somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাহিন মিশু
ভদ্রতার মানে এই না যে তাঁর ভেতরে ছেড়ে দেয়ার যথেষ্ট অন্ধকার স্বত্বা নেই! ভদ্রতা দিয়ে সেই অন্ধকারকে মানুষ সংযমে রাখে।প্রতিকূল পরিবেশের সাপেক্ষে তাই আমরা সবাই ভদ্রতার ভান করি।আমিও তাঁদের মাঝে একজন!!

"একটি অপমৃত্যু"

২৫ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




অপলক চোখে তাকায়া আছি সিলিং এর দড়ি পানে,
আর কিছু পর সমাপন হবে আমি অধ্যায়ের এখানে!
দুরু দুরু ভাব বুকের ভিতরের আসিছে ক্রমেই কমে,
রোমাঞ্চেতে সারাটা দেহ ভিজিয়া উঠিছে ঘেমে!
আর কিছু পরে ঝুলিয়া পরিবো,দেহেতে লাগিবে টান-
দেহ হতে যবে ছাদ আর মেঝে হয়ে যাবে ব্যাবধান!
সবেই আমি ঝুলিয়া পরেছি,নীচ হতে কিছু গেলো সড়ে-
অবাধ্য জোড় হাত কিসের কারণে দড়িকে রেখেছে ধরে??
দেহের ভারেতে পা'জোড়া শুধু কেন মিছে আশ্রয় খোঁজে-
সারাটা দেহতো ইতঃপূর্বেই রাজি ছিলো এই কাজে!
আত্নাটি কেন ভালোভাবে আগে দেহকে আনেনি বশে?
বিপদ হইলো দেহটি ব্যাথায় আত্নাকে যায় দুষে!!
মাথার ভিতরে কত শত কোপ অবিরত হানিছে আঘাত
নিঃশ্বাসখানা ক্রমেই কোথায় পেয়ে যাচ্ছে যেন বাধ!
একি!চারিদিকে কেন এত মিশেল রং,গলাতে কিসের স্বর?
দেহখানা যবে স্থির হতে চায়,প্রাণ কেন পায় ডর??
কিসের কারণ এত পরে এসে প্রাণ কুঠিরে লুকায়?
তবে কি সে যন্ত্রনাতে পুনঃ মুক্তির খোঁজ চায়???
হায়! ততক্ষণে সময় যে বড় বেশির মেরুতে চলে গেলো-
যন্ত্রনাতে সব কটা রং কালোতে মিশে এলো!
নিথর দেহের ভিতরের প্রাণ আলোর আশায় বিভোর-
চারিদিকের সকল আলো ভয়ে হলো ভয়াল কৃষ্ণ গহ্বর!!
আমার কল্পনা আর আবেগ হতে এযে অসীম অসহনীয়
জ্ঞানের ঊরধে এ যাতণাভার , দূরহ তা বহনীয়!!!
আঁধারের রাজ্যে মিসকালো আরেক অবয়ব এলো চলে
তামাম জাহানের ভার সাথে নিয়ে দেহেতে পরেছে ঝুলে!
ঐতো সে, জ্ঞান সীমার বাহিরের মত ভয়াল
মালাকুল মউত দেখিবে যে প্রাণ আগে ছিলোনা সেই খেয়াল!
মালাকুল মউত! সদয় হও! এই ব্যভিচারী দেহ তরে
হুংকার ছাড়ি সে দাপাইতেছে প্রাণ নিবে বলে দেহ চিড়ে!
প্রাণখানি সে যেমনে তেমনে টেনে হিঁচড়ে করিছে বাহির-
আর বলিতেছে অবাধ্য প্রাণ ইল্ল্যিন-সিজ্জিন্নে আজি হতে কোথাও নাই তোর নীড়!!!
যন্ত্রনা দিয়া বলিতেছে "হে! এটা শেষ নয় ,আজি হতে শুরু সবে-
অবাধ্য যার হলি শুধু সেই জানে এর সমাপন কবে!
পালিয়ে বেরা যত পারিস তুই যন্ত্রনা সাজা সাথ নিয়ে-
ক্ষণকাল অবসর তুই আর পাবিনা কোনো আড়াল গিয়ে!
শাস্তির বেড়ি গলেতে পরিয়া অপ আত্না আমার ছুটে!
আত্নবলির মিছে মোহ আর কোনো সজীব প্রানেতে না জোটে!


