
আনারস চাষ করে অনেকেই মুনাফার মুখ দেখেছেন। কিন্তু, তাঁরা আপনাকে এটা জানান না যে, এই ফলটি চাষ করেও লক্ষাধিক টাকার মুখ দেখা যায়। এ নিয়ে আজ একটু আলোচনা করবো। তবে, ধাপে ধাপে।
১ম ধাপঃ
আনারস চাষ সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে একটি ট্রেইনিং নিয়ে নিন। এটা আপনাকে একজন কৃষি ব্যবসায়ী হবার জন্যে সাহস যোগাবে। তারপর, আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ে একটি ছোটখাটো কোর্স করে ফেলুন- অন লাইনে অথবা আই,বি,এ থেকে।
২য় ধাপঃ
আনারস চাষ করা যায় এমন ১ বিঘা জমি খুঁজতে থাকুন। এছাড়া, আনারসের চারা কোথায় পাওয়া যায়, কত দাম, লাগাতে কত খরচ, দক্ষ শ্রমিক কোথায় আছেন, তাঁদের বেতন কত, কোথায় আনারস বিক্রি হয়- এসব সম্পর্কে খোঁজ করতে থাকুন। মনে রাখবেন, এই তথ্যগুলো ডাইরীতে টুকে রাখার সাথে সাথে গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সে সেইভ করে রাখতে ভুলবেন না।
৩য় ধাপঃ
একটি কোম্পানী গঠন করুন। পার্টনারদের মাঝে দায়িত্ব বন্টন করে দিন।
৪র্থ ধাপঃ
কোম্পানীর নামে জমি লিজ নিন। এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ভূমি লিজ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল উকিলে সাহায্য নিতে হবে।
৫ম ধাপঃ
জমিকে আনারস চাষের জন্যে প্রস্তুত করুন। এখানে মনে রাখতে হবে যে, জমিটির মাটি ঝড়ঝড়ে ও সমতল হতে হবে। এমন ভাবে জমি তৈরী করতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি না জমতে পারে। আনারসের চারা লাগানোর জন্যে জমি তৈরী করার সময় বেড সিস্টেমে করতে হবে, অর্থাৎ, একটু উঁচু রাখতে হবে। এই বেড ১৫ সে,মি, উঁচু এবং ১ মিটার প্রসস্থ করে তৈরী করতে হবে। এক বেড থেকে আরেক বেডের দূরত্ব হতে হবে ৫০-১০০ সে,মি। জমি প্রস্তুত করার সময় গোবর, ইউরিয়া, জিপসাম, টিএসপি, এমপি জাতীয় সার ব্যবহার করা হয় আমাদের দেশে। তবে অর্গানিক উপায়ে চাষ করতে হলে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যাবে না। এর বদলে, মাটিতে ভার্মী কম্পোস্ট ব্যবহার করতে হবে।
৬ষ্ঠ ধাপঃ
আনারস গাছ বছরে দুইবার ফলন দিতে পারে। তবে, এজন্যে হরমোন ব্যবহার করতে হয়। প্রথম বার আনারস চারা লাগানোর মৌসুম হচ্ছে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এই সময়টা ছাড়াও অন্য মাসে করা যায়। তবে, জমিতে সেচের সুবিধা না থাকলে, এই সময়টাই যথোপযুক্ত।
বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করলে হানিকুন ও জায়েন্ট কিউ জাতের আনারস চাষ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। একেক বিঘায় হানিকুইন ৩-৪ টন এবং জায়েন্ট কিউ ৪-৫ টন ফলন হয়। চারা রোপনের সময় এক চারা থেকে আরেক চারার দূরত্ব ৩০-৪০ সে,মি, রাখতে হবে।
৭ম ধাপঃ
জমিকে সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। আর, চারার উপরের দিকের পাতা বেশি লম্বা হতে দেওয়া যাবে না, ৩০ সে,মি, রেখে বাকিটুকু কেটে ফেলতে হবে।
৮ম ধাপঃ
যেহেতু হরমন ব্যবহার করে চাষ করার পদ্ধতি সম্পর্কে এই লেখা, সেজন্যে ছয় মাসের মাথাতেই ফল আহরণ করা সম্ভব। একেক বিঘা জমিতে ৩০০০-৪০০০ পিস হানিকুইন আর ২০০০-২৫০০ পিস জায়ান্ট কিউ আহরণ করা সম্ভব।

খরচের হিসেবঃ
প্রথমেই জেনে নিই যেসব খাতে টাকা ব্যয় করতে হবে, সেগুলো কি কি। লাভের জন্যে আনারস চাষ করতে হলে নিম্নের খাতগুলো আসে-
ক) জমি লিজ, খ) জমি প্রস্তুতকরণ, গ) কোম্পানী গঠন, ঘ) চাষের যন্ত্রপাতি ক্রয়/ভাড়া, ঙ) অফিসঘর, স্থায়ী লেবারদের থাকার জায়গা, গার্ড ঘর তৈরী, ফেন্সিং করা, চ) আনারসের চারা, ছ) হরমোন, জ) রক্ষণা-বেক্ষণ, ঝ) ফল আহরণ, ঞ) মার্কেটিং
এই হিসেবে ৩ বছরের একটি ১ বিঘা জমির প্রজেক্টে মোট খরচ ১,২০,০০০ টাকা। এটাই আপনার মূলধন।
এখন, সিজন ও অফ সিজন মিলে একেকটি বড় আনারসের মূল্য গড়ে ২০টাকা। সেই হিসেবে একেক বিঘায় গড়ে প্রতি বছরে যদি গড়ে ৭০০০ পিস হানি কুইন জন্মে তাহলে ২০টাকা দরে বেঁচে দেওয়ার পরে তা থেকে ১,৪০,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। এই ভাবে, ৩ বছরে ৪,২০,০০০ টাকা আয় করা যাবে। ১০% আনারসের পচে যাওয়া থেকে এই ৩ বছরে যদি ৪২,০০০ টাকা কমেও যায়, তবুও, ১ বিঘা জমিতে ৩,৭৮,০০০ টাকা লাভ পেতে পারে আপনার কোম্পানী।
এখানে, একটি তথ্য দিয়ে রাখি, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫৪০ মেট্রিক টন আনারস বিদেশে রপ্তানী হয়। আর, যে ৭টি দেশ সবচেয়ে বেশি আনারস আমদানী করে সেগুলো হচ্ছে- আমেরিকা, হল্যান্ড, চীন, স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানী এবং ফ্রান্স।
আশা করি, আমার লেখাটি আপনাদের উপকারে দিবে। তাহলে, এবারে, আমার ফিস-টি দিয়ে দিন, প্লিজ!
এ নিয়ে কোন সাহায্য লাগলে এই ঠিকানায় ইমেইল করতে পারেন
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





