somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারায়নগঞ্জ ৭ খুন

১৮ ই মে, ২০১৫ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানবজমীন পত্রিকায় গত ১৫/৫/২০১৫ তারিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের অন্যতম আসামী মেজর আরিফের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর বিষয় নিয়ে। বিষয়টি আসলেই একটি আলোচিত এবং কলঙ্কময় অধ্যায় বাংলাদেশ তথা র্যাব এর জন্য এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। বিষয়টির একটি সুষ্ঠ ন্যায় বিচারও হওয়া দরকার। এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত থাকতে পারে বলেও মনে হয় না। কিন্তু এই সকল ঘটনাকে রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ অথবা অন্য কোন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা উচিত বলে মনে হয় না। তাহলে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থসহ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে হয়। সঠিক সত্যটি সকলের কাছে উন্মোচিত হলেই রাষ্ট্র তথা সকলের জন্য মঙ্গল।


মানবজমিনের সংবাদটি পড়লে কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রথমেই যে বিষয়ে সন্দেহ এবং একটি গুরুতর প্রশ্নের অবতারণা হয় সেটি হলো ১৬৪ ধারার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দলিল অথবা তথ্য কিভাবে একটি পত্রিকা তথা জনসম্মুখে প্রকাশিত হতে পারে? এটাতো বিচার প্রক্রিয়া তথা পুরো রাষ্ট্রের তথ্যেও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ। এই ১৬৪ শুধুতো বিচার প্রক্রিয়ার সাথে যে সকল সংস্থা তথা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ জড়িত তাদেরই জানার কথা, বাইরের কারো এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জানা উচিত নয়। তাহলে কি বলা যায় যে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল তাদের নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধির নিমিত্তে ব্যবহার করতে চাইছে এবং সর্বদা বিষয়টি ভিন্নখাতে ব্যবহার করার চেষ্টায় রত আছে। তা না হলে এরকম একটি গোপন বিষয় কিভাবে প্রকাশিত হতে পারে? এ প্রসঙ্গ যদি আমরা এড়িয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আরিফের ১৬৪ ধারার জবানবন্দীর দিকেও যায় সেক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের ব্যাপারে প্রশ্নের অবতারণা হয়।


