
কাজখাস্তানের রাজধানী আস্তানায় ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও)’-এর শীর্ষ সম্মেলনের আসর বসেছিল বৃহস্পতিবার। পাকিস্তান এবং রাশিয়া সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিল। দুই দেশের প্রধানই সম্মেলনে যোগ দিতে যান। ভারতও এসসিও-র সদস্য। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্মেলনে যোগ দেননি। গিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা দিয়ে এসেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, রাশিয়া এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে যা পণ্য রফতানি করেছে, তার বাজারমূল্য ১০০ কোটি ডলার। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এই অঙ্ককে আহামরি বলা চলে না। অথচ সেই টাকা মেটাতে গিয়েও প্রাচীন বিনিময় প্রথার দ্বারস্থ হতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত প্রায় দু’বছর ধরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক হাল বেহাল। তাই নিজেদের ‘দারিদ্র’ ঢাকতেই রাশিয়াকে এমন প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক টানাপড়েনে জর্জরিত পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মাথায় চেপেছে ঋণের পাহাড়প্রমাণ বোঝা। যার প্রভাব গিয়ে পড়েছে দেশের বাজারেও। পাকিস্তানে জিনিসপত্রের মূল্য মাঝেমধ্যেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।ইসলামাবাদের একটি চিন্তন শিবিরের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ, পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ ফেলেছে সে দেশের ঋণ-পরিস্থিতি। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খোদ আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (আইএমএফ)।একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১১ সালে পাকিস্তানে এক জন শিশু মাথায় ৭০ হাজার পাকিস্তানি মুদ্রার ঋণ নিয়ে জন্ম নিত। ২০২৩ সালে সেই পরিমাণ ৩ লক্ষের বেশি।বিদেশি মুদ্রার খরচে লাগাম টানতে পাকিস্তান তাই আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তবে খনিজ তেলের আমদানি বজায় রেখেছে রাশিয়ার থেকে।আর পাকিস্তানের কাছে ব্যবসা করার মতো ১০০ কোটি ডলার নেই দেখে অবাক রাশিয়াও। তবে এই জন্য পাকিস্তান যে শেষমেশ বিনিময় প্রথার প্রস্তাব দিয়ে বসবে, তা-ও কল্পনা করতে পারেনি পুতিনের দেশ। আর তা নিয়েই উঠছে হাসির রোল।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ৯:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



