জন্মের পর থেকেই মালাউনের সাথে খেলাধুলা, একটু বড় হয়ে মালাউনের বাড়িতে গিয়ে পড়ালেখা করা, মালাউনের বাসায় খাওয়া, মালাউনকে নিজের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়ান, মালাউনের বাড়িতে লুকিয়ে লুকিয়ে সিনেমা দেখা, মালাউন মেয়ের প্রেমে পড়া..........
আমার যে কয়টা প্রিইইইইইইইয় বন্ধু আছে তার বিশাল একটা অংশ জুড়ে আছে মালাউন বন্ধু। প্রাইমারী স্কুল থেকে সেই যে একসাথে পথচলা আজ অবধি থামতি নেই। কলেজে যে চারজন জুটি বেঁধে ঘুরতাম তার আধাআধি মালাউন আর শেখ। ওহ, আমি যখন তাদেরকে মালাউন বলি তারা তখন আমাকে শেখ ডাকে। জবাবের পালটা জবাব আরকি। ব্যাপারটা ভালই উপভোগ করি। এবং এই ডাকার ব্যাপারে আমাদের কখনোই কোন অভিযোগ ছিলনা। আজ অবধি নেই। আমার কাছে কভু মনে হয়নি মালাউন নিচু জাত! মালাউন ঘেন্নার বস্তু! মালাউন বন্ধু হতে পারেনা! বরং আমরা তো এক থালায় ভাত খাই, এক বিছানায় ঘুমাই, একটা খাবারও আধা আধি করেই খাই।
একটা স্মরণীয় কাহিনী মনে পড়ে গেল, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং করার জন্য সেখানে অনেক দিন ছিলাম। সেই সুবাদে এক রোজার দিনে ইফতার করতে সেখানের এক মসজিদে গিয়েছিলাম। আমার প্রিয় বন্ধুটি তাই হঠাৎ ইচ্ছা প্রকাশ করলো যে সে আমাদের সাথে মসজিদে ইফতার করবে। আমরা তো সেই পরিমানে উত্তেজিত, মালাউন হয়ে শেখের প্রার্থনাস্থানে ইফতার! তাই বলে মসজিদে! কি আর করা, হাসি চেপে রেখে গেলাম একসাথে মসজিদে। যথাসময়ে ইফতারের সময় হল এবং আমরা মসজিদে সারিবদ্ধ হয়ে ইফতার করা শুরু করলাম। এতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপারটা স্বাভাবিক ছিল কিন্তু হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হয়ে গেল যখন নামাযের সময় হয়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মসজিদের গেইট বন্ধ করে দেওয়া হল আর সবাই একে একে নামাজে দাঁড়াতে শুরু করলো। আমি বারেবারে তার দিকে তাকাই আর হাসি। মনে মনে বকি, শ্লা এইবার খাইলি ধরা। সে চোখে ইশারা দিয়ে বলল, যা হবার হবেনে। নামাজটা পড়েই নিই! এবং আমরা এক লগে মালাউন-শেখ মিলে সেই রোজার মাসে মাগরিবের নামাজ সম্পন্ন করি। (কই আর নামাজ পড়েছিলাম, তার অন্যের দিকে চেয়ে নামাজ পড়ার স্টাইল দেখে হাসতে হাসতে অবস্থা শেষ)
তার এই মনোভাবে আমি এমন অবাক হয়েছিলাম যে সেদিনের পর থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
আমরা শেখ-মালাউন বন্ধুরা মিলে একলগে গো-মাংস ভক্ষণ করি। না না, শুধু তাদের দিকটাই তুলে ধরলাম তা না, আমি নিজেও তাদের পূজাতে প্রসাদ খেতে যাই। এইতো কয়েকদিন আগে সরস্বতী পূজাতে যত্তগুলা পিঠা খেয়ে এসেছি। একাই দুই তিনজনের খাবার মেরে দিয়েছি। পূজাতে তারা দাওয়াত না দিলেও দলবেঁধে তাদের বসায় চলে যাই। দল বেঁধে মন্ডপে ঘুরি আর কোন মূর্তিটা বেশ সুন্দর হয়েছে তা নির্বাচন করি।
আমার মালাউনে সমস্যা নাই, আপনার আছে? মালাউনে সমস্যা........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






