somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কওমী মাদ্রাসা কতটুকু ভয়ংকার!! বাস্তব ও বাস্তবতা। পর্ব-এক।

২৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কওমী মাদ্রাস কতটুকু ভয়ংকার?
এই ব্লগের যদি জরিপ চালানো হয় আমার ধারনা ৮০% অধিক বলবে খুবই ভয়ংকর তাদের থামাতে হবে, ২০% বলবে এই শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি না করে থামাতে চাওয়া স্বৈরাচারী মনোভাব। আমি নিজে দ্বিতীয় গোত্রের।

ভারতীয় উপমহাদেশে যে কওমী ধারা তা মূলত ভারতের বেওবন্দ মাদ্রাসা দিয়ে গড়াপত্তন, তাদের সিলাবাসে বাংলাদেশ ভারত পাকিস্থানের সব মাদ্রাসা চলে বা নিয়ন্ত্রণ বলে দাবী করা হয় তবে বাংলাদেশে এসে এর নিয়ন্ত্রন মূলত তিন গ্রুপে হাতে চলে গেছে।
এক, মাজারী কেন্দ্রিক দরগাহ নিয়ন্ত্রিত
দুই, পীর নিয়ন্ত্রিত
তিন, তাবলীগ ও ব্যাক্তিপ্রভাবিত নিয়ন্ত্রিত

এক, মাজারী কেন্দ্রিক দরগাহ নিয়ন্ত্রিত
তালেবান আর এদের আদর্শ আকাশ পাতাল পার্থক্য, এদের চিন্তায় ধারায় কখনো ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেই, তাদের পুরো সিষ্টেম মাজারে ঘিরে। বিস্তারিত গুগল করে জেনে নিবেন। (আমি তিন মাস বি-বাড়িয়া ছিলাম, তাদের সাথে কথা বলে, স্বচক্ষে দেখে তাই মনে হয়েছে)

দুই, পীর সাহেব নিয়ন্ত্রিত
কওমী মাদ্রাসার বড় একটা অংশ পীর নিয়ন্ত্রিত, এসব মাদ্রাসায় পড়িতদের বড় অংশ পীরের মুরিদ হয়, এরা পীরের কথা কতটুকু মূল্যায়ণ করে তা বুঝতে হলে একজন মুরিদের সাথে সরাসরি আলাপ করতে হবে, লিখে তাদের সেই আধ্যাত্নিক আনুগাত্য বুঝানো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সব পীর মূলত বংশক্রমিক, পীরের ছেলে পীর আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বিনা পুঁজির ব্যবসা হচ্ছে এই পীর ব্যবসা। এই সব পীরদের আবার একদল আলেম আছে যারা সারা দেশে পীরের কেরামতি প্রচার করে ভাল রোজগার করে, এখন বলেন তো এই সব গ্রুপ কোন দুঃখে ইসলামী আইনের রাষ্ট তৈরি করে নিজেদের ব্যবসা আর তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষতি করবে?
(অবশ্যই আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি আমাদের সমাজে আছে, যারা নিরবে কাজ করেন যাদের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহ সন্তুষ্টি)

তিন, তাবলীগ ও ব্যাক্তিপ্রভাবিত নিয়ন্ত্রিত
বামদের নিয়ে মজার একটা কথা আছে- কথায় মিলল না নতুন দল কর। কওমী আলেমদের যিনি সিনিয়র তকর্ম পেয়ে যান তিনি নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে তার অনুগত মাদ্রাসা তৈরি করতে থাকেন, এই সব মাদ্রাসার ছাত্ররা মূলত সেই সিনিয়র আলেমের অনুসারী হিসাবে পরিচিত হয়। এই সব সিনিয়র আলেমদের কেউ কেউ সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত আবার কেউ কেউ তাবলীগের দাওয়াত কে প্রাধন্য দিয়ে সেটা নিয়ে পড়ে থাকে। আপনারা মাঝে মধ্যে যে হুজুদের রাস্তায় দেখেন তারা এই রাজনীতি জড়িত আলেমদের অনুসারীরা।

এখন যদি প্রশ্ন করি এরা কি কখনো ইসলামী হুকুমত বিষয়ে একমত হবে? কিয়ামত পর্যন্ত হবে না। স্পষ্ট কারণ দুইটি, এক, এরা কেউ কারো কাছে বাইয়াত নিবে না কারণ তারা সবাই মনে করে সে বেশি জ্ঞানী। দুই, হুকুমত বাস্তায়ন পদ্ধতি কখনো একজনের সাথে আরেক জনের চিন্তা ধারার মিল হবে না কেউ নিজের অবস্থান থেকে এক চুল সরবে না কারণ সেই অবস্থানই তার অস্তিত্ব।

বাংলাদেশের কথায় কথায় আলেবান শাসন আসছে বলে প্রচার করা হয়, আসুন আসলে এই ভয়ের বাস্তবতা দিক চিন্তা করি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে।
বাংলাদেশে কোন গোষ্টি তালেবান ধাচের শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় তাহলে দুইটি বিষয় আগে ফিলআপ করতে হবে।
এক, একই আদর্শের বড় জনগোষ্টি সমর্থন আদায় করতে হবে, উপরের ব্যাখা করেছি তা কেয়ামত পর্যন্ত সম্ভব নয়।
দুই, যুদ্ধ করার মত আর্থিক ও সামরিক অস্ত্র থাকতে হবে। বলেন তো যারা দান অনুদানে চলে তারা কি কখনো প্রতিষ্টিত একটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত আর্থিক ও অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারবে? এক কথা মনে রাখতে হবে বিদেশী কোন প্রভু স্বার্থ ছাড়া এগিয়ে আসবে না, তালেবানদের নিজস্ব আয়ের কাঠামো ছিল, বিশাল বড় রাষ্ট্র, পাহাড় পর্বতে লুকিয়ে বছরের পর পর যুদ্ধ করেছে। আফ্রিকার দিকে তাকালে দেখবেন একই দৃশ্য।

আর একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার এই সব মাদ্রাসায় যারা পড়ে তার ২০-২৫% শিক্ষা সম্পর্ণ করতে পারে, বাকিরা ঝরে যায়, হাফেজ হওয়ার পূর্বেই অনেক পড়া ছেড়ে দেয় অনেকে হাফেজ হয়ে কিছুদিন পড়ে এলাকায় গিয়ে মসজিদে ইমামতির চেষ্টা করে।
এরা তালেবান শাসন কায়েম করবে এই নিয়ে আতংকিত হওয়া হাস্যকর বরং চিন্তিত হওয়ার কথা হাজার হাজার অদক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে তা নিয়ে।

এই সব মাদ্রাসায় পড়ুয়ারা খুব বেশি সমাজে এগুতে পারে না, আর্থিকভাবে তো নয়ই তবুও কেন দিনে দিনে শত শত কওমী মাদ্রাসা গড়ে উঠছে? শুধু কি পরকালীন চিন্তা থেকে নাকি বাধ্য হয়ে? পরের পর্বে তা নিয়ে লেখার চেষ্ট করবো।

এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার চিন্তা-আদর্শ ও দেখার উপার ভিত্তি করে লেখা, আপনি ১০০% দ্বিমত থাকতে পারেন তবে যদি মন্তব্য করেন অনুগ্রহ করে কোথায় ভুল বলেছি বা ভুল তথ্য দিয়েছি সেটা উল্লেখ করলে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করবো।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×