somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

পুলিশের চায়ের দাওয়াতে, আমি যখন বিপাকে!

০৫ ই এপ্রিল, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তখন তরুণ বয়স। টগবগে ফোটা শরীরের রক্ত। যে কোন কিছুতে উত্তেজিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া স্বভাব। 'দ্বীন কায়েম'-এর জন্যে একদা কিছু বড় ভাই আমার দ্বারস্থ হলেন। দলে নিতে চান। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক জগতের দক্ষ সংগঠক। তারপরও, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিস হোয় নাই। আমি বড় ভাইদের না করতে পারলাম না। সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছেড়ে ঢুকে পড়লাম রাজনৈতিক দলে।

সেই সময়ে কাউকেই ছাড় দিতাম না। সব্বাইকেই ইসলামের ছায়া তলে আনার চেষ্টায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। নিজের বাবাকেও একবার ইসলামের দাওয়াত দিয়ে বসলাম। সব কিছু তুমুল গতিতে চলচ্ছে, কিন্তু, বিধি আড়ালে কল কাঠি নেড়ে অন্য প্ল্যান শুরু করেছে, তা বুঝার বয়স আমার তখনো হোয় নাই যে! কয়েক দিনের মাঝেই শ্রীঘরে যেতে হলো।

যাওয়ার পর্বটি ছিলো বড়ই মজার! আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছায়ায় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে র‍্যালি করছি, আমাদের সামনে একটি পুলিশদের গাড়ি থেকে একজন ইন্সপেক্টর নেমে বললেন- 'আপনাকে ওসি সাহেব চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন।'

আমি খুব অবাক হলাম যে ওসি আমাকে চিনেন। মনে মনে বেশ খুশি হলাম। ওসি সাহাবের চায়ের দাওয়াত স্বাদরে গ্রহণ করলাম। কিন্তু, সেই চায়ের দাওয়াত নিতে গিয়ে যে শ্রীঘর তক পৌঁছে যাবো বুঝিনি।

আজ বাসার পাশে একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পেলাম। মাত্রই ইফতার করে উঠেছি। জানালা দিয়ে দেখতে পেলাম, কয়েক জন পুলিশ ক্ষুধার্থ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। সাথে একজন রিকশাওয়ালা। তাদের একজন রিকশাওয়ালাকে হাতের মুড়ি ভর্তি প্লাস্টিক দিয়ে দিলেন। আমি ঘরে ফিরে বিবিজানকে বললাম- ইফতারের বাটি সাজাতে।

হরেক রকম খাওয়া দিয়ে সাজানো প্লেটটি বাসার কেয়ারটেকার পুলিশের কাছে দিয়ে আসলো। মনে পড়ে গেলো, ওসি সাহেবের সেই চায়ের দাওয়াতের কথা! আড়াল থেকে একটা মুচকি হাসি কি চলে এলো আমার মুখে! :)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২২ রাত ৯:০২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×