
মানুষটি ওয়াশরুমে যেতে চেয়েছিল । সবে নাস্তা খেয়েছে বোনের সাথে । বোন একজন ডাক্তার । তিনি বলছিলেন ভাই আমার গেল কয়দিন ভাল করে ঘুমাচ্ছিল না , অস্থির থাকত সবসময় । সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল ঢাকায় মানসিক ডাক্তারের সাহায্য নেবেন তাই গাজিপুর থেকে ঢাকায় এলেন । এখানে ভাল চিকিৎসা হয় শুনেছেন ডাক্তার বোন । ওই ওয়াশ রুমে যাওয়ার নাম করে তাকে দোতালায় নিয়ে গেল একজন ওয়ার্ড বয় । বোনের মুখের সামনে গেট আটকে দিল ওরা । আধা ঘণ্টা অস্থির হয়ে বোন অপেক্ষায় । এবার একজন এসে বোনকে উপরে সেই রুমে নিয়ে মৃত ভাইয়ের লাশের পাশে দাড় করিয়ে দিল । হতভম্ব বোন । হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে নিলে তারা ভাইকে মৃত ঘোষণা করে ।
একজন রোগী বারান্দায় বসে পুরো ঘটনাটি দেখেছেন । তারা ওই এ এস পিকে অবজারভেশন রুমে ঢুকাতে চাইলে তিনি সেখানে তর্ক শুরু করেন । এবার দুজন তাকে হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে রুমে ঢুকিয়ে ফেলে , সাথে যোগ দেয় আরও চারজন । পেছনে আরও চারজন । মোট দশজনের একটা বাহিনী একজন সুস্থ মানুষ ওয়াশ রুমে যেতে চাওয়ার কারনে সাউনড প্রুফ রুমে উপুড় করে শরিরের উপর বসে কেনুই দিয়ে ঘাড়ে এবং দুকাধে ক্রমাগত আঘাতে নির্জীব করে ফেলল । হাত দুটো বেধে ফেলল একটা ওড়না দিয়ে । এ এস পি ওয়াশ রুমের পেশাব ফ্লোরেই করে দিয়েছিলেন । পেশাব ধুয়ে দিল একজন লাল বালতিতে আনা পানিতে ।
পাঠক এ কোন সিনেমার বর্ণনা নয় , নয় কোন রিহারসেলের বয়ান । এটি সদ্য খুন হওয়া একজন এ এস পির খুনের ঘটনার বর্ণনা । সি সি টি ভি চালু না থাকলে সব হারিয়ে এলোমেলো হয়ে যেত । সি সি টি ভির সাক্ষীই এখন খুনের ঘটনার মুল প্রমান । এই এতোগুলো লোক কি ওই মানসিক হাসপাতালে রেডি থাকত চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষদের এভাবে ধরে নিয়ে হাত পা বেধে কনুইএর আঘাতে নিস্তেজ করার জন্য ?
পাঠক আপনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে বসবাস করছেন , রাজধানী ঢাকায় । ওই মাইন্ড এইড সাইনবোর্ডের নিচে ভবনটির মধ্যে যা ঘটছে তারও অনুমোদন ছিল না প্রশাসনের । স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম আছে যাদের কাজ ঢাকা শহরে যারাই ক্লিনিক হাসপাতাল চালায় তাদের তথ্য নেয়া এবং জমা করা । এলাকায় কাউন্সিলর , এম পি , পুলিশ – থানা আছে । তারা কি কেউই জানত না এখানে কি হয় বা হচ্ছে । জানলে এই দশজনের বাহিনী একটি পুলিশ অফিসারকে হত্যা করল তার আগে পিছের কাহিনী জানত ।
একটি বিষয় সবাই এড়িয়ে যাচ্ছেন তা হল এ এস পিকে সরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেই মাইন্ড এইডে নিয়ে আসা হয় । কেন ? এই বিষয় সবাই চেপে গেছেন । দশজনের ওই কিলিং স্কোয়াড এখন পুলিশের হেফাজতে । আমরা শিঘ্রিই জানতে পারব এটি কি পরিকল্পিত খুন ।
কাপাসিয়ার গ্রামের বাড়িতে এ এস পির নির্দোষ শিশু খেলছে সঙ্গীদের নিয়ে , নির্মল , ও বোঝেইনি ওর বাবা আর কখনো ফিরে আসবেনা । মাইন্ড এইডের মুল মালিক একজন মহিলা ডাক্তার , রাতে গ্রেফতার হয়েছে । আরেক ডাক্তার নিউরোসাইন্সে ভর্তি , সম্ভবত খুন হওয়ার পরই ভর্তি হয়েছে । রাজনিতিকরা গ্রেফতারের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকতেন এক সময় , ভাসানি সাহেব তালিকার শীর্ষে ছিলেন । এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন হোক ।
আসলে আমি আপনি সে বা তারা কেউই আর নিরাপদ নই এই রাষ্ট্রে । আমাদের পেছনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে দশ জনের বাহিনী , ওড়না হাতে ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




