somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্ধ্যার পর ফার্মগেট ওভারব্রিজে দাড়িয়ে থাকা এক মেয়ের গল্প

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধ্যার পর ফার্মগেট ওভারব্রিজে দাড়িয়ে থাকা এক মেয়ের গল্প

অফিস থেকে আধ ঘন্টা আগে বের হয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছি ফার্মগেট ওভার ব্রিজের ওপর। মেয়েদের দাঁড়াবার জন্য জায়গাটাকে জায়গা না বলে অজায়গা বলা বেশি ভাল। তার ওপর সময়টা এখন সন্ধ্যা পেরিয়েছে।
যে মেয়েটির দিকে আমি এখন তাকিয়ে, সে দাঁড়িয়ে আছে আমার থেকে বড়জোর দেড় হাত দূরে। তিন বছর আগে হলে এখন এখানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেতাম মন দিয়ে। লেখালেখি শুরু করার পর থেকে জেনেছি, জানা অজানা সমস্ত মানুষ খেয়াল করে দেখতে হয়। না হলে লেখক হওয়া যায় না। মানুষ দেখার জন্য অবশ্য এখানে আমি নই আজ।
তিনটার দিকে কমল ফোন দিয়েছিল। ওর মেজো ভাবির সিজার করে বাচ্চা হবে স্কয়ারে। সময় দিয়েছে রাত আটটা। ভাবির রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। অন্তত দুজন ডোনার রেডি রাখতে বলেছে। দুজন ডোনারের একজন হয়ে আমি অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি কমলের। হাত ঘড়িতে ছ’টা এগারো। শীতের সময় বলেই এ সময়টাকেই রাত মনে হচ্ছে।
সরাসরি স্কয়ারেই যেতে চাইলাম আমি। কোমল বললো, ও ফার্মগেটেই আসছে একটা কাজে, তাই এখানে অপেক্ষা।
রোগা পাতলা সাস্থ্য মেয়েটির। পোশাক জোমিদার। গালে কড়া মেকাপ, নানান রকমের গয়না গায়ে। সামনে দিয়ে যাওয়া সকল তরুনের দিকে উশখুস করে তাকাচ্ছে। চোখের ভাষা ‘এই তো আমি!’ হাতে সস্তার মোবাইল। যতবার সেটা বেজে উঠছে ততবারই এক কথা বলছে অপেক্ষমানের উদ্দেশে – ‘তারাতারি আসুন না ভাই। বেশি রাত করলে আবার বাড়ি থেকে সন্দেহ করবে। আমি এখনো খুব বেশি অভ্যস্ত না বলে আবার একটু অসুস্থ্য হয়েও যেতে পরি। বাড়িতে টের পেলে আমাকে মেরেই ফেলবে’!
আমি একটু সরে দাঁড়ালাম মেয়েটার থেকে। বিরক্ত লাগছে কোমলের ওপর। মানুষের উপকার করতে যাওয়াই ভুল। কি সব মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে! ছিঃ! নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে বোঝাই যাচ্ছে। বাড়িতে না জানিয়ে নতুন এ পেশায়। কি অসভ্যের মত আবার বলছে, ‘আমি আবার অসুস্থ হয়ে যেতে পরি’। ছিঃ!
কোমল এগিয়ে আসছে। বাঁচলাম বাবা।
আমাকে হাই বলেই আমার হাত ধরে টান মেরে এগিয়ে গেলো ওই মেয়েটির দিকেই। এক মিনিট লাগলো ওর আমাদের দুজনের পরিচয় করিয়ে দিতে -“নীলু, ওর নাম পূজা ফেছবুক এ পরিচয়, আজই আমার সাথে প্রথম দেখা বুঝলি। ভাবির জন্য রক্ত চেয়ে স্টাটাস দিয়েছি দেখে নক করছে আমাকে। ওর যা সাস্থ্য, তাই বাড়ি থেকে রক্ত দেয়ার অনুমতি দেয় না। অথচ মেয়ে তিনমাস পরপর রক্ত দিয়ে বেড়ায়। আজ বাড়িতে বলেছে বান্ধবীর বিয়েতে এসেছে।”
আমি মেয়েটির দিক থেকে বারবার চোখ সরিয়ে নিচ্ছিলাম। মেয়েটি পূর্ণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বল্ল- ‘তবুও দেখবেন আমাকে দেখে মা ঠিক বুঝে ফেলবে রক্ত দিয়ে এসেছি। রাগ করবে খুব। মা মুখ দেখেই সব বুঝে ফেলে।’
একটু থেমে বললাম – ‘মা বুঝলেই চলবে। বাকিদের বোঝায় থুঃ মেরে এগিয়ে যেও।
কপি

আমাদের ধারনার বাইরে আমাদের নজরের বাইরে অনেক কিছুই ঘটে যা এই জামেলার শহরে বুঝা বড় দায়।
ভাল থাকুক সব ভালমানুষ। ভাল থাকুক সব ভালমানুষের সত্যিকারের ভালবাসা কেউ যেন তাদের ভালবাসাকে দূর্বলতা ভেবে অবহেলা না করে সেটাই কাম্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×