
প্রিয় শাইয়্যান,
শব্দ বড় ভয়ংকর জিনিস। মনে রাখবে, শব্দের ভুল প্রয়োগের কারণেই পৃথিবীতে অনেক বড় বড় অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে। হলোকাস্ট গ্যাস চেম্বারে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে শুরু হয়নি, বরং এরও অনেক আগে ইহুদীদের প্রতি বিদ্বেষের বিষবাক্য ছড়ানোর মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ডের শুরু হয়েছিলো। রুয়ান্ডাতে হুতিদের বিরুদ্ধে, কিংবা মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বাণী প্রচার জেনোসাইডের শুরু করেছিলো।
শাইয়্যান, তুমি কি পাকিস্তানী দালাল? সেটা কি করে হয়! পাকিস্তান নামক দেশটির ৫ম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে লেখা আছে- ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর ভারত পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের সহযোগিতায় সেখানকার অধিবাসীদের পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলে।
তুমি তো জানো যে, পাকিস্তানের নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে লেখা আছে- পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহু সংখ্যক হিন্দু শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। হিন্দু শিক্ষকেরা বাঙালিদের মনে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। সেই শ্রেণীর বইয়ে আরো লেখা আছে- পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় এক কোটি হিন্দু বাস করত। ভারত তাদের স্বার্থ বাস্তবায়নে এই হিন্দুদেরকে ব্যবহার করে। ভারত পূর্ব পাকিস্তান পৃথক করতে চেয়েছিল। অনেক হিন্দুই ভারতের চর হিসেবে কাজ করে।
ঐ দেশের উচ্চ মাধ্যমিকে বইয়ে লেখা আছে- মার্শাল ল কর্তৃপক্ষ পুর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অভিযানে জামায়াতে ইসলামী সশস্ত্র সেচ্ছাসেবক দিয়ে অংশগ্রহণ করে। সামরিক অভিযানের মুখে আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী ভারতে পালিয়ে যায় এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারত তাদেরকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণ করে।
বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানীদের কোমলমতি শিশুদের যখন এইসব হিংসাত্মক বাণী শিখানো হচ্ছে, তখন তুমি কি করবে? অথচ, তুমি কি না নিজের শব্দের দুই বাহক - জিহবা এবং আঙ্গুলকে শাস্তি দেওয়ার কথা চিন্তা করছিলে!!!
আমি জানি, তুমি আমার কথা শুনবে না। তুমি তোমার মাঝের হিংসাত্মক বাণীগুলোকে ঠিকই কোরবানি দিয়ে দিবে। কিন্তু, পাকিস্তানীরা কি তা পারবে?
সময়ই হয়তো তা বলে দিবে।
তোমাকে ঈদ মোবারক!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

