
ব্লগে মাঝে মধ্যে অনেক সিনিয়র ব্লগার বই পড়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে পোস্ট দেয়, খুবই ভাল লাগে সেগুলো, কিন্তু আবার অনেকে এক ধাপ এগিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসার বদলে লাইব্রেরী তৈরি করতে জান-প্রান যুক্তি দেখায়। তাদের ঐসব খাঁড়া যুক্তি মাঝে মধ্যে খুব বিরক্তি লাগে।
বই পড়া প্রচলন করতে হলে আগে বই দরকার, আমি অনেক মানুষকে চিনি তারা মোটামুটি পড়তে ভালবাসে কিন্তু বই কিনতে যাওয়া, কি ধরনের বই কিনবে, কোথায় গেলে পাওয়া যাবে, এসব কারনে বই পড়া তেমন হয়না তাদের। একটা মানুষকে একবার যদি বইয়ের প্রেমে ফেলে দেওয়া যায়, তখন সে ঐ কষ্টগুলো মেনে নিয়ে বইয়ের দোকানে ছুটবে।
আমাদের সামাজিকভাবে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়, এই যেমন- জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, মুসলমানি, ইত্যাদি। সম্মানে খাতিরে হোক আর সামাজিক নিয়মে হোক হাতে একটা গিফ্ট নিয়ে যেতে হয়। আমরা যদি ঐ গিফটের পাশাপাশি একটা সুন্দর বই যদি যোগ করি খুব বেশি খরচ বাড়বে বলে মনে হয় না। গিফটা দুই একদিনের মধ্যে পুুরানো খাতায় নাম লিখলেও বই কিন্তু নতুন পাঠকের কাছে নতুন থাকবে। এমনও হতে ঐ ফ্যামিলির সবাই উপহার দেওয়া বইটা পড়েছে।
আমরা অনেকে বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে যাওয়ার সময় সাথে হয়তো ফল, মিষ্টি নিয়ে যাই, সাথে কি আমরা একটা বই নিতে পারি না। তাছাড়া অবসর প্রাপ্ত আত্নীয়-স্বজনকে কিন্তু আমরা বই দিতে পারি।
প্রথমে একটু দ্বিধা লাগলেও এক সময় তা খুবই জনপ্রিয় হয়। আমি বাস্তব প্রমাণ--
আমি বার বছর আগে যখন চাকরিতে যোগ দেই তার কিছুদিন পর আমাদের ম্যানেজার ম্যাডাম চাকরি ছেড়ে ইংল্যান্ড চলে যান তাকে গিফটের জন্য যখন পরামর্শ হচ্ছিল আমি বললাম অন্য গিফটের সাথে কিছু বই দেওয়া যায়, কিন্তু আমার কথায় কেউ মূল্যই দিল না। আবার বছর দুয়েক পরে আরেক বস চলে যাওয়ার সময় আমি তাদেরকে বললাম আমি একা গিফট দিব এবং তা হবে বই, আমার সাথে আরও তিনজন কলিগ যোগ দিল, আমরা বই উপহার দিলাম। সেই শুরু অফিসে কারোর জন্মদিন পালন করলে অন্য উপহার হোক আর না হোক বই থাকবেই। সর্বশেষ আমাদের সিনিয়র ম্যাডামের জন্মদিন করলাম মাসখানিক আগে তাকে শুধু ডজন খানিক বই উপহার দিয়েছি। অবশ্য এইজন্য আমার একটু কষ্ট করতে হয়, সব বই আমাকে কিনে আনতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