কিছু কিছু মিডিয়া ও ব্যক্তিবর্গ ঘটনার শুরু থেকেই র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর এর কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সম্পৃক্ততার কথা বলে আসছেন এবং এটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক চেষ্টাও করেছেন কিন্তু চার্জশীট প্রদান করার মাধ্যমে প্রকৃত সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশবাসী জানতে পেরেছে যে, আসলে এই ঘটনার সাথে র্যাব সদর দপ্তরের কোন কর্মকর্তার নুন্যতমও কোন সম্পৃক্ততা নেই। ১৬৪ এর মেজর আরিফের জবানবন্দী থেকেও এই কথার প্রমান মেলে কারণ মেজর আরিফ স্বীকার করেছেন যে, ঘটনার সময় র্যাব সদর দপ্তরের কোন কর্মকর্তার এ বিষয়ে কোন কিছু জানা ছিলো না। কারন তাকে একবার এডিজি কর্ণেল জিয়াউল আহসান ফোন দিলেও তিনি এডিজির ফোন রিসিভ করে নাই শুধু সিওর সাথে কথা বলেছে। এডিজি তথা র্যাব এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি যেন জানতে না পারে সেই জন্য সে এডিজি কর্ণেল জিয়াউল আহসান এর ফোন রিসিভ করে নাই। তাছাড়া তার জবানবন্দী অনুসারে ঘটনার পরবর্তীতে যখন সে র্যাব সদর দপ্তরে আসে তখন এডিজি কর্ণেল জিয়াউল আহসান তার নিকট থেকে জানতে চায় নজরুল কোথায়? তখন সে কিন্তু এর উত্তর দেয় না যদিও ততক্ষন সে নজরুলসহ ৭ জনকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়টি কিন্তু সে সিও ব্যাতিত এডিজি তথা র্যাবের অন্য কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করে নাই। তাহলে এই ব্যাপারে র্যাব সদর দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়ানো নিতান্তই দূরভিসন্দিমূলক ব্যাপার বলে মনে হয়। হ্যা এখানে বলা যেতে পারে যে, পূর্ববর্তীতে র্যাব এর এডিজির নির্দেশ ছিল নজরুলকে গ্রেফতার করার। নজরুলকে গ্রেফতারের নির্দেশ থাকতেই পারে। হতে পারে সে কাউ›িসলর কিন্তু যদিও এখন সে মৃত তবুও একথা নারায়নগঞ্জবাসীসহ সারা বাংলাদেশের মানুষই বলবে যে নজরুল কোন টাইপের লোক ছিল। অপকর্মের জন্য তাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ তো একটি সাহসীকতা পূর্ণ নির্দেশ। গ্রেফতার করার নির্দেশ একটা আইনানুগ নির্দেশ এটা কখনও খারাপ হতে পারে না। এখানে উল্লেখ্য যে, রানা প্লাজার রানা কিন্তু সরকার দলীয় একজন প্রভাবশালী লোক ছিল এবং সে স্থানীয় এমপির অত্যন্ত আস্থাভাজন লোক ছিল। রানা প্লাজা ধ্বসের পর এই সরকারদলীয় রানাকে তো অন্য কেউ গ্রেফতার করতে সাহস করেনি, যে কাজটি করিয়ে দেখিয়েছিলেন র্যাব এর তৎকালীন ইন্টেলিজে›স উইং এর পরিচালক বর্তমান এডিজি কর্ণেল জিয়াউল আহসান। যা হোক অন্যদিকে দৃষ্টিপাত না করে মূল বিষয়ের দিকে আসলেই কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, র্যাব সদর দপ্তরের শুরু থেকেই ঘটনাটি অতি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এর সাথে সম্পৃক্ত সকলকেই আইনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা এবং সহযোগিতা করে আসছে। ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পরেই সিওসহ অভিযুক্ত মেজর আরিফ ও লেঃ কমান্ডার রানাকে র্যাব-১১ থেকে অপসারণ করে মাতৃবাহিনীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে র্যাব এর নিজস্ব যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয় সেই কমিটির রিপোর্টেও ৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাছাড়া কোন পত্রিকা তথা কেউই ঘটনার সাথে র্যাব সদর দপ্তরের কোন কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করেনি এমনকি নজরুল এর শ্বশুর শহীদুল হক কখনও বলেনি যে র্যাব এর এডিজি ঘটনার সাথে জড়িত। তিনি শুধু র্যাব-১১ এর কর্মকর্তাদেরই অভিযুক্ত করে আসছিলেন। আমরা নারায়নগঞ্জের এসপি ডাঃ মুহিতকে সৎ লোক হিসেবেই জানি এবং ঘটনার পরবর্তীতে যাতে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কার্যপরিচালিত হয় সেইজন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এসপি ডাঃ মুহিতকে নারায়নগঞ্জে বদলী করেন এবং তাকে চাপমুক্ত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি যথেষ্ট সুন্দরভাবে তদন্তকার্য সম্পন্ন করে আদালতে অতি অল্প সময়ে চার্জশীট প্রদান করেন। চার্জশীট প্রদান করার পর যদিও বাদীপক্ষ নারাজী দিয়েছেন কিন্তু বাদী পক্ষের নারাজীর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন মামলার ২নং আসামীকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বাদী পক্ষ কিন্তু একথা বলেনি যে, এডিজি তথা র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা চার্জশীট থেকে বাদ পড়েছেন বলে তারা নারাজী প্রদান করেছেন। সুতরাং তাদেরও র্যাব সদর দপ্তরের কোন কর্মকর্তার প্রতি কোন অভিযোগ নেই। এছাড়া মামলার আইও অর্থাৎ তদন্তকারী কর্মকর্তা অতি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, আমি সুষ্ঠুভাবে আমার তদন্ত কার্যসম্পন্ন করেছি যদি আপনাদের এটা পছন্দ না হয় তাহলে অন্য কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করান। আইও এর তদন্তের দৃঢ়তাই তার কথার দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং সত্য যেহেতু সকলের কাছে প্রকাশিতই হয়ে গেছে সুতরাং বিষয়টি নিয়ে মনে হয় না আর কোন স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত। রাষ্ট্র তথা জনগনের স্বার্থে আমাদের সকলেরই উচিত হবে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং যারা নির্দোষ তাদের চরিত্রে কলঙ্গ লেপন না করা। তাহলেই রাষ্ট্রের অর্গানগুলো সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পন্ন করে দেশের মঙ্গল সাধন করতে পারবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×