এই স্বল্প জীবনে ৩ বার মৃত্যুকে খুব,খুবই কাছ থেকে দেখে বেঁচে এসেছি। নিজে পূর্বের অভিজ্ঞতার বাস্তব ভয়ে অসার হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের বড় ভাইয়ের মৃত্যুকে একেবারে কাছ থেকে ঘটতে দেখেছি! :'( একবার আত্নহত্যার বৃথা চেষ্টা করেছি,কিন্তু পূর্বের দৈবক্রমে মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার কল্পনার ভয়ে ভীত হয়ে সামান্য এক ভীষণ বজ্রপাতের শব্দে পিছপা হয়ে যাই :P যার অভিজ্ঞতার আলোকে ছন্দ মালা লিখেছি।

পৃথিবিটা খুব সুন্দর,সেই সৌন্দর্যের অবলোকন ঈশ্বরের বেধে দেয়া এই স্বল্প আয়ুতে করা যায় না।আত্নহত্যায় আগ্রহি সকল সজীব প্রাণ সম্বলিত লোকের উদ্দেশ্যে মিনতি ও উৎসর্গ কৃত এই ছন্দ বিন্যাস।যাবার আগে একটিবার ভাবুন যাবার মাঝে আবার ফিরে আসার আকাংখাই প্রকট ,কিন্তু যাবার শেষের দিকে সে সময়টা বড় বেশি দেরি হয়ে যায়!নিজেকে হতাশ ও উদ্দেশ্যহীন ভাবার আগে ভাবুন ঈশ্বর প্রতিটি আত্নাকে একেকটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বানিয়েছেন!তাই নিজের অব্জেক্ট,চয়েস ও গোল সন্ধান করুন!সে যত কঠিনই হউকনা কেন এটা সবার ক্ষেত্রেই ফিক্সড সিচ্যুয়েশন!উদ্দেশ্যহীন সামান্য কারনকে বড় করে না দেখে এক বার নিজের সিচ্যুয়েশন ঘাটুন! আলোচিত ছন্দ মালা,উদ্দেশ্য,উৎসর্গ ও আলোচনার মূল ভাবনা অনেকের কাছে হাস্যকর ও উপদেশ মূলক হলেও মানিয়ে নিতে চেষ্টা করবেন!সকল সজীব প্রাণই হউক পরিপূর্ণ!!

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৫:০৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের দেশের নানান বাহারি নৌকার হারিয়ে গেছে অধিকাংশই। আসুন, জেনে নিই, কয়েকটির পরিচয়!

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:১২



আমাদের দেশের নানান বাহারি নৌকার হারিয়ে গেছে অধিকাংশই। আসুন, জেনে নিই, কয়েকটির পরিচয়!

গঠনশৈলী ও পরিবহনের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের নৌকার প্রচলন রয়েছে। এসব নৌকার রয়েছে মজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপরূপা চন্দ্রঘোনায় কাটানো কিছু দিন

লিখেছেন জুন, ২৩ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:১৩

আমার ছোট বেলায় এক অপার আনন্দ নিয়ে এসেছিল তিন মাস চন্দ্রঘোনায় অবস্হান। চিটাগাং থেকে চন্দ্রঘোনায় আব্বা বদলী হয়ে গেলেন তার কিছুদিন পরে আমাদেরকেও নিয়ে গেলেন সেই অপূর্ব জায়গাটি তে যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সোনালী কাবিন' যতবারই পড়ি ততবার রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয়

লিখেছেন এম. বোরহান উদ্দিন রতন, ২৩ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:০৫

'সোনালী কাবিন' যতবারই পড়ি ততবার রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয়, একজন কবি কি অসাধারণ সনেটই রচনা করেছেন, এমন একজন গুণী কবিকে আমরা তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিতে কৃপণতা দেখেছি প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে।

সোনালী কাবিন
কবি আল... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে মেয়েটির সাথে জ্বীন ছিলো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৩ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:১২



*** কেহ ১ জন আমার পোষ্টটিকে রিফ্রেশ করছেন; নিজকে সন্মান করুন, অপ্রয়োজনীয় কাজ করবেন না ***

তখন আমি ১০ম শ্রেণীতে; এক সকালে যখন স্কুলের দিকে পা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম আমরা :(

লিখেছেন কথার ফুলঝুরি!, ২৩ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২



আগে বলতে সময়টা খুব বেশীদিন আগেরও নয় যেখানে সামুতে আমার নিজেরই বয়স মাত্র ১০ মাস ৩ সপ্তাহ সেখানে আর কতদিন আগেইবা হবে ।
এইতো কিছুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×