
আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ দিনের শুরুটা দুধ চা দিয়ে করতে পছন্দ করে। তবে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য গবেষণা বলছে, বিশেষ করে গরমকালে দুধ চা যতটা আরাম দেয় মনে, শরীরের জন্য সেটা ততটা আরামদায়ক নয়। কারণ দুধ চায় সাধারণত চা পাতা, দুধ ও চিনি একসাথে ফুটিয়ে বানানো হয়—যার ফলে এই চায়ের ক্যালোরি বেড়ে যায় প্রায় ১০০–১৫০ পর্যন্ত, বিশেষ করে যদি চিনি বেশি দেওয়া হয়। গরমের সময় শরীর এমনিতেই ক্লান্ত থাকে এবং হজমপ্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে যায়। এই সময় ভারী পানীয় যেমন দুধ চা হজমে চাপ ফেলে, অনেকের মধ্যে গ্যাস, অম্লতা বা বমিভাব তৈরি করে। তাছাড়া, দুধে থাকা ল্যাকটোজ এবং ফ্যাট অনেকের জন্য হজমযোগ্য নয়—বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ মানুষ ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট, ফলে চা খেয়েই পেট ফুলে থাকা বা অস্বস্তি অনুভব করা বেশ সাধারণ একটি সমস্যা।
অন্যদিকে, লাল চা বা ব্ল্যাক টি দুধ ও চিনি ছাড়া হালকা ভাবে বানানো হয়, যার ফলে তা শরীরের উপর কম চাপ ফেলে।এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যাটেচিন নামক প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষায় এবং দেহের কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ চায়ে দুধ যোগ করলে এই উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়, কারণ দুধের প্রোটিন চায়ের উপাদানগুলোর সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে তা শরীর ভালোভাবে শোষণ করতে বাধা দেয়। তাছাড়া, লাল চা শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা হালকা করে, কারণ এটি হালকা ঘাম উৎপাদনে সাহায্য করে—ফলে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারে। বিপরীতে দুধ চা শরীর গরম করে তোলে এবং ঘামতে বাধা দেয়, যার ফলে গরমে মাথা ঘোরা, ক্লান্তিভাব বা হিট এক্সহস্টন বাড়তে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২৫ বিকাল ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


