
আমার অনেক টাকা চাই। অনেক! এই 'এতো' টাকা দিয়ে আমি করবো? জানি না। তবু, কমিশনের ব্যবসা ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের সম্ভাবনাময় উন্নয়ন পিছিয়ে যাক, দরিদ্ররা রাস্তায় ঘুমাক, অনাথ শিশুরা রেস্তোরার দরজায় দরজায় বেলুন আর ফুল বিক্রি করুক। ক্ষতি কি তাতে! আমি তাদেরকে রাস্তায় রেখেই দিব্যি গাড়ি দৌড়িয়ে নিজের প্রাসাদপম বাসায় ঢুকে নিশ্চিন্তে নাক ডাকিয়ে ঘুমাবো।
আসলে, এই দরিদ্রদের ব্যাপারে আমি কি আর করতে পারি! স্বয়ং রাষ্ট্র যেখানে কিছু করছে না, সেখানে আমার দেশের ৪২ শতাংশ দরিদ্রকে কিছু করা সম্ভব নয়। আমি তো ঈদের সময় যাকাতের কাপড় দিইই! ১৮৬ টাকা কিউবিক মিটারের সরকারী ড্রেজিং কন্ট্রাক্টে আমি আর আমার সহযোগীদের পকেটে ৬ শতাংশ কমিশন ঢুকে যায়। বেচারা ড্রেজিং ব্যবসায়ী লাভের আশায় ১ কোটি কিউবিক মিটারের কন্ট্রাক্টকে ভুজুং-ভাজং দিয়ে ১.৫ কোটি্র বিল বানিয়ে রাষ্ট্রের পাছায় কষে লাথি মারে। তাতে আমার কি! বালুর ব্যবসায়ী ১০ টাকা কিউবিক ফিটের কন্ট্রাক্ট নিয়ে ৮ টাকায় সাব-কন্ট্রাক্টে দিয়ে দেয়। কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেওয়ার জন্যে আমার পকেটে প্রত্যেক কিউবিক ফিটে ঢুকে ৫০ পয়সা। সাব-কন্ট্রাক্টর যদি ৮ টাকায় বালু সাপ্লাই দিতে পারে, তাহলে, মূল কন্ট্রাক্টর ১০ টাকায় সরকারী টেন্ডার পায় কি করে! আমার সেটা জানার প্রয়োজন নেই।
আমি যা জানি তা হচ্ছে, এভাবেই দেশটা চলছে। পাকিস্তান-ফাকিস্তানকে টেক্কা দেওয়ার মাঝেই আমাদের উন্নতির গতিধারা সীমাবদ্ধ। উন্নত দেশের কাতারে চলে যাওয়া দেশগুলোর সাথে কিভাবে টক্কর দিতে হয়, তা আমাদের না জানলেও চলবে! বঙ্গবন্ধুর সমতাভিত্তিক, শোষণ-বঞ্চনাহীন ও ন্যায়ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা গড়ার স্বপ্ন আমার মনে আর দাগ কাটে না। জীবন এভাবেই চলছে, চলবে!
===================================
আজ প্রথম আলোতে প্রকাশিত বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ রেহমান সোবহানে্র একটি সাক্ষাৎকার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পোস্টটি লিখেছি।
==============================================================================
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



