somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ভবঘুরের ঠিকানা
নিজের সমন্ধে কিছু বলার নেই। এক সময় সামান্য কিছু লেখালেখি করতাম, সে গুলো পার্সোনাল সাইটে পাবলিশ করেছি। পড়তে চাইলে দেখতে পারেন - https://sam-sumon.blogspot.com/

ভূত-বিক্রিওয়ালা (একটি চীনা গল্প )

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুং টিংপো তখন যুবক। একদিন রাতে বেড়াতে বেরিয়ে পথে হঠাৎ একটা ভূত দেখে থমকে দাঁড়ায়। ভূতটা না থেমে তার দিকে এগিয়ে আসছে দেখে বুকের ভেতরটা দুরু দুরু করে উঠলেও, ভয় পেয়েছে, তাকে বুঝতে না দিয়ে কাছে আসতেই সরাসরি সে মুখের ওপর বলে উঠল, কে তুমি?
ভূতটা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, আমি ভূত—তুমি কে?
টিংপো ঘাবড়ে না গিয়ে নিজের আসল পরিচয় চেপে বলে ওঠে, আমিও একজন ভূত।
ভূত প্রশ্ন করে, তুমি কোথায় যাচ্ছ?
টিংপো উত্তর দেয়, ওয়াংসি।
আরে, আমিও ওখানেই যাব।
ভূতটা তৎক্ষণাৎ উত্তর দেয়, চলো, একসঙ্গে যাই!
অগত্যা দুজন পাশাপাশি হাঁটতে থাকে।
প্রায় মাইলখানেক যাওয়ার পর ভূতটা বলে ওঠে, আমরা কী বোকা! দুজন মিছিমিছি কেন হেঁটে মরছি? তার চেয়ে এসো, আমরা পালা করে একজন আরেকজনকে বয়ে নিয়ে যাই। তাতে দুজনেরই পরিশ্রম কম হবে।
টিংপো বলে, খুব ভালো কথা, আমার অমত নেই।
তখন ভূতটা প্রথমেই টিংপোকে নিল কাঁধে তুলে। মাইলখানেক হাঁটার পর তাকে ঘাড় থেকে নামিয়ে দিয়ে ভূতটা জিজ্ঞেস করে, ভূতের চেয়ে তোমার ওজন অনেক বেশি। ঠিক করে বলো তো, তুমি কি সত্যি একজন ভূত?
এই সেরেছে, ধরে ফেলে বুঝি, টিংপোর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলেও চট করে একটা বুদ্ধি তার মাথায় খেলে যায়। ভূতের মনে বিশ্বাস আনার জন্য সে চট করে রেগে ওঠে—আমি তো নতুন ভূত, সেই জন্য আমার ওজন তোমার চেয়ে বেশি এখনো।
বলতে বলতেই টিংপো ভূতটাকে কাঁধে তুলে হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু ভূতটা এতই হালকা যে তার মনে হলো না কোনো ভার সে বহন করছে।
এইভাবে তারা পাল্টাপাল্টি করে একজন আরেকজনকে বইতে থাকে। যেতে যেতে একসময় টিংপো ভূতটাকে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা, ভূতেরা সবচেয়ে ভয় পায় কিসে?
ভূতটা ভাবে, ও নতুন, বলে দেওয়া উচিত। তাই তখনই বলে ফেলে, ভূতেরা যা সবচেয়ে ভয় করে থাকে তা হলো, মানুষের মুখের থুতু।
এমনি করে হাঁটতে হাঁটতে তারা একটা নদীর ধারে এসে পড়লে টিংপো ভূতটাকে আগে নদীটা পেরিয়ে যেতে বলে। ভূতটা যখন পার হয়ে গেল, একটুও জলের শব্দ হলো না। তাই টিংপোর বেলা হুসহাস শব্দ শুনে ভূতটা আবার তাকে প্রশ্ন করে—ভূত তো জলের ওপর দিয়ে গেলে শব্দ করে না! আশ্চর্য, সত্যি কি তুমি একজন ভূত? ঠিক করে বলো।
টিংপোর মনে আবার ভয়, গেল বুঝি সব ফেঁসে, তীরে এসে তরী ডুবল! তাই আগের মতো আবার বুঝিয়ে দেয়—আশ্চর্য হচ্ছ কেন, আমি নতুন ভূত, এখনো নদী পার হওয়ার অভ্যাস হয়নি যে!
তারপর তারা শহরের কাছে পৌঁছালে টিংপো ভূতটাকে পিঠের ওপর তুলে নিয়ে এত জোরে তাকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরল যে ভূতটা যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে উঠে পিঠ থেকে লাফিয়ে পড়ার জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করে দিল।
তখন আরও কষে ভূতটাকে চেপে ধরে টিংপো চলতে থাকল। বাজারের কাছাকাছি এসে পড়তে টিংপো ভূতটাকে যেই পিঠ থেকে নামাল, সঙ্গে সঙ্গে সে একটা ছাগল হয়ে গেল! অমনি টিংপো ছাগলটার ওপর থুতু ফেলল, যাতে সে আর অন্য কোনো রূপ ধরতে না পারে।
তারপর বাজারে দেড় হাজার ওয়ান নিয়ে সেই ছাগলটাকে বিক্রি করে আনন্দে ঘরে ফিরে গেল!
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হঠাৎ কেন মিরপুরে হকার উচ্ছেদ আর অটোরিকশা চালকদের স্ট্রাইক? নেপথ্যে কোন রাজনীতি?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪২

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মি. মিল্টন সম্প্রতি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মিরপুরের বিভিন্ন ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী হকারদের উচ্ছেদ করে এলাকা দখলমুক্ত করেছেন। এই অভিযান চালাতে গিয়ে তাঁকে চরম বাধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্ত্রাসী অধ্যাপক ড.ইউনূস!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


গত সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×