somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দানবীর হাতেম তাই থেকে তার ছেলে আদী বিন হাতেম...............................

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলায় বিটিভিতে বেশ কিছু সিরিয়াল দেখতাম। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘দ্যা নিউ এডভেঞ্জার অফ সিনবাদ’ ‘টারজান’ ‘হাতেম তাই’ ইত্যাদি।

হাতেম তাই সিরিয়ালটা সম্ভবত ‘একুশে টিভি’তে দেখানো হতো। একজন দানশীলের কাহিনী। প্রথমে ভাবতাম অন্যান্য সব সিরিয়ালের মত এই হাতেম তাই সিরিয়ালটাও কাল্পনিক। কিন্তু এটা কোন কাল্পনিক ঘটনা নয়। এটি রাসূল (সঃ) এর সাহাবী আদী বিন হাতেম (রাঃ) এর আব্বার ঘটনা।

হাতেম তাই ছিলেন তায়ী গোত্রের রাজা। আর তায়ী গোত্র ছিল খ্রীষ্টান গোত্র। হাতেম তাই মারা যাবার পর আদী বিন হাতেম-ই হন তায়ী গোত্রের রাজা। সেই সময় আরবের চারদিকে ইসলামের বিজয় নিশান উড়তে শুরু করেছে। তখন আদী বিন হাতেম ভাবলেন,রাসূল (সঃ) হয়তো তার রাজত্ব কেড়ে নিতে পারে। তাই তিনি তার পরিবার এবং গোত্রসহ সিরিয়াতে চলে যাচ্ছিলেন। যেখানে আদী ইবনে হাতেমদের ধর্মানুসারীরা বসবাস করে।

তাড়াহুড়ো করে যাবার কারণে, পথিমধ্যে আদী ইবনে হাতেম এর ছোট বোন এবং গোত্রের বেশ কয়েকজন ছাড়া পড়েন। যারা পরবর্তিতে মুসলিমদের হাতে বন্দি হন। আদী ইবনে হাতেম এর বোন মুসলিমদের হাতে বন্দি হবার পর, রাসূল (সঃ) কে বলেন আমি একজন অসহায় নারী। আপনি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন এবং আমাকে সিরিয়া পৌছানোর ব্যবস্থা করুন। রাসূল (সঃ) বেশ কয়েকটি উট যাত্রার জন্য সজ্জিত করলেন এবং আদী বিন হাতেম এর বোনের সিরিয়া পৌছাতে খরচ লাগবে তা তিনি দিয়ে দেন এবং তাকে সিরিয়া পৌছানোর ব্যবস্থা করেন।

আদী বিন হাতেম তার বোনকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্নহারা হয়ে যান। তখন আলী ইবনে হাতেম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, রাসূল (সঃ) এর সঙে দেখা করবেন। তিনি মক্কার পথে রওনা হয়ে গেলেন।

আদী বিন হাতেম মসজিদে ঢুকে রাসূল (সঃ) কে সালাম দিলেন। রাসূল (সঃ) তার সঙে হাত মেলালেন এবং সঙে করে নিজের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে, এক অসহায় মা রাসূল (সঃ) এর সঙে কথা বলতে চাইলেন। রাসূল (সঃ) দাঁড়িয়ে থেকে সেই মায়ের সমস্ত কথা শুনলেন। এই চিত্র দেখে আলী বিন হাতেম ভাবলেন, এটা কোন রাজা কিংবা বাদশাহ এর ব্যবহার হতে পারে না।

রাসূল (সঃ) আদী বিন হাতেম কে বললেন,তুমি মিরবা নামক জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় এমন কিছু দ্রব্য গ্রহণ করেছো যা তোমার ধর্মে নিষিদ্ধ। এই কথা শুনে আদী বিন হাতেম নিশ্চিত হয়ে যান যে, ইনিই আল্লাহর রাসূল।

রাসূল (সঃ) আদী বিন হাতেমকে বলেন, তুমি সম্ভবত ইসলাম গ্রহণ করছো না তিনটি কারণে! প্রথম কারণ, মুসলমানদের অভাব ও দারিদ্রতা দেখে। আল্লাহর শপথ অচিরেই মুসলিমদের সম্পদ এতো বেশি হবে যে জাকাত গ্রহণ করার মানুষ থাকবে না। যা সত্যি প্রমাণিত হয়, হযরত উমর (রাঃ) খেলাফতকালীন সময়ে।

দ্বিতীয় কারণ, তুমি সম্ভবত ইসলাম গ্রহণ করছ না মুসলিমদের সংখ্যা কম দেখে এবং তাদের শত্রু বেশি দেখে। রাসূল (সঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! খুব শীগ্রই এমন হবে যে,সুদূর কাদেসীয়া থেকে নারী আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করতে আসবে।

তৃতীয় কারণ, সম্ভবত অমুসলিমদের হাতে রাজত্ব দেখে তুমি ইসলাম গ্রহণ করছো না। রাসূল (সঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! খুব শীগ্রই পাবে বাবেলের শুভ্র ভবনটি মুসলিমরা বিজয় করবে এবং হরমুজের ধন ভান্ডার মুসলিমদের করতলে চলে আসবে।

তখন, আদী বিন হাতেম রাসূল (সঃ) এর হাতে হাত রেখে ইসলাম গ্রহণ করেন। দানবীর হাতেম তাই এর পুত্র আদী বিন হাতেম (রাঃ) হয়ে যান পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের সাহাবী। আর রাসূল (সঃ) এর বর্ণিত ভবিষ্যৎবানীর সবগুলোই আদী বিন হাতেম (রাঃ) নিজ চোখে অবলোকন করবার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।

ওয়া আখিরিদ্বীনা ও’য়া আনিল আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×