somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুলনা....

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা যদি কোনদিন হারিয়ে যাই দূরে কোথাও? প্রতিদিন বিকেলে আমার জন্য যে রজনীগন্ধার একটা সটীক নিয়ে আসো ধরো একদিন এসে দেখলে আমি নেই । আমার জায়গাটা শুন্যতা দখল করে নিয়েছে। কি করবে তুমি? আমি ভাবি । ভাবতে থাকি। ভেবে পাই না কি করব। আবারো ভাবি। অস্পষ্ট ভাবনা। অদ্ভুত শুন্যতা সৃষ্টিকারী ভাবনা। আমি বললাম অই ফুলটা তখন অন্য কোন তুলনাকে দিয়ে দিব। তুলনা হাসে। আর আমার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠে । তুলনা উঠে দাঁড়ায়। আমরা হাটতে থাকি।
আমি তখন প্রথম বর্ষে পড়ি। তখন আজিমপুরে একটা ছেলেকে পড়াতাম। টিউশনি করে ফেরার পথে আজিমপুর স্কুল এন্ড কলেজের সামনে প্রতিদিন তুলনাকে দেখতাম দাড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে। কিছু কিছু সৌন্দর্য প্রথম দেখাতেই সবার ভালো লাগবে। তুলনার মধ্যে এমন কিছু ছিল না। আবার কিছু কিছু ভালো লাগা মানুষের ব্যাখ্যার অতীত। তুলনাকে আমার কেনো ভালো লাগে তার কোন ব্যাখ্যামূলক উত্তর আমি আজো দিতে পারব না। এটাই ছিল তুলনার সাথে আমার পরিচয়ের প্রেক্ষাপট।
ধীরে ধীরে আমাদের পরিচয়টা সুপরিচয়ে পরিনত হয়। আমি তুলনার ছোট ভাইকে পড়ানো শুরু করি। পড়ানোর সময় তুলনা একেকদিন একেক অজুহাতে আসে। কখনো নাস্তা নিয়ে। কখনো এসে ছোট ভাইয়ের পড়াশুনার খবর নিত। আবার মাঝে মাঝে এসে কি যেন খুঁজত । সেই কি যেন টা হল অদৃশ্য । তাকে কখনো খুজে পাওয়া যায় না।
তুলনা আর আমি একি ভার্সিটির স্টুডেন্ট । ভার্সিটির অফ ডে গুলোতে আমরা নিয়ম করে দেখা করি। শপিংয়ে যাই । মাঝে মাঝে মুভি দেখতে যাই। তুলনা ধীরে ধীরে আমার সমস্তটা জুড়ে নেয়।
তুলনার প্রতি জন্মদিনে আমার কাছে গিফট চেয়ে নেয়। এইবার সে আমার কাছে অদ্ভুত এক গিফটের আবদার করল। আলতা। নিউমার্কেটের দোকানগুলোতে গিয়ে যখন আলতা চাই ওরা আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে মনে হচ্ছিল মঙ্গল গ্রহের মাটি চেয়েছি। অবশেষে এক দোকানে পেয়েছিলাম। আলতা পেয়ে তুলনা কি যে খুশি হল!
তুলনা পায়ে আলতা পড়েছে। একটা সামান্য তরল যে মানব মনকে এতটা আকর্ষণ করতে পারে আমি তখন বুঝতে পারি। আমি অদ্ভুত মুগ্ধতা নিয়ে তুলনার আলতা পড়া পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার ঘোর লাগে। বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।
আমি সেদিন তুলনার ছোট ভাইকে পড়াতে যাই । গিয়ে দেখি তুলনাদের ফ্ল্যাট তালা দেয়া। আমি ফোন দেই। ফোন বন্ধ। একদিন পর আবার যাই। একি অবস্থা। পাশের ফ্ল্যাট থেকে জানতে পারি তুলনা রোড এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। আমার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠে ।
তখন আমার তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল এক্সাম চলছে। এক্সাম আর টিউশনির চাপ আমার ভিতর থেকে তুলনাকে সরাতে পারছিল না। আমি সব সময় আশায় থাকতাম এক্ষুনি হয়তো স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাবে। রাতের বেলা ঘুমুতে গেলে খুউব কষ্ট হত। খালি হাশপাশ করতাম। মনে হত বুকের ভিতর কিছু একটা আটকে আছে। চোখ বন্ধ করলেই তুলনাকে দেখতে পেতাম। আর তখন আটকে থাকা জিনিসটা হৃৎপিণ্ডকে সুইয়ের মত করে ফুটো করে দিতে চাইত।
এভাবে অনেকদিন কেটে যায় । ব্যস্ততা তুলনাকে ভুলিয়ে দিতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যায় । আবার নিসঙ্গতা তুলনাকে কাছে টেনে আনে।
চতুর্থ বর্ষের গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। ছুটি কাটাতে পঞ্চগড় গেলাম। আমি দেবীগঞ্জ সদরে দাড়িয়ে আছি এক বন্ধুর অপেক্ষায় । আমার ঠিক পাশ কাটিয়ে একটা মোটর সাইকেল চলে গেল। মোটর সাইকেলে একটি মেয়ে বসা। মেয়েটিকে আমার খুব পরিচিত মনে হচ্ছিল। একসময় মেয়েটি পিছনে ফিরে তাকিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিল। আমার বুকের ভিতরটা মুচোড় দিয়ে উঠে। আমি হতবিহবলের মত তার চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকি আর মুখ দিয়ে অস্পষ্ট একটা আওয়াজ বের হল তুলনা!!..............
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×