somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিস্ময়কর ক্বোরআন!

১৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইহা এমন গ্রন্থ যা পরস্পর বিপরীত দিকে পথ নির্দেশ করে। তারমানে ক্বোরআন পাঠে কেউ হেদায়েত পায়, আর কেউ পথ ভ্রষ্ট হয়। এজন্য নাস্তিকরাও ক্বোআন পাঠের পরামর্শ দিয়ে থাকে। তারা মনে করে ক্বোআন পাঠ করে তারা যেমন পথ ভ্রষ্ট হয়েছে অন্য সবাই তেমন পথভ্রষ্ট হবে। অথচ দেড় হাজার বছর ধরে ক্বোরআন পাঠ চলছে। অনেকেই তা’তে হেদায়েত প্রাপ্ত হচ্ছে, পথভ্রষ্ট হচ্ছেনা।

ক্বোরআন থেকে সঠিক পথ খুঁজতে গিয়ে অনেকে সঠিক পথ পেয়ে যায়, আবার অনেকে সঠিক পথ পায়না। কারা সঠিক পথ পায়? যারা এর প্রতি সম্মান রেখে এটা বুঝতে অনেক খাটাখাটনি করে তারা সঠিক পথ পায়। যারা এর প্রতি তামাশা করে, এর প্রতি তার তামাশার মনভাব প্রমাণে খাটাখাটুনি করে তারা বিভ্রান্ত হয়। তারাও বিভ্রান্ত হয় যারা এর প্রতি অমনোযোগী।

পংকিল জলাশয়ে সূর্য ডুবা, মাকড়সা, মশা, পিঁপড়া, ইয়াজুজ-মাজুজ, হুর ও গেলমান, ক্বোরআনের সাথে মিল করে সূরা বানাতে অপারগ হওয়া, বিজ্ঞানের সাথে গরমিল মনে হওয়া বিষয় সমূহ, এ সব নিয়ে তামাশাবাজদের তামাশার শেষ নেই। আর পথ প্রাপ্তরা বুঝে এসব তামাশাবাজদের তাদের থেকে আলাদা করার জন্য।কারণ আল্লাহ তামাশাবাজদের তাঁর অনন্য সুন্দর জান্নাত প্রদান করবেন না।

আলীদস্তি গং বলছে ক্বোরআন কেন, কারো রচনার সাথে মিল রচনা অসম্ভব! অথচ আল্লাহর কথাও সেটি, কারণ কোন মানুষের রচনার সাথে ক্বোরআন মিলেনা। মহানবীর (সঃ) হাদীস ও ক্বোরআন এক রকম নয়। আবার অন্য ক্বোন মানুষের রচনার সাথেও ক্বোরআন মিলে না। সুতরাং যেহেতু ক্বোরআন অন্যকারো বাণী নয় সেহেতু ক্বোরআন আল্লাহর বাণী। আপনি তিনটি ‘র’ অন্তমিলে ভুমিকা আলোচনা ও উপসংহার এর সামঞ্জস্য রেখে নবীর প্রতি আল্লাহর কথা হিসেবে সূরা কাউছারের মত সূরা বাংলাতেও রচনা করতে পারবেন না। যদি পারেন তবে করে দেখান। ভুল তাতে মিলবেই মিলবে।

আল্লাহকে সনাক্ত করার মতো সুস্পষ্ট কিছুই অনেকে পাচ্ছেনা আর অনেকেই তাঁর সৃষ্টি দেখে তাঁকে বিশ্বাস করছে।প্রমাণ যে পাচ্ছেনা সে আল্লাহকে মানছেনা যে পাচ্ছে সে মানছে। না পাওয়ার কারণ যথাযথ অনুসন্ধান না করা। কোন জিনিস যদি থাকে এক দিকে আর কেউ যদি তা’খোঁজে উল্টা দিকে তবে সে সেটা পাবে কেমন করে?

