somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা "র" এর জন্ম ও বাংলাদেশ অপারেশন

১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৪৭ এ স্বাধীনতা পাওয়ার সাথে সাথে "র" এর জন্ম হয়নি । স্বাধীনতার আগে আগে যখন স্বাধীনতা ঘোষণা কেবল সময়ের ব্যাপার তখন ব্রিটিশ সরকারের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী সিমলা রাজনৈতিক বিভাগ ও অধিদপ্তরের অফিসে আগুন জ্বলছে । ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI6 বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা গোপন নথিপত্র ধ্বংস করে চলেছে । যেখান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গোপনে ব্রিটিশদের পক্ষ অবলম্বনকারীদের নাম রয়েছে । রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও মহারাজাদের গোপন কাগজপত্র । যা দিয়ে ব্রিটিশরা তাদের ব্ল্যাকমেইল করে নিজেদের কার্যসিদ্ধ করেছে । বাদবাকি বেঁচে যাওয়া কাগজ পত্রের উপর বেইস করে গড়ে উঠেছে ভারতের প্রথম গোয়েন্দা সংস্থা IB (Intelligence bureau)
.
স্বাধীনতা পাওয়া পর গোয়েন্দা সংস্থা চালানো জন্য পুরো ভারতবর্ষে কেউ দুজন যোগ্যতাবান ছিলেন । গোলাম মোহাম্মদ ও সঞ্জীব পিল্লাই । গোলাম মোহাম্মদ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব নিলেন ও সঞ্জীব পিল্লাই ভারতের গোয়েন্দা দায়িত্ব নিলেন । পরবর্তীতে ১৯৫০ এ স্বরাষ্ট্র সচিব ব্যানার্জির সাথে দ্বন্দ্বের কারণে সঞ্জীব পিল্লাইকে বিদায় নিতে হয় । তার জায়গায় আসেন পুলিশ বিভাগের বযোজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি বি এন মালিক । উনি এসেই পিল্লাই এর নিয়োজিত সব এজেন্টদের রদবদল করেন । যে নিয়মটি নতুন কেউ আসলে এখনো চলছে । ভারত পাকিস্তান আর চীনের সাথে যুদ্ধে ফলে উপলদ্ধি করতে পারে তাদের একটি আলাদা বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা দরকার । অবশেষে ইন্দিরা গান্ধীর যুগে এসে ১৯৬৮ সালে বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা গঠিত হয় । যার নামকরণ করা হয় রির্সাচ এন্ড অ্যানালিসিস উইং বা R&AW যা সংবাদপত্রের কারণে RAW বা "র"তে পরিণত হয় ।
.
শুরুতে "র" তে কেবল ২৫০ লোকবল ছিল , যা পরের বছরেই ৭০০০ এ উপনীত হয়েছিল । র এর ট্রানিং সেন্টার স্থাপিত হয় ।
.
.
অপারেশন বাংলাদেশ -
.
র তখনো ভালোভাবে দাড়াইনি । তারা কাজ করেছে অন্যভাবে । তথ্য সংগ্রহ , তথ্য প্রদান ও আশ্রয় দিয়ে । পাকিস্তানীদের গতিবিধি তাদের নজরে ছিল । ক্রমগত অস্ত্র ও সৈন্য আসছে দেখে "আসন্ন প্রলয়" উপলদ্ধির সদর দপ্তরের অতিজরুরী বার্তায় নিদের্শ দেওয়া হয় -"মেননকে উপদেশ দাও ...... আমাদের বন্ধুদের নিয়ে আসতে" মেনন হল শেখ মুজিব ও ভারতের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী এজেন্ট ।তারা দীর্ঘ ১২টা ঘন্টা ধরে ২৫ মার্চে শেখ মুজিবকে ঢাকা ত্যাগের জন্য অনুরোধ করতে থাকে । শেখ মুজিব জেদ ধরে বসে রইলেন । পরিশেষ বিপর্যয় শুরু হবার মাত্র কয়েক ঘন্টা পূর্বে শেখ মুজিব তাঁর কয়েজন সঙ্গীকে ভারত যাত্রার অনুমতি দেন । শেখ মুজিবকে পাকিস্তানীর ধরে নিয়ে গেলেন । দিল্লিতে ম্যাসেজ পৌচ্ছলো । "পাখিকে খাঁচাবন্দী করা হয়েছে"
.
পরবর্তীতে র সীমান্তব্যাপী বিভিন্ন গোপনীয় আশ্রয়স্থান তৈরী করে দেয় ও হিট এন্ড রান (গেরিলা) ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে দেয় । ডিসেম্বরের আগ পযর্ন্ত ১ লক্ষ জনকে ট্রেনিং করা করা হয় । র এর পর্যবেক্ষকদের মতে মুক্তিবাহিনী নিজেরাই পাকিস্তানী সৈন্যদের বাংলাদেশ হতে বিতাড়িত করতে সক্ষম । কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘাযিত ও প্রচুর রক্তপাত হবে ।
.
৩ ডিসেম্বর বিকাল ৫-৩০ মিনিটে ইয়াহিয়া খান যুদ্ধ ঘোষণা করাতে র চমকে যায় । দিল্লীর এর মতে পাকিস্তানের এত শ্রীঘ্রই যুদ্ধঘোষণা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত , কারণ তা তাদের হিসেব করা সময়ে আগে হয়ে গেছে । কিছুক্ষণে মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন । বলেন "বাংলাদেশের যুদ্ধ আজ ভারতের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে"
.
.
.
.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল তাতে র ভীতির মধ্য ছিল । র এর এজেন্টরা জিয়াউর রহমানের বাসায় মেজর ফারুক , মেজর রশিদ ও লে.কর্ণেল ওসমানী একটা গোপন সভার তথ্য লাভে সমর্থ হয় । ৩ ঘন্টার এই আলোচনায় এক অংশগ্রহণকারী উদ্দেশহীনভাবে কাগজে কিছু লিখে ফেলেন ও পরে অমনোযোগবশত ওয়েষ্ট ব্যাস্কেটে ছুঁড়ে ফেলে দেন । সেই কাগজটি পরে র এর এজেন্ট সংগ্রহ করে দিল্লীর র এর দপ্তরে পাঠিয়ে দেয় । অভ্যুথান হবে বুঝবে পেরে র প্রধান কাও ছন্মবরণে ঢাকা এসে পৌছেন । উনি শেখ মুজিবকে তার তথ্য বিশ্বাস করাতে না পেরে ফিরে যান । শেখ মুজিব জড়িতদের নাম শুনে বলেন -"এরা আমারই সন্তান এবং এরা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারে না"
.
জিয়াউর রহমানে ক্ষমতাগ্রহণ ও ইন্দিয়া গান্ধীর সাথে যোগাযোগ পযর্ন্ত ছিল ভারতের বাংলাদেশ অপারেশনের ১ম পর্ব । এরপর শুরু হয় সিকিম অপারেশন ।
.
আপতত "র" ও বাংলাদেশ সম্পর্কে এতটুকু । পরবর্তীতে "র" এর সিকিম অপারেশন লিখবো ।
.
তথ্যসুত্র - ইনসাইড "র"
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ৮:১১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×