বহু যুগ ধরেই আমেরিকা ও ইউরোপকে পৃথিবীর বিজ্ঞান ও সভ্যতার (সভ্যতা বলতে কিছু ভালো পোষাক পরিধান, আসবাব ব্যবহার এবং দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ উন্নত ইউটিলিটি সার্ভিস ও পরিচ্ছন্ন থাকা; এটুকুই। এছাড়া মূলতঃ ওদের বেশীরভাগ অনেকটা আদিম ভাবেই চলফেরা/বসবাস করে) উপরে স্থান দেয়া হয়। এক্ষেত্রে জ্ঞান নিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব শুধু আমেরিকা ও ইউরোপকে দেয়া হবে চরম স্বার্থপরতা। কারন পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের মেধার সহযোগীতা না পেলে ওরা জ্ঞান এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এত উন্নত হতে পারতো না। এটা বাস্তবতা; ওরা এগুলো অর্জন করেছে, তবে একা নয়। আর ওদের এ অর্জনের পিছনে লুকায়িত যে নিষ্ঠুর পলিসি; তার নির্মমতা, অমানবিকতা ও চরম স্বার্থপরতার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে বহু পূর্বেই প্রকাশ পেয়ে গিয়েছে।
এক সময় শুনেছি; আমেরিকা-ইউরোপের নাগরিকেরা- তারা নিজেরা যতই খারাপ হোক; নেতা নির্বাচনে ওরা ওদের সবচেয়ে ভালো নাগরিককেই বেছে নেয় !! এ শুনাটা সম্পূর্ণই ভুল ছিলো। কারন ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়; স্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে দৌরাত্ব ও পাশবিক শক্তি দিয়ে পৃথিবীর অনেক শান্তিপ্রিয় ও সমৃদ্ধ রাস্ট্রের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে- লক্ষ লক্ষ নিরীহ নাগরিকদের হত্যা, তাদের সভ্যতা ধ্বংসে আমেরিকার কোনও প্রেসিডেন্ট এর ভুমিকা-ই কম ছিলো না !! আসলে খুনীরা খুনীদেরকেই পছন্দ/নির্বাচন করবে; এটা জেনেটিক্যালি (বংশগতিমূলকভাবে) সত্য। ১৪৯২ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত বৃটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইউরোপের আরও কিছু রাস্ট্র মিলে এ আমেরিকাতেই বসবাসরত প্রায় ৪ লক্ষ ন্যাটিভ আমেরিকানদের হত্যার ফলশ্রুতিতেই আজকের আমেরিকা !! খুনীদের এলায়েন্সের ইতিহাস বহু বহু পুরোনো। বে-আইনী দখল, হত্যা, সম্পদ লুন্ঠন; এসবই বৃটেন-আমেরিকা-ফ্রান্স তথা ইউরোপের প্রকৃত ইতিহাস !!
কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট; উপকারী শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবতা; এ তিনটি বিষয়ে উন্নত সভ্যতার ধ্বজাধারী আমেরিকা-ইউরোপ কি বিশ্বব্যাপি প্রকৃতই আদর্শ মান অর্জন করতে পেরেছে ??!! বিজ্ঞানের সাথে শিক্ষার সুগভীর সম্পর্ক থাকলেও সত্য এটাই- যান্ত্রিক ও কারিগরী শিক্ষার ঘেরাটোপেই কেবল ওই সব রাস্ট্রগুলো এবং তাদের জনগন ঘুরপাক খেয়েছে। মানুষের জন্য উপকারী শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতাকে ওরা জানতে চায়নি বা চিনতে পারেনি কিংবা ওদের শিক্ষা ওদের মনকে পাশবিকতা থেকে মুক্ত করতে পারেনি বলেই ওরা আজও হিংসা, অনৈতিকা ও ধর্মান্ধতার গো্ড়ামী থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি !! হয়ে গেছে ব্লক হেডেড !! এ বাস্তবতা বোঝার জন্য বিশাল কোনও গবেষনাগার খোলার প্রয়োজন নেই।
ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, আফ্রিকা, প্যালেস্টাইন। আমেরিকার হিংস্র থাবায় জর্জরিত ও নিঃশেষ প্রায়। আমরিকা নিজের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরন হিসেবে এসব দেশ থেকে এখন বিনা পয়সায় তেল লুন্ঠন করছে !! এ আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষতঃ প্যালেস্টাইনের বিরুদ্ধে খুনী রাস্ট্র ইসরাইলকে নিয়ে আর অন্যত্র বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানীকে নিয়ে (সবগুলোই মুসলমানদের দেশ) খুনী, রক্তপিপাসুর মতো ঝাপিয়ে পরেছে !!! হাজার হাজার অসহায় শিশু ও নারী সহ লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ-নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, যাদের বেশীর ভাগই মুসলমান !! দূঃখজনক নয়; ঘৃণা ও ধিক্কারের বিষয়- মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার পা চাটা গোলাম রাজাগুলো মানবতাকে সহায়তার পরিবর্তে ভেট দিয়ে খুনীদের জায়গা দিচ্ছে।
বর্তমানে সর্বশেষ ইরানের উপর হামলে পরেছে আমেরিকা ও এর পোষ্যপুত্র ইসরায়েল। বর যুদ্ধে কি হবে তা বলা দুস্কর। তবে এ যাবৎ তথ্য বিশ্লেষনে যা বোঝা যায়;
-যুদ্ধের ব্যাপ্তি আরও বাড়বে। বিশ্ব বেধে যাওয়া সম্ভব।
-ইরান ধ্বস হয়ে হয়ে গেলেও আমেরিকার একছত্র আধিপত্যকে বিশ্বে চূর্ণবিচূর্ণ করে আমেরিকার পতনের দ্বার উন্মোচন করে দিবে।
-মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার পা চাটা গোলাম রাজাগুলো অপমানিত, ঘৃণিত ও উচ্ছেদ হবে।
-ইরানের পক্ষে নতুন এক জাগরন তৈরী হয়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির/নেতৃত্বের উদ্ধব ঘটবে।
-পৃথিবী জুড়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, খাদ্যাভাব দেখা দিবে।
কে বলে, সভ্যতার কোন্ মাপকাঠিতে বলে; বৃটেন-আমেরিকা-ফ্রান্স তথা ইউরোপ রাস্ট্রের নেতা-জনগন শিক্ষিত !! এরা ভোট দিয়ে খুনীকে নেতা বানায় !! সেসব খুনীরা মিথ্যা কথা বলে, বিভিন্ন অমানবিক, অন্যায় কাজে অন্য খুনীদের সহায়তা করে, মানুষ হত্যা করে, বিশ্ব লুন্ঠন করে সম্পদ এনে তাদের নাগরিকদের খাওয়ায়, আরাম যোগায় !! পৃথিবীর সেরা সেরা বিদ্যাপীঠ নাকি এসব দেশেই !!! হায়াহীন-মায়াহীন-মানবতাহীন সভ্যতা তৈরীর কত কত শিক্ষালয় !!
হোয়াইট হাউজ-কে কি -ডেথ বা ডেভিলস হাউজ- বলা যায়; কিংবা ১০ নং ডাউনিং স্ট্রীট- বা হোটেল ম্যাটিংনন-কে !!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