ক্বোরআন পড়ে এর অনুসারী একদল হচ্ছেনা বরং বহুদল হচ্ছে, যার মধ্যে আবার সঠিক শুধু এক দল। আবার নবীর (সঃ) হাদীসেও তাঁর (সঃ) উম্মত বহুদল হচ্ছে যদিও তাদের প্রতি এক দল থাকার নির্দেশ।বহু দলের সবার দাবী তারাই সঠিক দল, এ নিয়ে অন্তহীন ঝাগড়া।এতে আবার অনেকেই বিরক্ত।কিন্তু সঠিক দাবী করলে কেউ সঠিক হয়না বরং সঠিক হতে হলে সঠিক কাজ করতে হয়। আল্লাহর প্রিয় বান্দাগনের সানে যারা বেয়াদবী করে, যারা তাদের সমালোচনা করে তারা সঠিক লোক নয়। আল্লাহর প্রিয় বান্দা তাঁরা যাদের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরা হলেন মহানবীর (সঃ) সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)। তাঁদের শানে আল্লাহ বলেছেন,‘রাদিয়াল্লাহু আনহুম-আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট’ আল ক্বোরআন, সুরা তাওবা আয়াত নং-১০০।সুতরাং যারা সাহাবা স্বীকৃত, তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট সমালোচক সঠিক মুসলমান নয়। বড় এর বিচার করে যিনি তার চেয়ে বড়, এ ক্ষেত্রে ছোট এর বড় এর বিচার করতে যাওয়া চরম বেয়াদবী। সুতরাং সাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) সমালোচক সঠিক মুসলমানের তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এভাবে ক্বোরআনের কয়েকটি সূত্রে ছাঁকলে প্রকৃত মুসলমান পাওয়া যাবে। এখানে আমরা সে বিশদ আলোচনায় যাচ্ছিনা।

সার কথা আল্লাহ যাকে হেদায়েত প্রদান করেন সে শুধু হেদায়েত পায়। কে হেদায়েত পায়? আল্লাহর যাকে পছন্দ! এর জন্য কি করতে হবে?

০১। নিজ দায়িত্বে লুকিয়ে থাকা আল্লাহকে খুঁজে বের করুন।
০২। নিজ মর্জি ত্যাগ করে তাঁর মর্জিমতো জীবন সাজান।
০৩। তাঁর মর্জি সঠিক ভাবে জেনে নিন।
০৪। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সাথে বেয়াদবী ও অহংকার পরিহার করুন।
০৫। মিথ্যা পরিহার করুন।

উপরোক্ত পঞ্চগুণ সঠিক মুসলমান সনাক্ত করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর উপায়।

উপরোক্ত পঞ্চগুণ না হলে কি হবে? আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই হবে। কারণ তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয়না এবং হবেওনা। এসব আপনি বিশ্বাস করেননা? বিশ্বাস করুন আর নাই করুন যা ঘটার তা’কিন্তু ঘটবেই। কিছুই আপনি ঠেকাতে পারবেননা। কারণ আপনার সে ক্ষমতা নেই। আর এটাই বিস্ময়কর ক্বোরআনের সার সংক্ষেপ!

প্রসঙ্গত বান্দার হেদায়েতে আল্লাহর তেমন কোন গরজ নেই। কারণ এর বিনিময়ে সে জান্নাত পাবে এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে। তবে বান্দা হেদায়েতের পথে হাটলে আল্লাহ যথেষ্ট খুশী হন। কারণ তিনি বান্দার মঙ্গল সাধন করতে চান, বান্দার পাপের কারণে অনেক সময় তিনি বিধিমতো তা’করতে পারেননা। সুতরাং আমরা কারো দিকে না তাকিয়ে নিজেদের জান্নাতের পথ নিজেরাই খুঁজে নিতে সচেষ্ট হব, আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন-আমিন।

বিঃদ্রঃ লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। লেখকঃ ফরিদ আহমদ চৌধুরী।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:২২
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×