somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রাবণ

২৬ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(যখন আকাশে অবাধ মেঘ, বা অঝোর বৃষ্টি - এটা শুধু সেই সময়ের কবিতা)



ও মেঘ দেখে নিও, তোমার নাদ শুনেও আমার প্রিয়া রবে চুপচাপ
যে মেঘ দেখে কাঁদে জগৎ-সংসারী, সে মেঘে কাঁদা তার সাজে কি?
তা বলে ভেবো না সে কাঁদতে ভুলে গেছে - ওসব আরেক মহাকাব্য
ও মেঘ, তুমি তার খেয়াল রেখো শুধু; আমার কাছে কি তুমি ঋণী নও?

যে ছবি-আল্পনা তোমার হাতেই বোনা, এবং বিদ্যুতে ঝংকার -
যেখানে ছায়া ফেলে আঁধারে অপ্সরা - আমিও দেখেছি সে কী অদ্ভূত !
সে তালে ঝড় তোলে, তুমুল পাখনা মেলে - নারী ও নর্তকী দুর্বার
অমন মহাক্ষণে আমি যে আনমনে ভীষণ অসহায় শ্রাবণে...

ও মেঘ গম্ভীর, ভীষণ কাজের ভীড়ে আমার বার্তা তুমি ভুলো না;
রাখিনি তোমার আমি সহস্র নাম আর করিনি তোমায় আমি সুন্দর?
তা শুনে অপ্সরা চকিতে দাঁড়িয়ে বলে, "আমায় কী দেবে কবি তাহলে?"
আমিও হেসেই বলি, "তোমার নামেই আমি আমার মেয়ে'র নাম রাখব!"

তখনই অপ্সরা প্রবল নৃত্য-গীতে খুশিতে আকাশ ভাঙে চুরমার
পুবের পাহাড় থেকে দক্ষিণ বন্দরে বিজলি দেখালো পথ সর্পিল
কানফাটা গর্জনে পৃথিবী চমকে ওঠে, এমনকী স্রষ্টাও বিহ্বল !
বৃষ্টি, এসেছো তুমি? নিদারুণ এই ভূমি তোমার দাবিতে ছিল তোলপাড়।

তুমিই তো করে রাখো চাতক আবার সেই তুমিই তো দাও তৃষ্ণায় জল
তোমারই সুর তোলে দেয়ালে গজিয়ে ওঠা নীলাভ-সবুজ যত শৈবাল
তোমারই ছোঁয়ায় যত সবুজ উঠল হয়ে ভীষণ গাঢ় মায়াবিনী রং
এবার তোমায় দেখে আমার প্রিয়ার চোখে জল কি নেমেছে দেখো বর্ষায়?

বিন্দু বিন্দু জলে উচ্ছ্বাস জেগে ওঠে গাঙের পাড়ের সোঁদা বাঙলায়
কোথায় সে বিরহিনী আনত নয়ন তুলে একেলা বর্ষা দেখে নীরবে?
জীবনটা আমাদের এতদূর - এতদূরে রেখে চলে গেছে; তবু ঈশ্বর -
একই সেই মেঘ তবু একই বারিধারা আনে দুই পৃথিবী'র এক হৃদয়ে...

বৃষ্টি তুমি তাকে ভিজিয়ে দিয়ো না, সে নিজেরই জলে ভিজে একশা
তবুও যদি সে দু'হাত বাড়ায় তুমি আলতো ছুঁয়ে দিও যতনে
এবং এইটুকু ছোঁয়া তুমি পেলে তার - আমার হিংসা এতে কী ভীষণ !
শ্রাবণ তুমি একা বিষাদ হয়ে এলে নিখাদ গরবিনী প্রেমিকার।

কোমল ফুলের ঘাসে সতেজতা চারপাশে বাদল ঘনায়ে আসে অঝোরে
ও মেঘ-বৃষ্টি'রা, ভুলবে কি তোমরাও আমার প্রার্থনা সঙ্গীত?
শুনিয়ে দেবে না তাকে শাহেদের আরশীতে একেলা লেখা মহাকাব্য?
শ্রাবণ অবাধে হাসে, বিরহী-হৃদয় পাশে, সবুজ করুণ এই বাঙলায়...





(ইদানিং আব-হাওয়ার মেজাজ উপলব্ধি করে এ কাব্যের শুধু 'শ্রাবণ' অংশটুকু প্রকাশ করলাম)
২৮টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:২৪

দুঃখ কষ্ট যশ খ্যাতির আর এক নাম চার্লি চ্যাপলিন...

চার্লি চ্যাপলিন। পৃথিবীর চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন মহান হৃদয়ের মানুষ আর আসেননি। স্বয়ং সত্যজিত রায়ের মতে- "পৃথিবীর চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পূর্ণদৈর্ঘ্য মরিয়ম মান্নানের মা (ফান ফটো পোস্ট)

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৫৩

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েক দিন মরিয়ম মান্নান নামটি খুব দেখা গেছো। আজ তার একটি রফা হলো-


টানা ২৯ দিন আত্মগোপনে থাকা রহিমা বেগমকে অবশেষে ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙলা সাহিত্যের বহুমুখী অনন্য প্রতিভাধর সাহিত্যিক ' আবদুশ শাকুর'

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৩৬


আবদুশ শাকুর
প্রথমে ইংরেজী সাহিত্যে মাস্টার্স করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী সাহিত্যের( প্রথমে ঢাকা কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েঃ ১৯৬৫-৬৭) শিক্ষকতা দিয়ে শুরু পরে পরে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে সচিব হিসেবে অবসর নেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

'যৌন কর্মীর ছেলে'

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১১:১০


আমার বয়সে যারা আছেন তারা এই বাক্যটির সাথে পরিচিত। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যে আসলেই প্রশ্নফাঁস জেনারেশন তা পোস্টটি পড়লে আরেকটু নিশ্চিত হওয়া যাবে সম্ভবত। স্টুডেন্ট লাইফে 'ব্যাচেরল' নামক একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অহনাকে যে গানটি অহরহ শোনাতাম

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৩৯

আমার ল্যাপটপ অন থাকা মানে অবিরাম গান বাজতে থাকা। গান বাজে ল্যাপটপে, গান ঝরে কণ্ঠে, একটা কনসার্টেড সুর-মূর্ছনার তালে তালে ল্যাপটপের বাটনগুলোর উপর অনবরত আমার আঙুলগুলো খেলতে থাকে।

অহনার সাথে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×