somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

wKQz cÖkœ

১০ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল থেকে বাহিরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পরছে। তনিমা রহমান বেশ খোঁশ মেজাজে আছেন। দু বছরের মেয়ে আরিশা এখনো ঘুমাচ্ছে। সাধারনত সকাল ৬টা-৭টার দিকে ওর ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তুু আজ ৯টা বেজে চলল তবুও সে ঘুমাচ্ছে। তনিমা বেশ অনেণ ধরে মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তার একমাত্র সন্তান-আরিশা । তার দুনিয়া এক দিকে আর মেয়ে আরেকদিকে। দুনিয়ার সব সুখ দিতে চান মেয়েকে, এমন একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে চান মেয়েকে যা তার প্রাপ্য। এমনই অনেক উড়াধুরা চিন্তা ভাবনা করতে করতে আলতো করে একটা চুমু দেন মেয়ের কপালে। মেয়েটা মনে হচ্ছে আরো অনেকটা সময়ই ঘুমাবে। তনিমা খবরের কাগজটিতে হাত রাখেন। সাধারনত পড়া হয় না খবরের কাগজ, তার একটুও ভালো লাগে না পড়তে। খবরের কাগজ পড়া মানেই রাজনীতি, অপরাধ, হত্যা, লাশ .............. এমনই আরো কত কি। ভাগ্য যদি খুব সুদয় হয় তবে হয়ত দু’ একটা ভালো খবর পাওয়া যায়। নতুবা তাও দেখা যায় না। কিন্তুু তনিমার হাতে এখনো প্রায় অনেকটা সময় , যতণ আরিশা ঘুমাচ্ছে ততণ সে কি করবে? তাই কাগজ পড়া কিন্তুু কাগজে চোখ পরতেই তিনি বিস্ময়ে আৎকে উঠলেন। ভিকারুন্নেছায় দশম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ! তাও আবার স্কুলেরই শিক দ্বারা! তনিমা ভেবে পাননা যে সে বিস্মিত হবে নাকি রাগ হবে। সে কাগজের তারিখটা দেখেন। বেশ কয়েকদিন আগের কাগজ এটা। সে আজকের কাজগটা খুজতে থাকেন। দিয়ে তো গিয়েছে সকালে সে নিজে কাগজওয়ালার কাছ থেকে কাগজ নিয়েছে। অবশেষে খাবারের টেবিলে পেলো সে। তারিখ দেখল হ্যাঁ ঠিকই আছে আজ ১৭ই জুলাই। দুরুদুরু বুকে সে কাগজটি খুলে এই আশায় যে প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে এ কয়দিনে নিশ্চয় ঐ পরিমল পিশাচটার বিচার হয়ে গেছে। কিন্তুু একি! এখানো শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন চলছে! এখানো শাস্তি হয়নি? ােভে, রাগে, দুঃখে সে কাগজটি ছুড়ে ফেলতে গিয়েও থমকে যায়। প্রথম পাতায় তার দৃষ্টি আটকে যায়। চোখের সামনে একি দেখছে সে, মহানবী (সাঃ) কে কুটক্তিকারী শিক শঙ্করের ফাঁসি দাবি! নবীজিকে কটুক্তি! ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে এতোবড়ো আঘাত! আজকাল কি ধর্মটাও খেলনার বিষয়বস্তুু হয়ে দাঁড়িয়েছে নাকি? এমন একটা খবর , তার পাশেই আবার মোটা কালো কালিতে লেখা মহম্মদপুরে প্রধান শিক ভজন কুমারের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ। তাও আবার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া বাচ্চা একটা মেয়ে। আর এমন একজন শিক যিনি সেই উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক নির্বাচিত হয়েছেন। তনিমার মাথাটা ঘুরতে থাকে। এসব কি পড়ছেন তিনি খবরের কাগজে! কি হচ্ছে এসব? কোথাও তো কারও নিরাপত্তা নেই। স্কুল প্রাঙ্গণ শিা দানের জায়গা। এই বিশ্বমন্ডলে সবচেয়ে বড় অস্ত্র যদি কিছু থেকে থাকে তা হলো শিা। আর বিদ্যালয় হল সেই জায়গা যেখানে এই অস্ত্র চালনায় হাতখড়ি দেয়া হয়। কিন্তুু এসব কি? এতোসব ভাবতে ভাবতে তার চোখ হঠাৎই শিশু কন্যা আরিশার দিকে পরে। তিনি বিমূঢ় হয়ে যান। এই মেয়েও একদিন বড় হবে স্কুলে যাবে। কিন্তুু কিসের ভরসায় তিনি তাকে স্কুলে পাঠাবেন? তার সুরার গ্যারান্টি কে দিবে? বিপদের হাত থেকেই বা তাকে কে রা করবে? মেয়ের এমন অন্ধকার ভবিষ্যৎ চিন্তা তনিমাকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি এক দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন। তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে কেন? কেন? একটা স্বাধীন দেশের স্বাধীন জাতি হয়েও কেন আমাদের নিরাপত্তার ভয় করতে হয়? কেন আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হতে হয়? কেন আমাদের কারও ভয়ে জর্জরিত থাকতে হয়? কেন আমাদের সঠিক বিচারের আশায় প্রহর গুনতে হয়? কেন???
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×