
চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব থেকে আসা নবীজির সাহাবীরা নিজেদের মাতৃভূমি ছেড়ে এতো দূর চলে আসলেন কীভাবে! তাঁরা তো নিজেদের নামে পরিচিত হতে পারতেন! নিজেদের মাতৃভূমি ছেড়ে এতো দূরে থেকে যাওয়াটা কতো জন পারেন? আমি তো পারি নাই। তাই, যতো বার ভাবি, ততবার অবাক হই, ইসলামের পতাকা যখন পুরো আরবে উড্ডীন, যখন নিজ দেশে বসে মুসলমানদের সুখ করার কথা, তখন কীভাবে এতো দূর চলে আসেন এই সাহাবীরা!
কথিত আছে, এই সাহাবী দু'জন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মামা সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর সাথে সুদূর চীনে গিয়েছিলেন। জন্মভূমির মায়ার টান উপেক্ষা করে থেকে গিয়েছিলেন সেই বিদেশ-বিভূইয়ে, ইসলাম প্রচারের গুরুভার বহনের তাগিদে।
আরব্য দেশ থেকে এসে তাঁরা কি কখনো চায়নিজ ভাষায় কথা বলেছিলেন? চায়নিজ ভাষায় কোরআনের আয়াত অনুবাদ করে ইসলামের বানী ছড়িয়েছিলেন? তাঁরা কি চীনাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে? ইতিহাসে সেরকম কোন যুদ্ধের তো হদিস পাওয়া যায় না!
যদি তাঁরা ঘৃণা ছাড়াতেন, এতো বছর পরও বিদেশ বিভুয়ে তাঁদের কবর টিকে থাকতে পারতো না। যতো দূর শোনা যায়, চীনের সেই রাজ্যের মেহমান হয়ে চীনের জনগণকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তাঁদের দায়িত্ব জ্ঞান আর ব্যবহার দেখেই চীনের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
এই সাহাবী আজমাইনরাই প্রমাণ করেছিলেন, ইসলামের দাওয়াত অন্যদের কাছে পৌঁছাতে যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, মনের মাঝে একত্ববাদের আলো, নবীজি'র অনুসরণ, আহলে বায়াতদের প্রতি ভালোবাসা আর মানুষের প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠাই যথেষ্ট।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



