somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্ত্রাসবাদের অপর নাম ইসলাম!আসলেই কি তাই?

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পত্রিকার পাতা উল্টাতে গিয়ে একটি খবরে চোখ আটকে গেল!ব্রিটেনে হিজাব পরিধানকারী মুসলিম নারীকে লাঞ্জিত করেছে,এক খৃষ্টান নারী!সেই খৃষ্ঠান নারী,মুসলিম বোনটিকে বলতেছিল,“তোমার হিজাব খুলে ফেল।তোমার হিজাবের নিচে বোমা লুকানো আছে।বোমা মেরে মানুষ মারতে চাইলে,নিজের দেশে চলে যাও।আমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দাও”।

আজকে বিশ্বের দিকে তাকালে মনে হবে,সারাবিশ্বের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য শুধুমাত্র মুসলিমরাই দায়ী।আর এই সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করতে,পশ্চিমারা তথা খৃষ্টানরাসহ অন্যান্যরা বদ্ধ পরিকর।কিন্তু কথায় আছে,“সরীষার ভিতরেই ভূত থাকে”।

১৯৯০ সালে বসনীয়ার যুদ্ধের কথা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।বসনীয় যুদ্ধনিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “wittenberg university" এর ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও বিখ্যাত আমেরিকান গবেষক,‘কেইথ ডাউড’ এই রিপোটর্টি প্রকাশ করেন।

সেই গবেষনায় পাওয়া যায়,“সাবির্য়ার অথোর্ডক্স চাচের্র পাদ্রীরাই খৃষ্ট ধর্মকে ব্যবহার করে,সার্বিয় জনগনকে মুসলিমদের বিরূদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলে।তারা সার্বিয় খৃষ্টানদের নিয়মিত আর্শীবাদ করতে বেরিয়ে যেত এবং পুন্যলাভের উদ্দেশ্যে মুসলিমদের হত্যা করতে উৎসাহিত করত।আর এই পাদ্রীদের উৎসাহে উদ্বুদ্ধ হয়ে,সার্বিয় জনগন এবং খৃষ্টান সৈন্যরা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম গনহত্যায় ঝাপিয়ে পড়ে”।

১৯৯৪ সাল!ইতিহাসের পাতায় আরও একটি কালো অধ্যায়।আফ্রিকান দেশ হুতি এবং তুতসি উপজাতিদের মধ্যে একটি ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।উক্ত দাঙ্গায় সাধারন জনগনকে উস্কে দিয়ে গনহত্যা চালাতে উদ্বুদ্ধ করে,খৃষ্টান পাদ্রীরাই।১৯৯৬ সালে রুগান্ডার সামরিক আদালত ‘ফাদার উয়েনকেসাস মুনসেকাভা’ কে ধর্ষন এবং হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করে।আর সেই সামরিক আদালত ফাদারের অনুপস্থিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে।কিন্তু তার আগেই সেই খৃষ্টান পাদ্রী ফ্রান্সে পালিয়ে যান।

মধ্য আফ্রিকায় আজও চলছে মুসলিম নিধন।কিন্তু সেগুলোর একটিও আজ কোন মিডিয়ায় পাওয়া যায় না।সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল “নিউ ইয়র্ক টাইমস” মধ্য আফ্রিকার মুসলিমদের নিয়ে একটি রিপোর্ট করে।

বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ও এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকান গবেষক ‘ডুয়ান কোলি’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন।সেই রিপোর্ট অনুসারে পাওয়া যায়,বিগত শতাব্দিতে গোটা বিশ্বে মুসলিম সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় দুই মিলিয়ন বা ২০ লক্ষ লোক নিহত হয়েছে।আর এর বিপরীতে খৃষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের হাতে প্রায় একশত মিলিয়ন বা দশ কোটি মানুষ নিহত হয়েছে।এর মানে দাড়াল,বিগত বিংশ শতাব্দিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সর্বমোট ১০ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে।যার ২% সংঘঠিত হয়েছে মুসলিমদের দ্বারা আর বাতবাকী ৯৮% হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে খৃষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীরা।(সূত্রঃ বৃটেন টাইমস সাময়িকী)

আজ শুধুমাত্র মিডিয়া অপপ্রচারের কারনে,বিশ্বের পুরো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভার মুসলিমদের একার বহন করতে হচ্ছে।আর এর জন্য দায়ী আমরা মুসলিমরাই।আজ আমরা পড়াশুনা থেকে অনেক দূরে।নিজের একাডেমিক পড়াশুনার বাহিরে,আর কোন পড়াশুনা করবার সুযোগই নেই।

কয়েকদিন আগে কয়েকজন বন্ধুসহ গল্প করতেছিলাম।তারা অধিকাংশরাই প্রাইভেট ভার্সিটির ষ্টুডেন্ট।প্রসঙ্গক্রমে একজন বলে উঠল,ইসলামে জিহাদের কোন অস্তিত্বই নেই(!)ওনাকে বললাম,কোরআন কতবার খতম দিয়েছেন।বোখারী শরীফ কিংবা সিহাহ সিত্তাহ হাদীসগুলোর নাম কোন দিন শুনেচেন কি?তাকে বললাম,কান খুলে শুনে রাখুন,পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ৪৩ বার জিহাদের কথা উল্লেখ করেছেন।এটাই হল আজকের মুসলিম তরুনদের অবস্থা!

রাত হলে মোবাইলে,কিংবা ভাইবার আর হোয়াটসএপে ফিসফিসানি আর দিন হলে পার্কগুলোতে গার্লফ্রেন্ডদের হুকুম তালিম করলে,তাদের কাছে এর থেকে বেশি কিছু আশা করাটাই বোকামী!

প্রিয় মুসলিম তরুন ভাই ও বোনেরা!কতোদিন আর পাশ্চাত্যের গোলামী করবেন?এবার নিজের সংস্কৃতির দিকে ফিরে আসুন।নিজেকে একজন মুসলিম মিডিয়া হিসেবে প্রকাশ করুন।আপনার মুখ দিয়ে ইসলামরে সৌন্দর্য এবং মহত্ব প্রকাশে এগিয়ে আসুন।নিজের ফেসবুক ওয়ালটাকে সেলফিতে আর পাগলদের মত অহেতুক বিষয় দিয়ে ভরিয়ে না রেখে,ইসলামের প্রচোরে এগিয়ে আসুন।বাতিলের মুখটাকে আপনার জ্ঞান এবং গরীমা দিয়ে বন্ধ করে দিন।আর এর জন্য আপনাকে আল্লাহপাকের কালাম আল কোরআন এবং রাসূল (সাঃ) র হাদিসের পাশাপাশি সবধরনের বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

প্রিয় বোনরা,আপনাদের মেধা এবং মননসীলতাগুলোকে ষ্টার জলসা এবং জি বাংলার মাঝে বিলিন করে দিবেন না।আপনারা হবেন,আমাদের আগামী প্রজন্মের মা।আপনার জন্য অপেক্ষা করছে,জয়নাব আল গাজ্জালীর সেই সংগ্রাম মুখর জীবন।আপনার জন্য অপেক্ষা করছে মজলুম আফিয়া সিদ্দিকীর জীবনাচারন।আপনি তাদেরকে গড়ে তুলবেন,পরিপূর্ন ইসলামী চেতনা এবং জিহাদী বাসনায়।তারা হবে আমাদের আগামীর,মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম কিংবা সালাউদ্দিন আউয়ুবী অথবা নূর উদ্দিন জঙ্গির মত মুসলিম সেনাপতি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:১১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×