somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র্যাবের সাজানো অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হল সরকারের জঙ্গি বিরোধী তৎপরতা

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘জঙ্গি তৎপরতা তো চলছে। তরুণদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জঙ্গিবাদে দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমরা সবাই এর বিরুদ্ধে। কিন্তু জঙ্গিবাদ দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন আইনবহির্ভূতভাবে কিছু না করে, সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি।’ শুরু করলাম মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য দিয়ে যা সম্পূর্ণ ঘটনার সারাংশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এবার আসি মূল ঘটনায়। আইএস তৎপরতার সময় দেখেছিলাম ৬ জঙ্গির দ্বারা প্রায় ২০ জনের বেশি বিদেশী নাগরিক হত্যার স্বীকার হয়েছিলেন হলি আর্টিজানে। এর পর দেশের সর্বত্র মানুষের মধ্যে জঙ্গি বিরোধী মনোভব গড়ে ওঠে। আইন রক্ষাকারী বাহিনিও মোটামোটি জঙ্গিবিরধী অভিযান করে জনগনের বিশ্বস্ততা অর্জন করেছিলো।

তবে এবার চট্টগ্রামে হুজির জঙ্গিদের গ্রেফতারের নাটক করে র্যাব জনগনের সাথে সত্যিই বেইমানী করে বসলো এবং নিকৃষ্ট উদাহরন রেখে গেল। সংবাদপত্র আর জিডি সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের থেকে পরিষ্কার চট্টগ্রামে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচ যুবককে অনেক আগেই তুলে নেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী লোকজন ছয় মাস থেকে এক বছর আগে তাঁদের তুলে নিয়ে যান। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পৃথকভাবে অভিযোগ করে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ওই পাঁচ যুবক যে, গত ২৯ নভেম্বর মাইক্রোবাসে করে তাঁদের চট্টগ্রামে র‍্যাব-৭-এর কার্যালয়ে আনা হয়। সেখান থেকে ৮ ডিসেম্বর ভোরে উত্তর কাট্টলীর একটি বাসায় নেওয়া হয়। ওই বাসায় আগে থেকেই অস্ত্র, গুলি, বোমা রাখা ছিল। তাঁরা একজন আরেকজনকে চেনেন না বলে দাবি করেন। আদালতের কাছে তাঁরা অভিযোগ করেন, র‍্যাবের অভিযানের ঘটনা সাজানো নাটক। আদালতের কাছে বিচার চান তাঁরা।

র‍্যাবের ওই অভিযান শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রেপ্তার নুরে আলমের ছবি দেখে তাঁকে শনাক্ত করে পরিবার। তাঁর মা নীলফামারীর বাসিন্দা নুর নাহার সাংবাদিকদের বলেন, গত ১১ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টা থেকে দুইটার দিকে তাঁর ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যান মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে আসা কিছু লোক। তাঁরা নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি এ ঘটনায় তখন থানায় জিডি করেন।

পরদিন ইফতিশাম আহমেদের বাবা রংপুরের ব্যবসায়ী শেখ ইফতেখার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ছেলেকে ২৯ এপ্রিল রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে রাজশাহী নগরের মোন্নাফের মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তখন রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় জিডি করেন। শেখ ইফতিশাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

গ্রেপ্তার নাজিমউদ্দিনের স্ত্রী যশোরের মনিরামপুরের বাসিন্দা নাজমা আক্তারও র‍্যাবের অভিযানের পরদিন সাংবাদিকদের বলেন, ২৫ মে ঢাকা থেকে সাদাপোশাকের একদল লোক নাজিমউদ্দিনকে তুলে নিয়েছিল। তাঁরাও থানায় জিডি করেছিলেন।সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে এসব জিডির সত্যতা পেয়েছেন।

সর্বশেষ গতকাল ফরিদপুরে তাজুল ইসলামের পরিবার সাংবাদিকদের বলে, গত বছরের ৪ নভেম্বর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য তাজুলকে মানিকগঞ্জ থেকে তুলে নিয়ে যান।

গতকাল আদালতে নাজিমউদ্দিন বলেন, গত ২৫ মে ঢাকার মিরপুর থেকে সাদাপোশাকধারী কিছু লোক তাঁকে তুলে নিয়ে যান। গত বৃহস্পতিবার ভোরে র‍্যাব তাঁকে চট্টগ্রামের এ কে খান এলাকায় ছেড়ে দেয়। তারপর আবার গ্রেপ্তার করে।

তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রায় একই বর্ণনা দেন শেখ ইফতিশাম আহমেদও। তিনি আদালতকে বলেন, গত ২৯ এপ্রিল রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কিছু লোক রাজশাহীর একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর অন্ধকার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সব সময় চোখ বাঁধা থাকত, হাতে পরানো হতো হাতকড়া।

আদালতে নুরে আলম বলেন, ১১ এপ্রিল নীলফামারী শহরের বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। তাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের একটি মাদ্রাসা থেকে সাদাপোশাকধারী কিছু লোক তাঁকে তুলে নেয়। আবুজার গিফারী বলেন, কুষ্টিয়া থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় গত ২৮ জুলাই।

ইতিপূর্বে নাঃগঞ্জে ৭ খুন র্যাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়েছিল আর এবারের ঘটনার পর জনগন র্যাবের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখবার আর কোন কারন খুজে পাবে কিনা বলা মুশকিল। অতিদ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবার সুপারিশ করছি কেননা এখানে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×