্বের মেনে নেয়ার উপর।

ইরান এই ধারা থেকে বের হতেই, হয়ত প্রক্সি পলিসি নিয়েছে। যেহেতু পশ্চিমের পা চাটা সব সরকার, পা না চাটলে তার পতন, এক্ষেত্রে যেহেতু প্রতিটি সরকার ইউএস সেনাদের ঘাটি দিয়ে পালতেছে, ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ক্রমশ পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়তে প্রক্সি ফোর্স তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা। এক্ষেত্রে সরকার যতই পশ্চিমের পা চাটুক, সেখানে পশ্চিমা প্রভাব রুখার মত রেসিস্টেন্স ফোর্স কার্যত স্টাবাইলার ইফেক্ট এর মত কাজ করবে।

এখন আমেরিকার সবথেকে বড় ভয় এই রেসিস্টেন্স ফোর্স। ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন। সবখানেই। এই স্ট্রাটেজি না হলে ইরান এখন আরেকটি ইরাক হত। সেন্ট্রাল ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে ইউএস ট্রেজারির হাতে চলে যেত। অথবা এপেস্টেইব ক্লাবে যোগ দিয়ে ইজ-রায়েলের পা চাটা লাগত।

Wasi Mahin
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×