somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো সাড়ে চার লক্ষ টাকা। আর, সবেচেয়ে জুনিয়র ডেভেলপার ছিলো সাইদা, সে পেতো দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার। এরকম আমার ২৪-জনের একটি টিম ছিলো। কিন্তু, শরীরের অবস্থা ভালো না থাকায় এরকম একটি ব্যবসা ছেড়ে দিতে হলো।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আমি আমার সবচেয়ে সফল ব্যবসাটি শুরু করি। প্রথমে ক্লায়েন্ট হিসেবে আসে একজিওম নামের এক ব্রিটিশ আমেরিকান হেলথ টেঁক কোম্পানি। তাঁদেরকে চীফ টেঁক টেকনোলজি অফিসার আমার সাথে কথা বলে জানান যে, তাঁরা এমন একটা হিউম্যান রিসোর্স পলিসি চান যাতে তাঁদের কোম্পানি থেকে কখনই কোন ইঞ্জিনিয়ার ছুটে অন্য কোন কোম্পানিতে চলে যাবে না। আমি বললাম যে, আমাকে ১ মাস সময় দাও। আমি একটু রিসার্স করে বলি।

এক মাস পরে আমি তাঁদেরকে জানালাম - তোমরা যদি আমাদের বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারদের তিন গুণ সেলারি দাও, তখন জব এনভায়রনমেন্ট যতো খারাপই থাকুক না কেন, আমি তাঁদেরকে ধরে রাখতে পারবো। একজিওম কর্তৃপক্ষ রাজি হলেন। আমরা এপ্রিল মাস থেকে রিক্রুটমেন্টে গেলাম।

এরপরে, ২ বছর তাঁদের সাথে ব্যবসা করলাম। আমাদের কোন ইঞ্জিনিয়ার ছুটলো না। একজিওম ঠিক সময় মতো বেতন দিতো। মাসের ২৯ তারিখ ছিলো আমাদের পে ডে। তাঁরা মাসের একুশ তারিখের মধ্যে সুইফট কেউন্টের মাধ্যমে আমার ফার্মের পাওনা পাঠিয়ে দিতো।

একজিওম চলে যাওয়ার পরে, ২০২২ সালের প্রথম কোয়ার্টারে সিডার্স এলো। তখন তাঁরা ছুলো ইউকে-এর সবচেয়ে বড় ক্রাউডফান্ডীং কোম্পানী। এরপরে, আমেরিকার ফিন্টেক কোম্পানী রিপাবলিক তাদেরকে কিনে নিয়ে 'রিপাবলিক ইউরোপ' নামে পুরো ইউরোপে কাজ শুরু করে। এই কোম্পানীও আমার ক্লায়েন্ট ছিলো।

পুরো এশিয়ার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই তাদের অপারেশন ছিলো আমার ফার্মের মাধ্যমে। কিন্তু, আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, আমার শরীর খারাপ হচ্ছে। টাকা আসছে, কিন্তু, আমি যেরকম চাপ সামলাতে অভ্যস্ত তার শক্যই ভাগও এখানে দিতে হয় না!!! ফলে, শরীরে মেদ জমতে থাকলো, ফেটী লিভার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সবই জেঁকে বসলো।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আর নয়। টাকা পিছনে অনেক ছুটেছি। দেশ এই ছয় বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফরেন কারেন্সি পেয়েছে। আমিও আগামী ৫ বছর চলার মতো টাকা হাতে পেয়ে গিয়েছি। এবারে, নিজেকে এবং পরিবারকে কিছু অতিরিক্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।

আমার ক্লায়েন্টকে ছেড়ে দিলাম। আমার ইঞ্জিনিয়াররা মিলে অন্য একটি ফার্ম তইরী করে আমার ক্লায়েন্টকে নিয়ে নিলো। আমি কিছু বললাম না। নিলে নিক না!!! তাতে যদি তাদের ও দেশের লাভ হয়, আমার বাঁধ সাধার কি দরকার!

এখন শান্তিতেই আছি, শুধু গ্যাস্ট্রিক হিসেবে চাদ্গাজী ঝামেলা করে আমাকে বায়ু দূষণ করতে বাধ্য করেন, এই যা!!!! :)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭
৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×