somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত-বিক্রিওয়ালা (একটি চীনা গল্প )

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুং টিংপো তখন যুবক। একদিন রাতে বেড়াতে বেরিয়ে পথে হঠাৎ একটা ভূত দেখে থমকে দাঁড়ায়। ভূতটা না থেমে তার দিকে এগিয়ে আসছে দেখে বুকের ভেতরটা দুরু দুরু করে উঠলেও, ভয় পেয়েছে, তাকে বুঝতে না দিয়ে কাছে আসতেই সরাসরি সে মুখের ওপর বলে উঠল, কে তুমি?
ভূতটা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, আমি ভূত—তুমি কে?
টিংপো ঘাবড়ে না গিয়ে নিজের আসল পরিচয় চেপে বলে ওঠে, আমিও একজন ভূত।
ভূত প্রশ্ন করে, তুমি কোথায় যাচ্ছ?
টিংপো উত্তর দেয়, ওয়াংসি।
আরে, আমিও ওখানেই যাব।
ভূতটা তৎক্ষণাৎ উত্তর দেয়, চলো, একসঙ্গে যাই!
অগত্যা দুজন পাশাপাশি হাঁটতে থাকে।
প্রায় মাইলখানেক যাওয়ার পর ভূতটা বলে ওঠে, আমরা কী বোকা! দুজন মিছিমিছি কেন হেঁটে মরছি? তার চেয়ে এসো, আমরা পালা করে একজন আরেকজনকে বয়ে নিয়ে যাই। তাতে দুজনেরই পরিশ্রম কম হবে।
টিংপো বলে, খুব ভালো কথা, আমার অমত নেই।
তখন ভূতটা প্রথমেই টিংপোকে নিল কাঁধে তুলে। মাইলখানেক হাঁটার পর তাকে ঘাড় থেকে নামিয়ে দিয়ে ভূতটা জিজ্ঞেস করে, ভূতের চেয়ে তোমার ওজন অনেক বেশি। ঠিক করে বলো তো, তুমি কি সত্যি একজন ভূত?
এই সেরেছে, ধরে ফেলে বুঝি, টিংপোর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলেও চট করে একটা বুদ্ধি তার মাথায় খেলে যায়। ভূতের মনে বিশ্বাস আনার জন্য সে চট করে রেগে ওঠে—আমি তো নতুন ভূত, সেই জন্য আমার ওজন তোমার চেয়ে বেশি এখনো।
বলতে বলতেই টিংপো ভূতটাকে কাঁধে তুলে হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু ভূতটা এতই হালকা যে তার মনে হলো না কোনো ভার সে বহন করছে।
এইভাবে তারা পাল্টাপাল্টি করে একজন আরেকজনকে বইতে থাকে। যেতে যেতে একসময় টিংপো ভূতটাকে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা, ভূতেরা সবচেয়ে ভয় পায় কিসে?
ভূতটা ভাবে, ও নতুন, বলে দেওয়া উচিত। তাই তখনই বলে ফেলে, ভূতেরা যা সবচেয়ে ভয় করে থাকে তা হলো, মানুষের মুখের থুতু।
এমনি করে হাঁটতে হাঁটতে তারা একটা নদীর ধারে এসে পড়লে টিংপো ভূতটাকে আগে নদীটা পেরিয়ে যেতে বলে। ভূতটা যখন পার হয়ে গেল, একটুও জলের শব্দ হলো না। তাই টিংপোর বেলা হুসহাস শব্দ শুনে ভূতটা আবার তাকে প্রশ্ন করে—ভূত তো জলের ওপর দিয়ে গেলে শব্দ করে না! আশ্চর্য, সত্যি কি তুমি একজন ভূত? ঠিক করে বলো।
টিংপোর মনে আবার ভয়, গেল বুঝি সব ফেঁসে, তীরে এসে তরী ডুবল! তাই আগের মতো আবার বুঝিয়ে দেয়—আশ্চর্য হচ্ছ কেন, আমি নতুন ভূত, এখনো নদী পার হওয়ার অভ্যাস হয়নি যে!
তারপর তারা শহরের কাছে পৌঁছালে টিংপো ভূতটাকে পিঠের ওপর তুলে নিয়ে এত জোরে তাকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরল যে ভূতটা যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে উঠে পিঠ থেকে লাফিয়ে পড়ার জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করে দিল।
তখন আরও কষে ভূতটাকে চেপে ধরে টিংপো চলতে থাকল। বাজারের কাছাকাছি এসে পড়তে টিংপো ভূতটাকে যেই পিঠ থেকে নামাল, সঙ্গে সঙ্গে সে একটা ছাগল হয়ে গেল! অমনি টিংপো ছাগলটার ওপর থুতু ফেলল, যাতে সে আর অন্য কোনো রূপ ধরতে না পারে।
তারপর বাজারে দেড় হাজার ওয়ান নিয়ে সেই ছাগলটাকে বিক্রি করে আনন্দে ঘরে ফিরে গেল!
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্তিবাসী সেই অগ্নিকন্যাকে নিয়ে লেখা একটি কাব্যগাথা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৫৫


ঢাকার আকাশ তখন ধুলোমাখা সন্ধ্যার রঙে ছিল ডেকে
বস্তির সরু গলিতে শিশুদের কান্না
নর্দমার স্রোতের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে
সেই অন্ধকার জন্মঘরে প্রথম আলো দেখেছিল
এক বস্তিবাসী কন্যা শিরিন
এখনো এক অচেনা নাম
যার ভেতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবুল আলীই আমাদের বাংলাদেশের প্রতীক

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৩৭



আপনাদের কি এই ছবিটার কথা মনে আছে? এই বছরের শুরুতে চলতি বছরের জানুয়ারীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বেআইনিভাবে বাংলাদেশের জমিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মানুষ মানুষকে কীভাবে এত অপদস্ত করে এই ব্লগে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৪

আমি তো কারও সাতেও নাই পাঁচেও নাই। এত সময়ও নাই মানুষকে ঘাঁটার। ব্লগের ব্লগারদের সম্পর্কেও তেমন কিছু জানি না। তবে পোস্ট পড়ে কিছুটা আন্দাজ করা যায় -কে কী রকম। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ কি শিখিয়েছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:০৬






অপমান, অপদস্থ থেকে বাঁচার উপায় শিখাইনি? ওস্তাদ মগা শ্যামী পাহাড়ে বসেও এসবের সমাধান করতে পারে, আপনি সামান্য অসুস্থতার জন্যও ব্লগে মিলাদ দেননি, দোয়া করেছেন কার জন্য? খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৮

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া সূর্যোদয়ের ছবিটি এআই দ্বারা উন্নত করা হয়েছে।

ইসলামের পবিত্র আলো ওদের চোখে যেন চিরন্তন গাত্রদাহের কারণ। এই মাটি আর মানুষের উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×