ছুইতে চাইবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থিকা
একদিন আমাদের মাঝে প্রেম হইয়া গেল।
দুইজনে তাই ক্বীন ব্রিজের পাড়ে দেখা করতে গেলাম।
মুখোমুখি বসে এক বাটি ফুচকা খাইতে খাইতে পরস্পরের দিকে চেয়ে রইলাম।
কিন্তু অত লোকের মাঝে আমরা প্রেম করব কি করে?
মিছামিছি পাখি দেখাইবার কথা বলে গালে চুমা খাইব কি করে?
হাতের 'পরে হাত রেখে উষ্ণ হইব কি করে?
তাই আমরা হাঁটতে শুরু করলাম।
হাঁটতে হাঁটতে কাজির বাজার ব্রিজে চলে গেলাম।
এইখানে সবাই খিলখিল করে হাসতে পারে,
একসাথে মিলে গান গাইতে পারে।
যেন বেহেস্তের ভেতরে আমরা পাশাপাশি বসে।
চোখ বুজে প্রেমিকা রবীন্দ্র গীত গাইতে শুরু করলো।
আমি তার দিকে চেয়ে থাকি।
সুরমা নদীতে ঝিরিঝিরি বাতাস বয়ে চলে।
গানের আবেশে তার মুখখানি হলুদাভ হইয়া উঠে।
নিয়ন আলোরেও আমার রবীন্দ্র গীত মনে হইতে থাকে।
হঠাৎ গান ছেড়ে প্রেমিকা আমারে কইল, এইবার তুমি গেয়ে শুনাও।
"পাখিরে তুই দূরে থাকলে কিছুই আমার ভাল লাগেনা।"
দুইজনে একসাথে গাইতে গাইতে আমরা নদীর দিকে চেয়ে থাকি।
পাছে কত মানুষ হেঁটে চলে, কথা বলে, গান গায়।
কিছুই আমাদের মোহ ভাঙ্গতে পারেনা।
আমরা গাইতে থাকি।
যদি কোনদিন আমার পাখি, আমায় ছেড়ে দূরে চলে যায়-
এই লাইনটি গাইতেই প্রেমিকা আমার হাত চেপে ধরে।
হেসে আমিও তার হাত ধরি।
হাত ধরে আমরা গাইতে থাকি।
হাত ধরে আমাদের সময় বয়ে চলে।
হাত ধরে আমাদের রাত কেটে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




