
না কিছু ভুল শুনেনাই। ১৭ বছর পর ভারতে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট নিয়ে আশা মানুষী জানিয়েছেন বলিউডে আসার কোনো ইচ্ছাই তার নাই। কারণ, তিনি মনে করেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হওয়ার মানেই বলিউডে প্রবেশপথ তৈরি নয়, বরং এ খেতাব পাওয়ার মানে বড় আকারে ভালো কোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবার সুযোগ পাওয়া। তাই বলিউডের জৌলুশে ভরা জগতে নয়, মানুষী ব্যস্ত থাকতে চান স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত গ্রামের নারী ও শিশুদের নিয়ে।

চিকিৎসক পরিবারে জন্ম নেওয়া মানুষীর নামের অর্থ মানবিকতা। শৈশব থেকেই মানুষের জীবনকে মূল্য দেওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন তাঁর চিকিৎসক মা-বাবার কাছ থেকে। মানব সেবায় যুক্ত থাকতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেন ২০ বছর বয়সী এই সুন্দরী।

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ আসরে যাওয়ার আগেই ‘প্রজেক্ট শক্তি’ নামে নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রকল্প নিয়ে ভারতের ২০টি গ্রামের পাঁচ হাজার নারীর কাছে গিয়েছেন তিনি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত মানুষদের নিয়েও ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর। কার্ডিয়াক সার্জন হওয়ার জন্য অনেক আগেই মনস্থির করে রেখেছেন।

প্রশ্ন-উত্তর পর্বে উপস্থাপক মানুষীকে প্রশ্ন করেছিলেন কোন পেশার বেতন সব থেকে বেশি হওয়া প্রয়োজন?
উত্তরে মানুষী বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, মাতৃত্বের দায়িত্ব সবচেয়ে বড় আর কঠিন। এ পেশার মূল্য সবচেয়ে বেশি দেওয়া উচিত। মূল্য বা বেতন যে সব সময় নগদ অর্থেই দিতে হবে, তা কিন্তু নয়। একজন মা জীবনে যা ত্যাগস্বীকার করেন, তাঁর প্রতিদান দেওয়া যেতে পারে প্রচুর সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে।’
আমি মানুষ হিসেবে অনেক সেকেলে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ নামক প্রতিযোগিতাকে কখনোই ভালো চোখে দেখতে পারিনাই। বিশেষ করে ভয়ংকর ভারত বিদ্বেষী মনোভব পোষণ করি। কিন্তু এবারের ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ ২০১৭ বিজয়ী ভারতের মানুষী ছিল্লরকে স্যালুট না করে থাকতে পারলাম না। আশাকরি প্রতিটি সন্তানের মা যেন অত্যাধুনিকা না হয়ে মানুষীর মত মানবিকতা সম্পন্ন মেয়ে হতে পারেন। ধন্যবাদ, শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


