'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে যোদ্ধা তৈরি হতো।

আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, আমাদের দেশের জমিদারদের রাজপ্রাসাদের পাশে কুঁড়েঘরের সংখ্যাই বেশি। জমিদাররা নিজেদের প্রয়োজনেই কি এই কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দাদের যোদ্ধা বা জঙ্গী বানাতেন?
বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অগণিত। মানুষ গরিব, বেকারত্ব আছে, দুর্নীতি আছে। রাজনীতিবিদদের কেউ ভারতের দিকে তাকান, কেউ পাকিস্তানের দিকে; আর সাধারণ মানুষ তাকিয়ে থাকে বাজারের দামের দিকে - এসব খুব ভয়ংকর ব্যাপার!
জনগণের মাঝে দুর্নীতি করার প্রবণতা ঢুকে গিয়েছে। মা আর বোনের সম্পত্তি মেরে খাওয়াই জীবনের উদ্দেশ্য অনেক বাঙ্গালীর। এইভাবেই গড়ে উঠে আমাদের পারিবারিক অর্থনীতি। ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি হওয়ার কথা, কিন্তু কোথাও কোথাও দেখা যায় - ভাই বলছে, “বোন তো আপন মানুষ, তার জমিটা আপাতত আমার কাছেই থাক।” বোনও ভাবে, “ভাই তো আপন মানুষ, টাকা ফেরত দেবে।” এই ‘আপন মানুষ’ শব্দটির আড়ালেই কখনো কখনো তৈরি হয় বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে দীর্ঘ মামলা!
অন্যের টাকা মেরে দেওয়া এখানকার মানুষের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুষ নেওয়া, প্রতারণা - এসব নিয়ে আমরা এত ব্যস্ত যে, জঙ্গি হওয়ার সময় কোথায়?
আমাদের সমাজে কেউ মানুষের টাকা মেরে ব্যাংকার হয়, কেউ দুর্নীতি করে নেতা হয়, কেউ আত্মীয়ের জমি মেরে সফল ব্যবসায়ী হয়। তাহলে জঙ্গি হতে গেলে আলাদা প্রশিক্ষণই বা কেন?
বঞ্চনা, উগ্র মতাদর্শ, রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন/অফলাইন র্যাডিকালাইজেশনের সুযোগ মিলেই মানুষ খারাপ পথে যায়।
এরকম একটি দেশে জঙ্গী উৎপাদন কীভাবে সম্ভব!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




