এই সম্মাননা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তুলতে সাহায্য করবে বলে আনিসুজ্জামানের আশা। কিন্তু তবুও ৭৭ বছরের এই প্রবীণ চিন্তাবিদ ‘কালচারাল প্লুরালিজম’-এর লেখক চিন্তিত। তাঁর চিন্তা, তাঁর দেশে বহুত্ববাদের বিকাশের প্রয়োগের দিকটা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ‘বাংলা ছাড়া অন্য ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তাকে বাঙালি সম্মান দিতে পারছে না।’ তিনি বললেন, ‘একদিকে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ, অন্যদিকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। আমরা বুঝতে পারছি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও প্রোথিত করতে গেলে বহুত্ববাদকে মানতে হবে। কিন্তু হচ্ছে না। কারণ, অপর সম্পর্কে সহানুভূতি সম্পূর্ণ হতে পারছে না। মানুষের বিপদে মানুষ পাশে দাঁড়াচ্ছে না। রাষ্ট্রের সহায়তা পাচ্ছে না। বহুত্ববাদের প্রসার তাই একটু জটিল হয়ে পড়ছে।’
আনিসুজ্জামান এখানেই ভারতের দিকে তাকাতে পছন্দ করেন। কারণ, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এটাই ভারতের সৌভাগ্য ও বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য বলে তাঁর ধারণা। তবে দেশের প্রচারমাধ্যমগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। বহুত্ববাদ, গণতন্ত্রের প্রসারে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের উপান্তে এসে এখন তাঁর ইচ্ছা হয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করছে, আমলাতন্ত্র তার প্রশাসনিক ধর্ম থেকে বিচ্যুত হচ্ছে না এবং জাতীয় সংসদ তার ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করছে—এগুলো যেন তিনি দেখে যেতে পারেন। আর একটা ইচ্ছাও তাঁর রয়েছে। তিনি চান, ভারতে শাসকের চরিত্র যদি বদলেও যায়, তা হলেও দুই দেশের সমঝোতার জায়গাগুলো অন্তত যেন অপরিবর্তিত থাকে। সম্পর্কের অবনতি যেন না ঘটে। কোনো দেশই যেন বাস্তবতাকে অস্বীকার করে পিছনে না হাঁটে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




