
৯৮৮ খিস্টাব্দ। প্রাচীন চট্টগ্রামের এক রাজপুত্র সিংহাসনের মায়া ছেড়ে পুরো ভারত জুরে ঘুরে বেরিয়েছিলেন, প্রজ্ঞা লাভের উদ্দেশ্যে। পথে ঘুরতে ঘুরতে এক সময়ে তিনি নেপালে গিয়ে স্থায়ী হোন। সেখানেই তিনি এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে শিক্ষাগুরু হিসেবে পেয়ে 'নির্বাণ' বা 'সিদ্ধি' লাভ করেন। অনেকে বলে থাকেন, সরাসরি ঐশ্বরিক শক্তি থেকে তাঁর নির্বাণ লাভ হয়েছিলো। তাঁর নাম ছিলো তিলোপা।
বাংলা ভাষায় 'তিলোপা' কথাটির অর্থ 'তাহিনী নির্মাতা'। তিনি একজন কঠোর পরিশ্রমী বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন। জ্ঞানের দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তিনি তিল পিষে জীবন নির্বাহ করেন। তিলোপা এরপরে নরোপা নামের একজনকে নিজের ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিলোপা'র মতো নরোপাও অভিজাত রাজবংশীয় ছিলেন। নরোপার আসল নাম ছিলো হয়- সামন্তভদ্র অথবা অভয়কীর্তি।
নরোপার সাথে যখন তিলোপার দেখা হয়, নরোপা তখন ঐতিহাসিক নালোন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগুরু। আর, তিলোপার নামডাক চারদিকে ছড়িয়ে গিয়েছে। যদিও, প্রথম দেখায় তিলোপার সহজ-সরল জীবন-যাপন দেখে নরোপা তিলোপাকে ঠিক চিনতে পারেননি। এরপরে, তিলোপা নির্বাণ লাভের জন্যে নরোপাকে ১২টি কঠিন কাজ এবং ১২টি অপেক্ষাকৃত সহজ কাজে সিদ্ধি লাভের নির্দেশ দেন। নরোপা আস্তে আস্তে করে নিজের অধ্যাবসায় দ্বারা এইসব কাজ নিজের আয়ত্তে আনতে সক্ষম হোন।
পরবর্তীতে, নরোপা নিজের ছাত্র হিসেবে মারপা-কে গ্রহণ করেন। এই মারপা-ই তিব্বতে নরোপা'র কাছ থেকে শেখা সকল শিক্ষা প্রচার করেছিলেন। তিব্বতিরা এখন নরোপাকে সর্বোচ্চ বৌদ্ধ মহাসিদ্ধদের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


