বেচারী কেদারা! দু’শত বৎসর ব্রিটিশ যাতনে-
হৃদয় রক্তক্ষরণে: যখনি যায় যায় মরি মরি-
তখনি বাপ-নাম ছাঁড়ি, কাঠের দেহে লোহার দন্ড পরি-”চেয়ার”
নব নামে বাঁচিবার যে লড়াই - তাহা চলিতেছে-
আজও অবধি।
এক ভরা পূণিঁমায় উন্মুক্ত ছাদে-
মুখোমুখি বসিয়া, তাহার সহিত কিছু আলাপ হইয়াছিল।
বিদায় পর্ব সারিয়া, যখন উপর পাণে চাহিলাম-দেখিলাম-
তারাগুলি মলিনমুখে-বুঝি,
ভরা আষাঢ়ের মত চোখের জল ছাঁড়িবে।
আলাপচারিতা পর্ব:
-----------------------------
এক ফাঁকে তাকে টিপ্পনি কাটিয়া কহিলাম-
তুমি ভাই বড় ভাগ্যবান, তোমারই পাশাপাশি বসে-
রাজা-বাদশাহ রাজ্য চালোনায় মজে।
বেচারী কেদারা- দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া বলিল-
তবে মোর হৃদয় রক্তক্ষরণের কথা শুনো।
মাঠের যাদের বুকে নিয়ে কোলাকুলি-
জাফরি-হাসি মুখে টেনে,
তাদের পিঠে চাবুক বসাইবার ফঁন্দি আঁটে-
আমার বুকে চড়ে।
গরীবের নামে বিলায় ওরা যে খাবার,
সবই লুটে গরীবের ঘর হতে।
ক্ষমতার লোভে ওরা মত্ত এত-
পিতা-পুত্রকে, পুত্র-পিতাকে হত্যা করিতে নাহি ছাড়ে।
মঞ্চে বসিয়া প্রভুর গানে মগ্ধ ভানে-
নিশিথ নামিলে-মজে,
শোরাব আর বেশ্যার সুরে।
কিছুক্ষন নিশ্চুপ থাকিয়া-বলিল,
ইচ্ছে জাগে উড়াইয়া নিয়া দরিয়ায়-
ডুবায়।
পারিনা-পভু যে এ ক্ষমতা মোর দেয় নাই।
আমি ও কেদারা পর্ব
------------------------------
একখানা সার্টিফিকেট ছিল-মোর স্বীকৃত পুস্তগত জ্ঞান-বিদ্যা অতটুকুই,
তা দিয়েই অভিজাত এক অফিসে-
পিয়নের চাকরি।
সকালে ঢুকেই সবকিছু করিত হত-পরিপাঁটি,
রাতে সব গুঁছে ফিরিত হত-বাটী।
একদিন আনমনে কি যেন ভেবে ”মাঝারী” এক স্যারের চেয়ারে-
একটু বসিয়াছিলাম,
একান ওকান করিয়া রটিল অফিসময়।
সে দিন যা শুনিয়াছিলাম বলিব না-তবে
সারা-রাত ভাবিয়াছিলাম বাঁচিয়া থাকিব নাকি মরিব।
শেষ পর্ব:
----------------------
চেয়ারে চড়া সবজনে যে কু-মনী তাহা নহে,
এহাতে চড়েছে বহু জ্ঞানী-গুনী-সাধু-দরবেশ
যাদের আলোয় আলোকিত হয়ে আসিতেছে-এ ধরা,
শতাব্দী হতে শতাব্দী।
তবে মনুষ্য ভরা এই গ্রহে ,তাহারা-
বিলীনের পথে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


