somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারুন্যের জোয়ার এখন গাজার নিকোটিনে.......।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঘটনাটিকে মজাদার বলব নাকি দুঃখজনক বলব সে সিদ্ধান্তটা সচেতন দেশপ্রেমিকদের উপর ছেড়ে দিলাম!

বেশ কিছুদিন আগে,মাঝরাতে মোবাইল বেজে উঠল।মোবাইলের স্ক্রিনে দেখলাম,আমার খুব কাছের এক বন্ধুর নাম ভেসে উঠেছে!রিসিভ করার পর,ওপাশ থেকে ভেসে আসলো,দোস্ত!আমি তো শেষ!আমি বললাম,কি হয়েছে?সে বলব,ঘটনা পরে শুনিস।এখন ঘটনার রিএকশন হিসেবে আমার প্রচন্ড জ্বর আর বুক ব্যথা করতেছে।বললাম,সকাল হলেই তোর বাসায় আসতেছি।

সকাল বেলা ওর বাসায় গিয়ে আসল ঘটনা জানতে পারলাম!গত তিন মাস থেকে ফেসবুকে একটা মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত চ্যাটিং হত।তারপর তাদের মাঝে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে!আর সেই বন্ধুত্ব থেকে মন দেয়া নেয়ার পর্বটাও সম্পন্ন করে।বেচারা যখন প্রেমের সাগরে হাবুডুব খাচ্ছে,তখনই হাটে হাড়ি ভেঙ্গে পড়ল!অনেক জোরাজুরির পর তাদের মাঝে প্রথম যেদিন মোবাইলে কথা হল,সে দিন ওপাশ থেকে একটি ছেলের গলার আওয়াজ ভেসে আসল।তারপর সে বলল,ভাইয়া আমাকে ক্ষমা করে দিন।আমি বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে আপনার সঙ্গে এই কাজটা করেছি!শেষে দেখা গেল,ফেসবুকের ঐ মেয়ে রূপী ছেলেটা আমার বন্ধুর পূর্ব পরিচিত।

মাঝপথে এসে প্রেমের নৌকা ডুবে যাওয়ার কষ্টে,আমার বন্ধু জ্বর বাঁধিয়ে বসে!সেই সাথে বুক ব্যথা!এই হল আজকের তরুন সমাজের অবস্থা!আর পত্রিকার কল্যানে জানতে পেরেছেন,কয়েকদিন আগে ইডেন কলেজের এক তরুনী তার ২৪ জন বয় ফ্রেন্ডকে একসঙ্গে হাজির করেছিলেন।উগ্র আধুনিকতার প্রতিযোগিতায়,আমরা ভালই উন্নতি করেছি!

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!যে তরুনেরা প্রথমবারের মত ঢাকায় আসেন,ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলো দেখার পাশাপাশি তাদের আগ্রহে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কয়েকদিন আগে সন্ধ্যায়, এক প্রবাসী বাংলাদেশীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ঘুরে দেখাচ্ছিলাম!তখন বাতাসের প্রতি ভাজে মিশে ছিল,গাজার নিকোটিন।গাজা খোরদের উৎপাতে সম্প্রতি সোহরাওয়ারর্দি উদ্যানে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।তাই বলে কি তাদের গাজা খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে?
এখন টিএসসি থেকে শুরু করে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার পর্যন্ত গাজার আসরের স্থানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে!কি নারী কি পুরুষ!সমানে গাজায় টান চলছে!আর ভার্সিটির নির্জন জায়গা গুলোতে চলছে,প্রেমিক প্রেমিকার অবাধ মিলন!রাস্তায় দাড়িয়েই আলিঙ্গন বদ্ধ হয়ে একে অপরকে কিস করতেও তাদের বিবেকে বাঁধছে না!অথচ এরাই নাকি আবার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের ছাত্র এবং রাষ্ট্রের চোখে তরুন প্রজন্ম।

বেশ কিছুদিন আগে,একটি ইংরেজি জার্নালে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি নিবন্ধ পড়েছিলাম!সেখানে বলা হয়েছিল,“বাংলাদেশ সত্যি অনেক ভাগ্যবান।উন্নতির যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এখনই মৃখ্য সময়!কারন তাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই তরুন!আর কর্মক্ষম লোক সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৮%।আর এই উন্নতির সুযোগ তারা আর মাত্র ২৫ থেকে ৩০ বছর পাবে।কারন এই সময় পর তাদের তরুনদের সংখ্যা কমে যাবে।আর কর্মক্ষম লোকের সংখ্যাও কমে যাবে”।কিন্তু আমাদের তরুনদের প্রকৃত অবস্থান কোথায়?তারা কেউ মেতে আছেন তথাকথিত গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে,কেউ মেতে আছেন গাজা আর ইয়াবা নিয়ে আর কেউবা মাথা ঢুকাচ্ছে ফেসবুকের ইনবক্সে।

একটা সময় দেশের তরুন সমাজের লাইব্রেরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও আজ সেই সম্পর্ক হয়ে গেছে সাময়িক।পরীক্ষার আগের দিন লাইব্রেরীর দিকে ছাত্রদের ছুটতে দেখা গেলেও,বলতে গেলে সারা বছর এই চিত্রটা দেখতে পাওয়া যায় না।তাদের চিন্তা চেতনা এখন ভিন্ন খাতে!তাদের চিন্তার ভিন্নতা এবং প্রসারতার দিকে তাকালে মনে হবে,তারা যেন পুরো পৃথিবীটাকে উদ্ধারের দায়িত্ব গ্রহন করেছে।কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়,সে নিজেই তার জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়।কথায় সুরে লুকিয়ে থাকে উদাসী ভাব!দেশ নিয়ে কোন কথা বলতে গেলে,চট করে বলে দেন,“আরে এটাতো রাজনৈতিকদের বিষয়।এনিয়ে কথা বলাটা আমাাদের বেমানান”!দেশ নিয়ে যারা ভাবনার বিন্দু মাত্রও অবকাশ পান না,তাদের কাছে বেমানাই বৈকি!

বাংলাদেশের আন্দোলন গুলোর জাগ্রত ইতিহাস!যেখান থেকে শুরু হয়েছিল,ভাষা আন্দোলনের অগ্রযাত্রা।সেখান থেকে শুরু হয়েছিল,স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম ট্রেনিং,যেখান থেকে শুরু হয়েছিল স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ গাজার ধোঁয়ায় মলিন হয়ে গেছে!সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর আমাদের কে যোগ্য নেতৃত্ব উপহার দিতে না পারলেও একদল নেশাগ্রস্থ তরুন প্রজন্ম উপহার দিচ্ছে!যাদের বইয়ের ভিতরে সোভা পায় ইয়াবা সেবনের সিরিজ কাগজ!

জাতীয় কবি আমাদের জাতির করুন অবস্থা উপলবদ্ধী করে,“কান্ডারী হুঁশিয়ার” কবিতায় তরুনদের জেগে ওঠার আহব্বান করেছেন!

দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×