পতাকা কিনছিলাম। হঠাৎ
একটি বাচ্চা ছেলে এসে হাজির। ঘাড়ে বস্তা, সম্ভবত
এটা ওটা টোকানো তার পেশা।
দাঁড়িয়ে আছে তো দাঁড়িয়েই আছে...
আমি প্রশ্ন করলাম-
‘ভাত খাবা?’
ছেলে না সূচক মাথা নাড়ে।
‘শীত লাগে? পুরান কাপড় আছে, নিবা?’
... এইবারেও ঘাড় নাড়ে। কিন্তু যায় না,
দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ।
একসময় অনেক কষ্টে বুঝি দ্বিধাদ্বন্ধ কাটিয়ে বলে-
‘একডা ফতাকা কিইন্যা দেন ’
ফতাকা মানে হলো পতাকা।
দিলাম কিনে। পতাকা হাতে পেয়ে বালকের
সেকি লাফালাফি। একটা করে লাফ দেয়, আর বলে যুদ্ধ
করুম! যুদ্ধ করুম! মনে হলো জিনিসটা পতাকা নয়,
অস্ত্র কোনো। আমি হাসতেই হাসতেই ঠাট্টা করলাম-
‘কার সাথে যুদ্ধ করবা?’
কিন্তু বালক যে জবাব দিলো, আমি তাতে নাস্তানাবুদ।
বালক হড়বড় করে যা জবাব দিলো,
সেগুলো অনেকটা এইরকম-
‘রাজাকারের সাথে করমু। রাজাকার মারমু। দাদায়
কইছে, রাজাকার কারোর ভালো চায় না, ওগো দ্যাশ
থেইকা বাইর করতে অইবো। রাজাকারেরা দ্যাশের
শত্তরু...’
বালক লাফাতে লাফাতে চলে চায়,আমি শ্রদ্ধাবনত
মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকি। ভাবি সেই দাদাজানের
কথা যিনি হয়তো তাঁর নাতিকে এই
জীবনে দামী পোশাক,
দামী খেলনা দিতে পারেননি কোনো দিন।
এমনকি হয়তো দুবেলা দুমুঠো ভাতের
নিশ্চয়তা দিতে পারেননি,
করতে পারেননি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা।
কিন্তু সেই দরিদ্র দাদা তাঁর উত্তরসূরীকে দিয়েছেন
মানুষ জীবনের জন্যে অমূল্য সেই জিনিস,যা আজকাল
বহু মানুষের মাঝেই নেই। আর সেটা হলো- নিজের
পতাকার প্রতি, নিজের জাতিস্বত্তার প্রতি প্রেম।
নিজের মাতৃভূমির প্রতি, এই বাংলাদেশের
প্রতি ভালোবাসা। এই বালকটি বড়
হয়ে কি হবে আমি জানি না। কিন্তু এটা জানি যে-
ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হতে পারুক, এই
শিশুটি কখনও অকৃতজ্ঞ
দেশদ্রোহী হয়ে বেড়ে উঠবে না। এই শিশুটি এই দেশের
বহু শিক্ষিত (!) তরুন প্রজন্মের মতন চিৎকার
করে বলবে না যে পাকিস্তান জিন্দাবাদ...
এটা আমি নিশ্চিত জানি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






