
রমনার বটমূলে বৈশাখের শুভপ্রভাতে যে মাঙ্গলিক আবাহন হয় তা সনজিদা খাতুনের উদ্যোগ । ৭৭ সালে আমি একদম শেষ সময়ে হাজির হয়ে শ’খানেক মানুষকে পেলাম যারা বাড়ি ফেরত যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন । ঢাকা শহরের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক চলছে । যারা রমনার পাশ দিয়ে যাচ্ছেন তারা অনেকেই বুঝতে পারছেননা কি হচ্ছে এখানে । মনটা খারাপ হয়ে গেল । এইসব আয়োজন উদ্যোগ এর পেছনে যে মানুষটি ছিলেন বা আছেন তিনি সনজিদা খাতুন । ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা , ডঃ কাজি মোতাহার হোসেনের কন্যা , লেখক কাজি আনোয়ার হোসেনের বোন , সঙ্গীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হকের সহধর্মিণী । সনজীদা খাতুন ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯৫৫ সালে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।[২] পরে ১৯৭৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন । সেই মাঙ্গলিক আবাহন কালে কালে এতটা বিশাল হয়েছে যে আমরা ভিড়ের তোড়ে যাওয়া বন্ধ করে বন্যার বর্ষ আবাহনে গিয়েও রক্ষা হল না তাই বাসায় টি ভিতে লাইভ দেখি। সনজিদা খাতুন এবছর ভারত সরকারের অসামরিক পদক পদ্মশ্রীতে ভূষিত হলেন । তার আরও উল্লেখযোগ্য অর্জন একুশে পদক, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত), দেশিকোত্তম পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)। এছাড়া কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৯৮৮ সালে তাকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধি, ২০১৯ সালে ‘নজরুল মানস’ প্রবন্ধ গ্রন্থের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে । তিনি একাধারে লেখক, গবেষক, সংগঠক, সঙ্গীতজ্ঞ, শিক্ষক ও শিল্পী। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাংস্কৃতিক ভিত তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। এখন পর্যন্ত তার প্রজ্ঞা আমাদের পথনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। ৮৭ বছর বয়েসে তিনি অদম্য এবং একজন ভাল নেতা ও সংঘটক । সনজিদা খাতুন শতায়ু হন এই কামনায় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


