somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। ঘুমের দেশে ৩৬ বসন্ত পার করলেন ঘুমন্ত রাজপুত্র

২৬ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




টানা দু’দশক ঘুমিয়েই ৩৬ বছর পূর্ণ করলেন সৌদির যুবরাজ অল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালাল। গোটা জগৎ তাঁকে চেনে ঘুমন্ত রাজপুত্র বা ‘স্লিপিং প্রিন্স’ নামে। ১৬ বছর বয়সে একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার ফলে কোমায় চলে যান অল-ওয়ালিদ। এ যেন এক রূপকথার গল্প। গল্পও ঠিক নয়। কঠোর বাস্তব এবং বড়ই মর্মান্তিক। কল্পকাহিনিতে দুষ্টু রাক্ষস বা রাক্ষসীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ঘুমিয়ে থাকেন রাজকুমার বা রাজকুমারীরা। যেমন বিদেশি গল্পে দুষ্টু পরির অভিশাপে ১০০ বছর ঘুমিয়েছিল রূপকথার রাজকুমারী। ঠাকুমার ঝুলিতে বর্ণিত রাজকুমারীকে রুপোর কাঠি ছুঁইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল বছরের পর বছর।তেমনই বাস্তবের এক যুবরাজও টানা ২০ বছর ধরে ঘুমিয়ে রয়েছেন গাড়ি দুর্ঘটনার ছদ্মবেশে আসা ‘রাক্ষসের’ কারণে। টানা দু’দশক ঘুমিয়েই ৩৬ বছর পূর্ণ করলেন সৌদির যুবরাজ অল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালাল, বিশ্ব যাঁকে চেনে ঘুমন্ত রাজপুত্র বা ‘স্লিপিং প্রিন্স’ নামে। ১৬ বছর বয়সে একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার ফলে কোমায় চলে যান অল-ওয়ালিদ।২০০৫ সালে রিয়াধে একটি পথ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন ওয়ালিদ। ওই দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে যুবরাজ কোমায় চলে যান। সেই সময় লন্ডনের একটি সামরিক কলেজে পড়তেন তিনি। তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, মস্তিষ্কে চোট লাগার কারণে তিনি কোমায় চলে গিয়েছেন।যুবরাজ ওয়ালিদ, সৌদি রাজ পরিবারের সদস্য খালিদ বিন তালাল অল সৌদের ছেলে এবং সৌদি ধনকুবের ব্যবসায়ী অলওয়ালিদ বিন তালালের ভাইপো। প্রিন্স অল-ওয়ালিদ সৌদি রাজপরিবারের সদস্য হলেও বর্তমান বাদশার সঙ্গে সরাসরি উত্তরাধিকারী নন তিনি।অল-ওয়ালিদের দাদু, তালাল বিন আব্দুল আজিজ অল সৌদ ছিলেন অধুনা সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আব্দুল আজিজ অল সৌদের ছেলে। সেই সম্পর্কের সূত্রে অল-ওয়ালিদ সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতার নাতির ছেলে।

দু্র্ঘটনার পর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ভেন্টিলেটর এবং ফিডিং টিউবের উপরই নির্ভরশীল তিনি। বছরের পর বছর ধরে তাঁর অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ২০১৯ সালে, সীমিত সাড়া দেওয়ার কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল রাজপুত্রের মধ্যে। তাঁর মাথা এবং আঙুলগুলি সামান্য নড়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে আর বিশেষ কোনও আশার সঞ্চার হয়নি রাজপুত্রের সুস্থতা নিয়ে।
রিয়াধের একটি হাসপাতালে ১১ বছর শুশ্রূষার পর ২০১৬ সালে ওয়ালিদকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তিনি নিজের বাড়িতেই লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ওয়ালিদকে দেখভাল করার জন্য জনা দশেক কর্মচারী রাখা হয়েছে সৌদি রাজপরিবারের তরফে। এর জন্য খরচ হয় কোটি কোটি টাকা।
১৮ এপ্রিল সৌদি রাজপরিবারের সদস্যেরা জন্মদিন উদ্‌যাপন করে সমাজমাধ্যমে ওয়ালিদের ছোটবেলার বেশ কিছু ছবি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছিলেন। তাঁরা সমাজমাধ্যমে রাজপুত্রের সুস্থতা কামনা করে লিখেছিলেন, এতগুলি বছর ধরে তাঁদের হৃদয় জুড়ে রয়েছেন ওয়ালিদ।ইশ্বরের কৃপায় তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন, প্রার্থনা করেছেন পরিবারের আত্মীয়েরা। হাজার হাজার মানুষ তাঁর আরোগ্য কামনা করেছেন। তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।একই ধারণা পোষণ করে চলেছেন যুবরাজের বাবাও। তিনিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, কোমা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরবেন তাঁর আদরের সন্তান। খালিদ মনে করেন, এক দিন ঠিক ‘অলৌকিক’ কোনও ঘটনা ঘটবে এবং তাঁর ছেলে কোমা থেকে বেরিয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

খালিদ এক বার বলেছিলেন, ‘‘চিকিৎসকেরা আমার ছেলের লাইফ সাপোর্ট বন্ধ করে দিতে বলেছিলেন। আমি বলেছিলাম, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ছেলের কবর দিতাম। কিন্তু আমার ছেলে যত ক্ষণ নিশ্বাস নেবে তত ক্ষণ আমি চিকিৎসা চালিয়ে যাব।’’ শুধু খালিদ নন, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সৌদি রাজপরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই ওয়ালিদের লাইফ সাপোর্ট বন্ধ করতে রাজি নন।বিগত বছরগুলোয় যুবরাজের চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছিলেন আমেরিকা ও স্পেনের খ্যাতনামী চিকিৎসকেরা। কিন্তু সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনও তাঁর জ্ঞান ফেরানো যায়নি।

সমাজমাধ্যমে এক বার এমনও রটে গিয়েছিল যে, ওয়ালিদ আর জীবিত নেই। বেশ কয়েক বছর আগেই নাকি তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাঁর পরিবারের তরফে এই কথা গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

চিকিৎসকেরা ওয়ালিদকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সব আশা ত্যাগ করেছেন। পরিবারের আশা ও লড়াই করে যাওয়ার অদম্য জেদেই ২০ বছর ধরে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে রাজপুত্রের দেহে। ওয়ালিদের বাবা ও তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের আশা, পৃথিবীতে এমন সোনার কাঠির সন্ধান তাঁরা পাবেন, যা ছোঁয়ালেই আবার চোখ মেলে তাকাবেন তাঁদের আদরের রাজপুত্র ওয়ালিদ।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:০৫
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×