মেয়েটা সুন্দর । সত্য কথা বলতে কি এতটাই সুন্দর যে একবার তাকাবে সে দ্বিতীয়বার তাকাতে বাধ্য ।
.
ঘটনাটি কোর্ট বিল্ডিংএর একটি কোর্টের এজলাসের । খেয়াল করলাম মেয়েটাকে কেবল আমি নয় এই এজলাসের প্রতিটা মানুষ দু তিনবার করে দেখছে । পেশকার থেকে শুরু করে জাজ পযর্ন্ত অন্তত দুবার তাকাতে বাধ্য হয়েছেন । আমার মত সদ্য যৌবন প্রাপ্তদের কথা না হয় বাদ দিলাম এটা বয়সের দোষ । এই রুক্ষ মরুভূমিতে ফুল মাত্রই চিত্তাকর্ষক । তবে আমার কাছে ফুলটি এই এজলাসে বড়ই বেমানান লাগছে । গেটাপটা এমন যে , যেন শপিং এ এসেছে । মুখে কনফিডেন্সের তীক্ষতার ছটা , সাথে একটি ভুবন ভুলানো হাসি । ব্যাপারটা মেয়েটা ভালোভাবেই জানে এবং বুঝে যে অনেকগুলো চোখ তাকে দেখছে আর সে সেটা উপভোগও করছে ।
.
একটু ঝামেলায় পড়লাম । মেয়েটার চরিত্র আমি বুঝে উঠতে পারছি না । সাক্ষী দিতে এলে যে মেয়ে জীবনে কখনো মাথায় কাপড় দেয় না সেও এখানে হিজাব পরে আসে । এই মেয়েটা কিজন্য এসেছে আর কোর্ট বিল্ডিং এমন জায়গা যে কেউ সচরাচর টাইম পাসের জন্য এখানে আসে না । আর মেয়েরা তো দুরের কথা ।
.
এক উপস্থিত এডভোকেট কাম ক্যাম্পাসের বড়ভাইকে গুতালাম । ভাই আপনি তো বিয়ের জন্য বউ খুঁজচ্ছেন এই মেয়েটাকে দেখেন । আপনার সাথে মানাবে । ভাইজান একবার তাকিয়ে বলল
.
- নাউজুবিল্লাহ । জানিস সে কে ?
-কে ?
-আরে বেটা মেয়েটার পেশাই হল মামলা করা
.
এত সুন্দর কোমল একটা মেয়ের উপর এতবড় অপবাদ ! ডিটেইলস দাবী করলাম ।
.
- মেয়েটার কাজ হল মোবাইলে মোবাইলে প্রেম করবে তারপর পালিয়ে বিয়ে করবে তারপর বিয়ের কয়েকদিন পর বেটার নামের নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে বেটাতে নাস্তানাবুদ করে টাকা পয়সা যা আছে সব হাতিয়ে নিবে
.
নারী নির্যাতন মামলাগুলো বেশিভাগ ক্ষেত্রেই যে ফেইক । সেটা আরেকবার উপলদ্ধি করলাম । বেজার মুখে বললাম । "তুমি কেমনে জানো ?" ভাইয়া নীরস মুখে উত্তর দিলেন "আমি সেই হতভাগ্য ছেলেটার পক্ষেই লড়তে এসেছি"
.
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটার দিকে তাকালাম । ফুলটির চোখে মুখে ওভার কনফিডেন্স আর ঠোঁটে ভুবন ভুলানো সেই হাসি ।
.
সেই কথাটা ভুলেই গিয়েছিলাম আজ আবারো মনে পড়লো
-"ফুলেও কাঁটা থাকে"
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





