somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায় আফসুস! ২১শে-র ভাষা শহীদ!

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবার এসেছে ২১শে ফেব্রুয়ারী "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”। আজ বিশ্বের আনাচে কানাচে যেখানে শহীদ মিনার আছে, সেখানে ছেয়ে যাবে ফুলে ফুলে। বছরের এই একটি দিনের জন্য ভাষা শহীদরা অপো করে থাকেন। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষাকে রক্ষা করে সম্মানজনক স্থানে আসীন করার জন্য বাংলার ছাত্রজনতার আন্দোলন ও জীবন দান করেছিলেন। ২১শে ফেব্রুয়ারী "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে সারা বিশ্বে সম্মানের সাথে পালিত হচ্ছে প্রতি বছর। মাতৃভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জনের নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। কিন্তু আফসুস!.... যে কারনে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল এই দীর্ঘ সময়েও তা সম্পন্ন হয় নি।
হায় আফসুস! ২১শে-র ভাষা শহীদ! বছরে এই একটি দিন স্মৃতির মিনারে আমাদের দেয়া ফুলের জন্যই কাতর কি ছিলেন তাঁরা? সালাম বরকতেরা সেদিন ”আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” খেতাবের জন্য জীবন দেন নাই। ”২১শে ফেব্রুয়ারী” পালনের জন্য রাজপথে নামেন নাই। নেমেছে ”সর্বস্তরে বাংলা চাই” প্লেকার্ড হাতে নিয়ে।
কিন্তু সর্বস্তরে বাংলাভাষা কি চালু হয়েছে স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও। রাষ্ট্রভাষা বাংলা ঘোষনা দেয়া হল, সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহারের ঘোষনা দেয়া হল, কিন্তু এর ব্যবহার কোথায়? উচ্চ আদালত ও উচ্চ শিক্ষায় বাংলা আজও নিগৃহীত। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ যেখানে অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত সেখানে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের কপি ইংরেজীতে দেয়া হয়- আর রায়ের সারমর্ম উদ্ধার করতে আমাদের ধর্নাদিতে হয় ইংরেজ লাট সাহেবের কাছে। ডিজুস সংস্কৃতির ছোবলে মাতৃভাষা আজ ক্ষত-বিক্ষত। আধুনিক বানান রীতি-শর্টকাট করে কেমন যেন অদ্ভুত মনে হয়। আসলে আমরা সচেতন হচ্ছি না কেন? শিক্ষার মাধ্যম বাংলার পরিবর্তে ইংরেজীর প্রতিই আমাদের দুর্বলতা বেশী। যার কারনে ব্যঙ্গের ছাতার মত ইংলিশ মিডিয়ামের স্কুল, কলেজ গজিয়ে উঠছে অহরহ। মাদ্রাসায় ব্যবহার হচ্ছে আরবী অথবা উর্দু। সন্তান ইংরেজীতে উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছে, আমাদের অভিভাবক মহল সেই খুশিতে বাগবাকুম। আমাদের তথাকথিত আধুনিক তরুণ প্রজন্মের বাংলা কথার স্টাইল দেখলে ঘেন্না হয়। কি জঘন্যভাবে বাংলাকে ইংরেজী উচ্চারণে আওড়ায় গা গুলিয়ে উঠে। হিন্দি সিনেমার কল্যাণে বাংলা কথার মাঝে সেটির প্রচলন শুরু হয়ে গেছে সেই অনেক আগেই।
পাঠক বলুন তো বাংলা ভাষার ভবিষ্যত কি?

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২২
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপালিশ গাছের ফল চাম কাঠাল এর উপকারিতা

লিখেছেন রবিন.হুড, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৮


চাপালিশ, চামল, চাম্বল, চাম্বুল, টোপোনি (মগ), বলস্রাম (গারো), কাঁঠালি চাম বা চাম কাঁঠাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus chama; আর্টোকার্পাস চামা) হচ্ছে মোরাসি পরিবারের কাঁঠাল-জাতীয় একটি বন্য প্রজাতির ফল। বিপন্ন এই বৃক্ষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×