somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ভবঘুরের ঠিকানা
নিজের সমন্ধে কিছু বলার নেই। এক সময় সামান্য কিছু লেখালেখি করতাম, সে গুলো পার্সোনাল সাইটে পাবলিশ করেছি। পড়তে চাইলে দেখতে পারেন - https://sam-sumon.blogspot.com/

ঠিক যখন আমার মৃত্যু হল

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিশ্বাস কর, আমার কোন যন্ত্রণা হয়নি
কেউ কেউ কষ্ট বলতে পার, বলতে পার ব্যথা, কাতর অনুভূতি-দহন।
কিন্তু আমি বলছি, কিছুই হয়নি আমার।
অবশ্য আমার চেতনা ছিল, বলতে পার পূর্ণ সজাগ ছিলাম আমি।
আমি সবকিছু ঠিক-ঠাক দেখে গেছি, সময় যে রকম হয় প্রবাহমান।

প্রথমে ওরা আমার আঙ্গুল কাটল, গোলাপের ডাল যেভাবে-
কেটে আলাদা করা হয় গাছ থেকে।
আমি ঝিম মেরে শুধুই দেখছিলাম লাফাতে থাকা কাটা আঙ্গুলগুলো,
যেন একঝাক শুঁয়োপোকা লাফিয়ে খেলা করছে টেবিলের উপর।
ফিনকি দিয়ে বয়ে চলা রক্তের শিরায় অথবা
বলতে পার আহত সে স্থানে যখন তপ্ত লোহার পরশ বুলানো হল,
পোড়া মাংসের গন্ধ সুড়সুড়ি দিতে পারেনি ইন্দ্রিয়ে।
আমার নির্লিপ্ততা ওদের খেপিয়ে তুলল,
কেউ একজন এসে ছুরি চালাল আমার পেটে।
আমি শুধু দেখেছি আমার রুগ্ন নাড়িভুঁড়িকে,
যেন ফারাক্কার বাঁধে শুকিয়ে যাওয়া বহমান কোন নদী।
আমাকে হাত-পা বেঁধে ফেলা দেয়া হল বাথটাবে, কতক্ষণ ছিলাম জানিনা-
তারপর টেনে হিঁচড়ে বসানো হল একটি চেয়ারে, ইলেকট্রিক চেয়ার।
আমার শরীরের প্রতিটি অনু কণায় যন্ত্রণা দিতে চাইল উচ্চ বিদ্যুৎ প্রবাহ-
কিন্তু বিশ্বাস কর কোন যন্ত্রণ হয়নি আমার, হয়নি কোন কষ্টকর অনুভূতি।
আমার অপেক্ষা ছিল শুধুমাত্র মৃত্যুর, অনুভূতিহীন একটি মৃত্যুর।
আমি জানি ওরা সবাই খেলছে আমার সাথে;
আমার মৃত্যুর সাথে সাথেই শেষ হবে ওদের খেলা।
ওরা তাই খেলে চলল, একের পর এক খেলা-
আমার দেহটিকে নিয়ে, ঠিক মধ্যযুগীয় বর্বরতায়।
আমার জীর্ণ দেহে প্রাণশক্তিও অফুরন্ত-
চলুক খেলা।

আমি হাজার মাইল পথ হেঁটেছি- বিধাতার পথে- সরল পথ।
কত মানব-মহামানব রক্তাক্ত হয়েছে তবুও পিছপা হয়নি- সরল পথ।
আমার কিভাবে যন্ত্রণ হবে বল? কিভাবে আমাকে দিবে কষ্ট।
কিন্তু কেউ একজন যখন আমার সে সৃষ্টিকর্তাকে তুলে গালি দিল,
ঠিক তখনই মৃত্যু হল আমার।

২৩টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×