রঘু ,আমি আর শাপলা। আমরা বসে আছি এক দক্ষিণা বাতাসের অপেক্ষায়। আমরা জানি না সময়কে কিভাবে থামিয়ে দেয়া যায় । শাপলা বসে আছে চোখ বন্ধ করে। রঘুনাথ বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে ,ওর কপালটায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। আমি ওদের দুজনকে দুটি উপকেন্দ্র ধরে একটি উপবৃত্তাকার পথে ঘুরছি। আমি মনে মনে কিছু একটা বলে চলেছি বিড় বিড় করে। আমাদের উদ্দেশ্য সময়কে থামিয়ে দেওয়া । কারন আমরা তিনজনে পেয়েছি এক ছোট্ট সফলতা। আমরা সময়কে থামাতে চাই যাতে করে এই সফলতার পরে কোনো ব্যর্থতা আমাদেরকে আর গ্রাস করতে না পারে। সময়কে থামাতে গিয়ে আমি এক ঘোরের মধ্যে ঢুকে যাই । মনে হচ্ছিল আমি হাজারো সেকেন্ডের ভিতর দিয়ে হেটে চলেছি।
আমি হেটেই চলেছি সময়ের ভিতর দিয়ে। হাটতে হাটতে আমি চলে যাই আমার শৈশবে । কিছু শিশু একটা বাড়ির উঠোনে বসে খেলছে। আর আমিও ওদের মত একজন শিশু। ওরা এখন উঠোনের মাটি গর্ত করছে। আমিও ওদের সাথে মাটি খুঁড়ছি। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কিছুক্ষণের মধ্যেই পানির সন্ধান পেলাম আমরা। আমার অন্য শিশু বন্ধুদের চোখে মুখে রাজ্য জয়ের আনন্দ। আমি মোটেও আনন্দ পেলাম না। এই আমার শৈশব! এইখানে ফিরে যেতে মনটা হায় হায় করত!
আমি হতাশা নিয়ে আবার হাটতে শুরু করি। এখন আমি কৈশোরে । এখানে এসে আমার নিজের মধ্যে , আমার বন্ধুদের মধ্যে একটা ন্যাকামো ভাব দেখতে পাই। আমার নিজের কাছে খুবই অসহ্য লাগে। কৈশোরে আর বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না।
আমি আবার হাটতে থাকি। এবার আমি পৌঁছে যাই আমার ভবিষ্যতে । আমি এখন একজন বৃদ্ধ । পৃথিবীতে আমি অনেকদিন ধরে আছি। অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা আছে আমার। এখানে এসে খেয়াল করি আমার প্রতি একেক বয়সের মানুষের মনোভাব একেক রকম। যুবক বয়সের বেশিরভাগ লোকজন আমাকে দেখে হাসাহাসি আর ঠাট্টা তামাশা করে। আর মধ্যবয়সী লোকজন খানিকটা সম্মানের চোখে দেখে। একসময় আমার পরিবারের লোকজন আমাকে নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে আর আমি তখন মৃত্যুর জন্য দিন গুনতে থাকি। খুব অসহায় মনে হচ্ছিল নিজেকে ।
আমার সমস্ত শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠে । আমি আমার নিজের অবস্থানে চলে আসি।
অনেক সময় আমরা বলি ইফ আই ওয়্যার এ চাইল্ড এগেইন !! কিন্তু সত্যি যদি চাইল্ড হয়েই যাই চাইল্ডনেস কি আদৌ ভালো লাগবে তখন ! আসলে প্রতিটা বয়সের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য আর নিজস্ব অনুভূতি । এই অনুভূতিগুলো বুঝা যায় বয়সের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে গেলে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




