
শহরে সেদিন অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটল। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে শাইয়্যান ঘোষণা দিলেন, “আজ রাগিণীদের কান ঝালাপালা করা কোনো রাগ শোনাব না!” তাঁর এই মহৎ সিদ্ধান্তে পাখিরা পর্যন্ত অবাক। এতদিন ভোর হলেই তিনি হারমোনিয়াম নিয়ে বসতেন, আর পাশের বাড়ির বিড়াল জানালা দিয়ে পালানোর পথ খুঁজত। কিন্তু আজ কবি নীরব। দুপুরে এক রাগিণী এসে জিজ্ঞেস করল, “আজ গান নেই?” শাইয়্যান গম্ভীর মুখে বললেন, “আপনারা যদি রাগ না শুনে রাগ করেন, তাইলে বিপদ!”
বিপদ অবশ্য সেখানেই শুরু। রাগিণীরা শাইয়্যানের এই বক্তব্যকে সংগীতের অপমান বলে সভা ডাকলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হলো - কবিকে গান গাইতে বাধ্য করা হবে। কবি প্রাণপণে পালাতে গিয়ে ভুল করে আবার সেই সভাতেই ঢুকে পড়লেন। সবাই বলল, “পিছু হটুন!” শাইয়্যান বললেন, “পিছু হটব না, আমি পিছুপা হব!” কেউ বুঝল না, পিছুপা আবার কী জিনিস। শাইয়্যান ব্যাখ্যা করলেন, “পিছু ধাবিত হওয়ার আধুনিক ও সাংস্কৃতিক সংস্করণ!”
এরপর থেকে শাইয়্যান রাগিণীদের পিছু ধাওয়া শুরু করলেন। রাগিণীরা সামনে দৌড়ান, শাইয়্যান পেছনে; কবি সামনে এলে রাগিণীরা অন্য গলিতে, তিনি আবার পেছনে। একসময় শহরের ট্রাফিক পুলিশ এসে জিজ্ঞেস করল, “এটা দৌড় প্রতিযোগিতা?” শাইয়্যান হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “না, এটা সুরের সন্ধানে পিছুপা অভিযান।” পুলিশ বলল, “তাহলে অনুমতি কোথায়?” শাইয়্যান বললেন, “সুরের অনুমতি লাগে না, শুধু শ্রোতার ধৈর্য লাগে!”
শেষে রাগিণীরা ক্লান্ত হয়ে একটি পার্কে বসে পড়লেন। শাইয়্যান-ও দূরে বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “আপনারা রাগ করলে আমার ভয় হয়, আর রাগ না করলে গান গাওয়ার ভয় হয়!” রাগিণীরা হেসে বললেন, “আপনি গান গাইবেন না, শুধু চুপচাপ থাকবেন।” শাইয়্যান মাথা নেড়ে বললেন, “তাইলে আজ থেকে আমি নীরবতার ওস্তাদ।” সেই থেকে শহরে তাঁর নতুন পরিচয় হলো - রাগিণীদের পিছুপা, কিন্তু সুরের কাছে চিরপলাতক!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




